ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ০১/০৮/২০২৪ ৯:০৩ পিএম

কক্সবাজারে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর ও ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। ২৪ জুলাই (বুধবার) সন্ধ্যায় কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রাজীবুল ইসলাম মোস্তাক বাদী হয়ে ১০৩ জনের নাম উল্লেখ করে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় করা মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহার বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিএনপি-জামায়াত ও শিবির নেতাকর্মীদের সঙ্গে আসামি করা হয়েছে আওয়ামী লীগ পরিবারের অনেককে। মামলার ১৭নং আসামি করা হয়েছে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও জেলা হোটেল শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক এনামুল কবিরকে।

এ ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই এতে চাপা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। নাশকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কীভাবে শ্রমিক লীগ নেতা এনামুল কবির উল্টো নাশকতা মামলার আসামি হলেন? এ নিয়ে জ্যেষ্ঠ নেতারাও রয়েছেন ধোঁয়াশায়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৬ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা বিকেল ৪টায় মিছিল সহকারে কক্সবাজার শহরের লালদীঘি পাড়ে আসে। সেখানে অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগ, জাসদ ও জাতীয় পার্টির কার্যালয় ভাঙচুর করে। এ সময় আওয়ামী লীগের কার্যলয়ে থাকা কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রাজীবুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টা করেন আন্দোলনকারীরা। পরে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জেলা হোটেল শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এনামুল কবির বলেন, কী আর করব? এ ঘটনায় আমার কী বলার আছে। আসামি হিসেবে আমার নাম দেখে বিস্মিত হয়েছি। মূলত ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে আমাকে আসামি করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দলের দুঃসময়ে পাশে ছিলাম আমি। যেটি জেলা আওয়ামী লীগ অবগত। দুঃসময়ের কর্মী হয়ে আজ নিজ দলের কর্মীর করা মামলায় আমি ঘর ছাড়া।

ক্ষোভ জানিয়ে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও নাশকতা প্রতিরোধ কমিটির সদস্য শহিদুল হক সোহেল বলেন, এনামুল কবির ছাত্রলীগের দুঃসময়ের কর্মী। সে আমার সাথে রাজনীতি করে এবং সে আমার নিকটতম আত্মীয়। কেউ শত্রুতা করে এজাহারে নাম দিয়েছে। এটি নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানে মাননীয় হুইপ এমপি কমল ভাই ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়ার কথা জানান।

জেলা হোটেল শ্রমিক লীগের সভাপতি রুহুল কাদের মানিক বলেন, শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক এনামকে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা থেকে নিষ্কৃতি দানের আহ্বান জানাচ্ছি। যেদিন এই ঘটনা হয় আন্দোকারীদের প্রতিরোধ করতে জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার ৩ আসনের সাংসদ ও মাননীয় হুইপসহ আমি ও এনাম উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু দুই দিন পর জানতে পারলাম এনাম মামলার আসামি।

এই বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান বলেন, সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাঠকের মতামত

ভোটার হচ্ছেন রোহিঙ্গারা

মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরানোর চেষ্টার মধ্যে তাদেরকে লাখ ...

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প পরিদর্শনে গেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ...

লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই চলছে কক্সবাজারের অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতাল

কক্সবাজারে লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই চলছে অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। জেলার তালিকাভুক্ত ১৮০টি ...

টেকনাফেে একরামুল হত্যা,হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি ২৭ সেপ্টেম্বর

২০১৮ সালে কক্সবাজারের টেকনাফে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজিয়ে বহুল আলোচিত কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় ...