প্রকাশিত: ০২/০৩/২০২১ ৭:০২ এএম

ডেস্ক রিপোর্ট::

কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন এলাকায় চলছে রমরমা সুদের ব্যবসা। সুদ ব্যবসায়ির খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছেন অনেকেই। অভাব অনটনে পড়ে নানা পেশার মানুষ সুদি ব্যবসায়ির কাছ থেকে সুদে টাকা নিলেও প্রতি সপ্তাহে ও প্রতিমাসে সুদ পরিশোধ করতে করতে আসলের ২/৩ গুন পরিশোধ করা হলেও সুদির মূল টাকা কখনো পরিশোধ হচ্ছেনা। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে মাস শেষে সুদ পরিশোধ করতে ব্যার্থ হলে সুদির টাকা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ বৃদ্ধি পায়।

একপর্যায়ে কয়েক মাস সুদ দিতে ব্যার্থ হলে সুদ ও মূলটাকা এমন একটি পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়ায় তা কারো পক্ষে পরিশোধের সামর্থ থাকেনা। ফলে সুদির অত্যাচারে বেঁচে নিতে হয় আত্মহত্যা, আত্মপোগন বা দেশ ত্যাগ। আবার অনেকেই সুদের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে বাড়ী-ঘর, গাড়ি, ব্যবহারের আসবাবপত্র ও সন্তানদের জমানো অর্থসহ শখের জিনিসপত্র বিক্রি করে সুদের টাকা পরিশোধ করতে নিঃস্ব হচ্ছেন বলেও অভিযোগ ওঠেছে। বিশেষ করে অভিজাত্য পরিবারের সন্তান নামধারি এই সুদ ব্যবসায় কোমর বেঁধে নেমেছে। আবার অনেকেই কর্ম ছাড়া ভবঘুরে জীবন যাপনের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা পরিচয়ে সুদি ব্যবসাকে কর্ম হিসেবে বেঁচে নিয়েছে। এরকম শহরের টেকপাড়ার ভবঘুরে ডালিম নামের এক সুদি ব্যবসায়ির অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে পালাতক রয়েছে অহরহ ব্যবসায়ি ও অসহায় লোকজন। রীতিমত এই সুদি ডালিমের অত্যাচারে শহরের বড় বাজার এলাকার অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ি প্রতিষ্ঠান ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। পাশাপাশি অনেকই সুদের বুঝা টানতে গিয়ে সর্বস্ব হারিয়েছে।

শহরের বদরমোকাম এলাকার হাজী আবুল কাশেম জানান, সুদ ব্যবসায়ীদের হাত থেকে শহরের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নানা পেশার মানুষদের রক্ষা করা জরুরি হয়ে পড়েছে। যদি কেউ বিপদে পড়ে এক লাখ টাকা সুদে নেয়, তাহলে এক বছরে এক লাখ বিশ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও সুদ ব্যবসায়ীদের আসল টাকা পরিশোধ হয় না। কারন যে কোন কারনে মাসে মাসে এক লাখে ১০ হাজার করে সুদ দিতে না পারলে তা চক্রবৃদ্ধিহারে বেড়ে পরিশোধের আয়ত্ত্বে থাকেনা। তাছাড়া সুদে টাকা দেয়ার সময় সুদ ব্যবসায়িরা যেভাবে খালি স্ট্যাম্প ও খালি চেক নেয় তাতে মনে হয় আত্মাটা রেখে জানটা সুদির কাছে চলে যায়।

জৈনক কামাল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি জানান, এক বছর পূর্বে শহরের মোজাহেরপাড়ার এক নাম করা সুদ ব্যাবসায়ি থেকে কয়েক দফায় ৩০ লাখ টাকা নিয়ে ছিলাম। বিনিময়ে কয়েক বছরে ২ কোটি টাকা সুদ দিয়েছি। কিন্তু বর্তমান সময়ে আমি(কামাল) আর্থিক সমস্যায় পড়ায় ওই সুদ ব্যবসায়ির জন্য বাড়ীতে থাকতে পারছিনা। প্রতিনিয় তার কাছে থাকা আমার রক্ষিত আমানত খালি চেক ও স্ট্যাম্পের হুমকি দিচ্ছেন।
একইভাবে শহরের বাজার ঘাটা এলাকার মোস্তাফিজ নামের এক ব্যবসায়ি জানান, দুই বছর পূর্বে শহরের টেকপাড়ার রাজনৈতিক সংগঠনের যুবনেতা নামধারি ডালিম থেকে আড়াই লাখ টাকা নিয়েছিলাম। ওই টাকায় প্রতিমাসে সুদ দিতে হচ্ছে ২০ হাজার টাকা। ৩০ মাসে সুদ দিয়েছি ৬ লাখ টাকা। এখনো আসল আড়াই লাখ টাকা সে পাওনা রয়েছে। ফলে তার আত্যাচারে দোকানে বসতে পারছিনা।

সূত্রমতে, বর্তমানে শহরের কয়েকটি এলাকার বিত্তবান ও সম্ভ্র্যান্ত পরিবারের লোকজন এবং এলাকার কিছু ভবঘুরে রমরমা সুদ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বাহুবল ও আত্যাচারের ভয়ে এলাকার কোন লোকজন প্রতিবাদ করার সাহস করেনা।

সূত্রটি আরো জানায়, শহরে সুদি ব্যবসায়ির খপ্পরে পড়ে বর্তমানে উচ্চবিত্ত থেকে শুরু করে নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার কিভাবে নিঃস্ব হচ্ছে তা ভাষায় প্রকাশ করার মত না। এমনকি মরণ নেশা ইয়াবার চেয়ে জঘন্য হয়ে পড়েছে সুদ ব্যবসা। শহরের কয়েকটি এলাকায় এমন কিছু মানুষ আছে তাদের চোখে পড়ার মত কোন ব্যবসা নেই। তবে ব্যাংকে এবং বাসা, বাড়ীতে রয়েছে শত কোটি টাকা। যা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে মানুষ জিম্মি করে আয় করা হয়েছে। যদি দুর্নীতিদমন কিংবা কোন আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা এই সকল সুদির অফিস কিংবা বাসা বাড়ীতে অভিযান চালায় তাহলে বেরিয়ে আসবে যেমন শতকোটি টাকা। তেমনি উদ্ধার হবে মানুষ জিম্মির খালি চেক ও স্ট্যাম্প।

সূত্রমতে শহরের যেসকল এলাকায় সুদ ব্যবসায়ির পরিমান ব্যাপকহারে বেড়ে গেছে তৎমধ্যে রয়েছে টেকপাড়া, মোহাজের পাড়া, নতুন বাহারছড়া, নুনিয়ারছড়া, ৬নং এলাকা, বাজারঘাটা, এসএমপাড়া, রুমালিয়ারছড়া, পাহাড়তলী, গোলদিঘীর পাড়, ঘোনার পাড়া, বড় বাজারসহ আরো পাশবর্তী এলাকা। এদিকে এই সুদ ব্যবসায়িরা যেভাবে বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে যেকোন সময় শহরের কোন না কোন এলাকায় বড় ধরনের সংঘাত সৃষ্টি হওয়ার আশংকা করছেন সচেতন মহল।
এদিকে শহরের টেকপাড়ার জৈনক সুদ ব্যবসায়ি ডালিমের দাবী, সে সুদ ব্যবসার সাথে জড়িত নয়। তবে প্রতিবেদক তার খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারানো কয়েক জনের নাম প্রকাশ করলে তারা মিথ্যা অভিযোগ করেছে বলে দাবী করেন তিনি। পাশাপাশি প্রতিবেদক তার আসল ব্যবসা কি জানতে চাইলে কোন প্রকার সৎ উত্তর দিতে পারেনি এই ভবঘুরে সুদি ডালিম।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার এক কর্মকর্তা জানান, সুদ ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া কথাটি শুনেছি। এছাড়া সুদ ব্যবসার টাকার জন্য কারও জমি, কারও বাড়ি, এমনকি মারধরের ঘটনাও ঘটছে। এমন ঘটনায় যদি কেউ থানায় অভিযোগ করে তাহলে সুদ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কারন অবৈধ বা ইসলাম বিরোধী কর্মকান্ড করে কেউ আইন নিজের হাতে তুলের নেয়ার চেষ্টা বা জিম্মি করার অধিকার নেই। যদি কেউ লিখিত অভিযোগ দেয় তাহলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পাঠকের মতামত

স্পা সেন্টারের আড়ালে অসামাজিক কর্মকাণ্ড, নারীসহ গ্রেপ্তার ৫৪

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে স্পা সেন্টারের আড়ালে অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। ...

টেকনাফে মাদক গডফাদারদের ১৮২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ক্রোকের প্রক্রিয়া,তালিকায় আছে যারা

মাদক কারবারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়া ১১৬ জন গডফাদারের ১৮২ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোকের ...
Single Page Footer