প্রকাশিত: ৩১/০৫/২০১৯ ৩:৩৫ এএম

ডেস্ক রিপোর্ট::
কক্সবাজারের ইয়াবা ডন সিআইপি সাইফুল করিমের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে ইয়াবা কারবারে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া প্রভাবশালীরা বিপাকে পড়েছেন। সাইফুল করিম দেশে ফিরে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে অনেকের নামই ফাঁস করে দিয়েছেন।

তার মাথায় ছায়া হয়ে থাকা এসব ব্যক্তির মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসাধু কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাও রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাইফুল করিম ইয়াঙ্গুন থেকে দেশে ফেরার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পুলিশ সদর দপ্তরের একটি বিশেষ দল কক্সবাজার যায়। জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল দিয়েছেন চাঞ্চল্যকর ইয়াবা কানেকশনের তথ্য।

এমন প্রেক্ষাপটে প্রভাবশালীদের একটি সিন্ডিকেট সাইফুল করিমের মুখ বন্ধে সম্ভাব্য প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন। এ নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে এসব রাঘববোয়ালদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে সিন্ডিকেটটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টেকনাফে প্রথম দফায় ১০২ জন ইয়াবাকারবারি আত্মসমর্পণ করার পর থেকে সাইফুল করিম আত্মসমর্পণের জন্য যোগাযোগ করেন।

দ্বিতীয় দফায় আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে সাইফুল করিমও রয়েছেন। গত শনিবার ইয়াঙ্গুন থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন সাইফুল। পরে একটি গাড়িতে করে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

পরে কঠোর গোপনীয়তায় তাকে গতকাল সড়কপথে কক্সবাজার নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর তার পরিবার আত্মসমর্পণের জন্য মধ্যস্থতাকারী টিভি সাংবাদিক এসএম আকরাম হোসাইনের মাধ্যমে কক্সবাজার পুলিশের হাতে তুলে দেন।

বর্তমানে কক্সবাজার জেলা পুলিশের ‘সেইফ হোমে’ রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাইফুল করিমের ইয়াবা ব্যবসার বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ছড়ানো ছিল টেকনাফ থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত।

ঘাটে ঘাটে মোটা অঙ্কের অর্থ দিতেন। বিনিময়ে তার সেইফ গার্ড হিসেবে কাজ করতেন ওইসব সুবিধাভোগী প্রভাবশালী। তবে কৌশলগত কারণে এ নিয়ে কথা বলতে চাইছেন না পুলিশ কর্মকর্তারা।

এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘সাইফুল করিম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারলে ইয়াবা পরিস্থিতির সত্যিকারের উন্নতি হবে।’ সাইফুল করিমের এক ভাগ্নে আমাদের সময়কে বলেন, ‘তার সঙ্গে (সাইফুল করিম) আমাদের দেখা হয়েছে।

তিনি ইয়াবা ব্যবসা করে ঘৃণ্য অপরাধ করেছেন। আইন অনুযায়ী তার বিচার ও কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। তবে প্রভাবশালীদের বাঁচাতে ভিন্ন কিছু ঘটানো হলে সেটি ঠিক হবে না।’

কক্সবাজারের ইয়াবা ডন হিসেবে পরিচিত সাইফুল করিম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন তালিকায় এক-দুই নম্বরে থাকা শীর্ষ ইয়াবাকারবারি সাইফুল করিম টাকার বিনিময়ে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির (সিআইপি) তকমাও বাগিয়ে নেন।

মালিক বনে গেছেন শত শত কোটি টাকার। বলা হয়ে থাকে, সাইফুলের হাত ধরে বাংলাদেশে ইয়াবার প্রবেশ ঘটে। সাইফুল করিমের গ্রামের বাড়ি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শিলবনিয়াপাড়ায়।

২০০৮ সাল থেকে তিনি ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। কক্সবাজার জেলার পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, ‘ইয়াবা কারবারে সম্পৃক্ত কেউই ছাড় পাবে না।’ গত বছর ১৬ মে দেশব্যাপী মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরুর পর গা-ঢাকা দেন তিনি। আত্মগোপনের প্রায় ৯ মাস পর দেশে ফিরলেন সাইফুল করিম।
সুত্র:
আমাদের সময়

পাঠকের মতামত

‘ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন মির্জা আব্বাস, দেশে ফিরতে লাগবে আরও কিছুটা সময়’

মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের থেরাপি চিকিৎসা উন্নতির ...

প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে মালয়েশিয়ায় স্বামী, ক্ষোভে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিলেন দ্বিতীয় স্ত্রী

প্রথম স্ত্রীকে রেখে দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় ছিলেন রফিউদ্দিন। এরই মধ্যে তার প্রথম স্ত্রী অন্য এক ...

কক্সবাজার লাইট হাউস দারুল উলুম মাদ্রাসা ও জামে মসজিদ দখলের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

কক্সবাজার পৌরসভাধীন কলাতলি লাইট হাউজ এলাকাস্থ দারুল উলুম লাইট হাউস মাদ্রাসার পরিচালনা, মার্কেট ও মসজিদের ...

রামুতে সূর্যের হাসির চিকিৎসা ক্যাম্প উদ্বোধন করলেন এমপি লুৎফুর রহমান কাজল

কক্সবাজারের রামুতে অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ক্যাম্প পরিচালনা করেছে সূর্যের হাসি ক্লিনিক। ...
Single Page Footer