
প্রিয় দেশবাসী
সালাম নিবেন
প্রত্যেক জাতির জীবনে কোন না কোন ধর্মীয় উৎসব বিদ্যামান আছে। তেমনি ভাবে মুসলিম জাতির প্রধান ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে ঈদ উল আযহা এবং ঈদ উল ফিরত।এই সব উৎসব অবশ্যই আনন্দের। আগামীকাল এই ঈদ উৎসব অর্থাৎ সৃষ্টির কর্তার উদ্দ্যেশে কোরবানি পশু উৎসর্গের মাধ্যমে ঈদ উল আযহা উৎযাপন করতে যাচ্ছি। কিন্ত করোনা ভাইরাসের কারণে এই আনন্দের উৎসব আজকে শোক উৎসব হিসাবে পরিণত হয়েছে। কারণ করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ সংক্রমণে আজ বিপর্যস্ত পৃথিবী এবং বিপন্ন জনপদ। এর পরেও সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক চাহিদার প্রয়োজনে সমস্ত প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম দূর্যোগ উপেক্ষা করে পরিবেশের সাথে ভারসাম্য বজায় রেখে চলা সংগ্রামী মানুষের প্রধান ধর্ম।অন্যদিকে বাঙ্গালি জাতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় অর্থাৎ আর্য পূর্ব জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে অদ্য পর্যন্ত আমাদের উপর দিয়ে বয়ে গেছে বিভিন্ন কৃত্রিম দূর্যোগসহ ইতিহাসের মহাপ্রলয় থেকে শুরু করে মহাপ্লাবন।আজকের মহামারি নতুন কিছু নই।কারণ বিভিন্ন প্রাচীন ধর্মীয় গ্রন্থ যেমন আল কোরআন, মহাভারত, রামায়ণ এবং বাংলা সাহিত্যের উপন্যাস “হাজার বৎসর ধরে “সহ বিভিন্ন উপন্যাসের চরিত্রে মহামারীর কথা স্পষ্ট ভাবে ফুটে উঠেছে। সুতরাং হতাশ কিংবা ভেঙে পড়ার কোন যুক্তিক কারণ নেই। যেহেতু সমস্যা আছে সেহেতু সমাধানও আছে। এই সব সমস্যার মাঝে সমস্ত দুর্যোগ উপেক্ষা করে আমাদের জীবন তরী বন্দরে পৌঁছাতে হবে। তখনই আমরা সংগ্রামী জাতি হিসাবে বিশ্বের ইতিহাসে পরিচিত লাভ করবো এবং বাঙ্গালি জাতির ইতিহাস হবে আরো সমৃদ্ধ।
যাইহোক করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ সংক্রমণে বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে পরস্পরের সহযোগিতা মাধ্যমে এবারের ঈদ-উল-আযহা উদযাপন করার জন্য আমি দেশবাসীর প্রতি আহবান জানাচ্ছি।
ঈদের সালাত আদায় ও ঈদ উদযাপনের জন্য স্বাস্থ্য বিধি, সামাজিক দূরত্ব ও এ সংক্রান্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে।
আমি দেশবাসী সকলের সুখ-সমৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য, নিরাপদ জীবন ও শান্তি কামনা করছি। সেই সাথে আমি সবাইকে আন্তরিকভাবে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করছি।
শুভেচ্ছান্তে
জিয়াবুল আলম
আইনজীবী
চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জর্জ আদালত

পাঠকের মতামত