প্রকাশিত: ০৩/০৬/২০২১ ১০:১৩ এএম

রাসেল চৌধুরী, কক্সবাজার ::

কক্সবাজার শহরে রাস্তা আছে কিন্তু চলাচল করা যায় না। প্রধানসড়ক ও উপসড়ক গুলোর অবস্থা একেবারে নাজুক। শহরের অধিকাংশ অলিগলি খানাখন্দ ও মিনি পুকুরে পরিণত হয়েছে। যান ও জন চলাচল দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। মানুষের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। ভঙ্গুর ও বিধ্বস্ত রাস্তাঘাটের কারণে ভীষন কষ্ট পাচ্ছে এই শহরের মানুষ।

এ অবস্থা চলছে দীর্ঘ বছর তিনেক ধরে। কিন্তু সবাই নির্বিকার। জেলা শহরে ডজন ডজন নেতা রয়েছে। নেতার কোন অভাব না থাকলেও যোগ্য নেতৃত্বের অভাব রয়েছে বলে দাবী করছেন ভূক্তভোগী মানুষ।

শহরে বসবাস কারী বিশিষ্ট নাগরিকদের দাবী, কক্সবাজার শহরকে পৌরসভায় উন্নীত করা হয়েছে। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও গঠিত হয়েছে। কিন্তু মানুষের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হচ্ছে না। বরং কক্সবাজার পৌরসভা এবং কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠিত হওয়ার পর থেকে মানুষের দুর্ভোগ বহুগুণ বেড়ে গেছে।

জাঁদরেল নেতারা পৌরসভা ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তারপরও শহরের মানুষ ভাল নেই। পৌরসভা ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের রশি টানাটানির যাঁতাকলে পৃষ্ট হচ্ছে পৌরসভায় বসবাসকারী কয়েক লক্ষ মানুষ। সবখানে চলছে চরম অব্যবস্থাপনা, বিশৃঙ্খলা ও সমন্বয়হীনতা। বর্তমানে পর্যটন শহর কক্সবাজার এক অচেনা শহরে রুপ নিয়েছে।

পৌরসভার অভ্যন্তরে এমন কোন সড়ক নেই যে সড়ক দিয়ে বিপদমুক্ত যান ও জন চলাচল করা যায়। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোটবড় অসংখ্য দুর্ঘটনা। এর উপর প্রধান সড়ক সংস্কার কাজ চলছে। এটি যেন মরার উপর খড়ার ঘা। দীর্ঘদিন প্রধান সড়কের বিভিন্ন স্থানে খুঁড়ে রাখায় এটিও কার্যত যান ও জন চলাচল অনুপযোগী হয়ে রয়েছে। কাজও এগুচ্ছে না। হেটে হেটে মানুষকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে । উপসড়ক গুলোর চিত্রও একই। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে বর্ষা। সামান্য বৃষ্টিপাতে বন্যার আলামত দেখেছে শহরবাসী। সামনে কি যে অবস্থা হবে তা নিয়ে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে ভূক্তভোগী লোকজন।

কক্সবাজারের প্রতিবাদী মুখ হিসেবে পরিচিত, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা রাসেদুল ইসলাম জানান, শহরবাসীর দুর্ভোগ দেখার সময় নেই নেতাদের। সবাই নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত, আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা ব্যস্ত লুটপাটে। প্রধানমন্ত্রী জনগণের জন্য হাজার কোটি টাকা দিলেও দুর্নীতিবাজ নেতাদের কারণে এর সুফল পাচ্ছে না জনগণ। তারমতে, অদুরদর্শী ও অযোগ্য নেতৃত্বের কারণে কষ্ট পাচ্ছে শহরবাসী।

তবে বরাবরই আশার বানী শোনাচ্ছেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে:কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমেদ ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান।

কক্সবাজার প্রধান সড়কের নির্মাণকাজ আগামী দেড়বছরের মধ্যে শেষ করার জোর প্রচেষ্টার কথা জানিয়েছেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমেদ।

তিনি জানান, শহরের হলিডে মোড় থেকে হাশেমিয়া মাদ্রাসা পর্যন্ত সড়কের অংশটি আগামী জুনের মধ্যে শেষ হবে। আইবিপি রোডের মাথা থেকে হাশেমিয়া মাদ্রাসা পর্যন্ত সড়ক অংশটিতে নির্মাণকাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে একটি পর্যায়ে নিয়ে আসা হবে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সড়কটি পুরোপুরি চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে।

কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেন, কক্সবাজারকে একটি আধুনিক ও আদর্শ পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলার জন্য কাজ করছেন তিনি।

ইতিমধ্যে রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, ড্রেন, স্যানিটেশন, সড়কবাতিসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে এই নেতা বলেন, চলমান কাজ শেষ হলে পৌরসভার চেহারা পাল্টে যাবে। দুই নেতার মতে, কাজ শুরু হয়েছে। শেষ হলে সুফল পাবে জনগণ।

পাঠকের মতামত

টেকনাফে জনতার বিক্ষোভের মুখে গণশুনানি পন্ড; কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতা অবরুদ্ধ!

“ইউনিয়ন বিভক্তি হলে আমরণ অনশন করবো” “বর্গকিলোমিটারের অজুহাতে ইউনিয়ন বিভক্তি চাই না” “ইউনিয়ন বিভক্তি হলে ...

কক্সবাজারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জীবন দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা গাইডলাইন অনুমোদন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জীবন দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা (এলএসবিই) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গাইডলাইন উপস্থাপন ও অনুমোদনবিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত ...

ইয়াবা কারবার, অপহরণ ও আধিপত্য বিস্তারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আতঙ্কে উখিয়া-টেকনাফ

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সংঘবদ্ধ অপরাধ, সশস্ত্র তৎপরতা ও অপহরণ বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের ...

টেকনাফের ‘জাফর চেয়ারম্যান’ দুনীর্তির দায়ে ৭ বছরের সাজা নিয়ে কারাগারে

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদকে সম্পদের তথ্য গোপন এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ ...

অপহরণ-সন্ত্রাসে জনশূন্য জুম্মাপাড়া, আতঙ্কে ঘরছাড়া ২০০ পরিবার

রহমত উল্লাহ • কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের জুম্মাপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে অপহরণ আতঙ্ক বিরাজ ...
Single Page Footer