প্রকাশিত: ২২/১১/২০১৮ ৮:০৮ এএম

নিজস্ব প্রতিনিধি::

মিয়ানমারের রাখাইনে অশিক্ষায় কুশিক্ষায় বেড়ে উঠা রোহিঙ্গারা এখানে ১৫ মাস ধরে স্থানীয়দের সাথে মিলেমিশে দিন অতিবাহিত করলেও তাদের অভ্যাসগত স্বভাব বদলাইনি। কথায় কথায় মারামারি, অপহরণ, খুন, গুম ইত্যাদি ন্যাক্কারজনক ঘটনা তাদের মাঝে বিদ্যমান রয়েছে।

অস্বাভাবিক আচার আচরণ, চলাফেরা ও প্রতিহিংসামূলক মনোভাবের কারণে স্থানীয় নাগরিক জীবনযাপন দিন দিন অশান্ত হয়ে উঠছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, সমাজকর্মীসহ বেশ কয়েকজন সুশিল সমাজের লোকজনের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

স্থানীয় রাজনীতিবিদ নুরুল হক খান জানান, রাখাইনে বসবাসকালীন সময়ে রোহিঙ্গারা উন্নত পরিবেশের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল। তাদের কাজ ছিল চাষাবাদ করা, গরু ছাগল লালন-পালন, খাওয়া-দাওয়া ও সাংসারিক জীবনযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। যে কারণে তাদের স্বভাবগত অভ্যাস বদলাইনি। এমনকি দীর্ঘ ১৫ মাস স্থানীয়দের সাথে মিলেমিশে দিন যাপন করলেও রোহিঙ্গাদের পরিবেশগত উন্নয়ন হয়নি। ক্যাম্পের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার, ত্রাণ ভাগাভাগি ও খুটিনাটি বিষয় নিয়ে তারা একে অপরকে অপহরণ, খুন, গুম করতে দ্বিধাবোধ করেনা। তাদের এ সমস্ত অনৈতিক আচরণের কারণে স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাপনে দিন দিন অবনতি ঘটছে।

গত সোমবার বিকেল ৫টার দিকে ব্র্যাকের স্থানীয় দু’জন মহিলা কর্মী ক্যাম্প থেকে ফেরার পথে কুতুপালং এফ ব্লকের ১৬ নাম্বার শেডের সামনে পৌছলে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালনকারী কয়েকজন নিবন্ধিত রোহিঙ্গা যুবক তাদের গাড়ি থামিয়ে অশালীন আচরণ করে গাড়ি ভাংচুর করে।

এ ঘটনা নিয়ে স্থানীয় ও নিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা দেখা যায়। পরিস্থিতি অস্বাভাবিক মনে করে সেনা সদস্য, পুলিশ, আনসার বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ব্র্যাকের সিকুরিটি ব্রাঞ্চের কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল গফুর জানান, নিবন্ধিত রোহিঙ্গারা তিলকে তাল করে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ব্রাকের কর্মীদের উপর চড়াও হয়েছে। অথচ এনজিও সংস্থা ব্র্যাক রোহিঙ্গাদের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে আসছিল।

এ কথার বিরোধিতা করে নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম জানান, ব্র্যাকের কর্মীরা যেকোন বিষয় নিয়ে রোহিঙ্গাদের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করার কারণে নিবন্ধিত রোহিঙ্গারা তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আস্থাহীনতায় ভুগছে। সে জানান, যে পথে টমটম, সিএনজি চলাচল নিষেধ ছিল সেই পথে মাইক্রো নিয়ে ব্র্যাকের কর্মীরা আসা যাওয়ার কারণে ঘটনাটা ঘটেছে।

পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, রোহিঙ্গাদের মধ্যে কোন প্রকার ভ্রাতৃত্বমূলক মনোভাব নেই। তিনি একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, তাজনিমারখোলা ইটভাটা এলাকায় বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা যুবকের মাদকদ্রব্য সেবন নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এছাড়াও ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের অসামাজিক আচরণ বিদ্যমান থাকায় স্থানীয় পরিবেশের উপর প্রভাব পড়ছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিটির আহবায়ক অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরীর সাথে মুঠোফোনে আলাপ হলে তিনি জানান, ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন না হওয়াটা আমাদের জন্য দূর্ভাগ্যজনক ঘটনা। এতে কতিপয় এনজিও লাভবান হলেও উখিয়া টেকনাফের বসবাসরত ৫ লাখ মানুষের জন্য মরার উপর খাড়ার ঘায়ে পরিণত হয়েছে।

পাঠকের মতামত

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ড্রেসকোডে ঝুলছে ছাত্রীদের হিজাব

রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ড্রেসকোড আছে। এতে বিপাকে পড়ছেন পর্দা করতে চাওয়া ...

কক্সবাজার -চট্টগ্রাম মহাসড়ক নয়, মৃত্যুর পথ: যাত্রীর আতঙ্ক বাড়ছে দিন দিন

কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দিনদিন বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় বহু হতাহতের ঘটনা ...