
উখিয়া উপজেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনকে ঘিরে তৃণমূলে শুরু হয়েছে আলোচনা। সভাপতি পদে ত্যাগী ও রাজপথমুখী নেতা রিদুয়ানুর রহমানকে দেখতে চান বলে মত দিয়েছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
চব্বিশের জুলাইয়ের আন্দোলন থেকে শুরু করে বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তৃণমূলে পরিচিত মুখ রিদুয়ানুর রহমান। নেতাকর্মীরা বলছেন, আন্দোলন-সংগ্রামের কঠিন সময়েও তিনি রাজপথ ছেড়ে যাননি। ২০২৪ এর ৭ জানুয়ারি শেখ হাসিনা একতরফা নির্বাচনে মধ্য দিয়ে আবারো ক্ষমতায় গেলে অনেকে দলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত মনে করে দল থেকে দূরে ছিলেন। তখনও রিদুয়ান দলকে আগলে ধরে ছিলেন সামনের সারিতে।

শৈশব ২০১৩ থেকে উখিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে ২০১৬ রাজাপালং ইউনিয়ন ছাত্রদল দক্ষিণের যুগ্ম-আহবায়ক পরে ইউনিয়ন সভাপতি এবং সর্বশেষ রিদুয়ানুর রহমান উখিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির সংগ্রামের দিনগুলোতে সীমান্ত জনপদ উখিয়ার রাজপথে হাতেগোনাদের একজন রিদুয়ান। ১ দফার আন্দোলনে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাজপথে থাকা এই ছাত্রদল নেতা ঢাকা থেকে কক্সবাজার সব কর্মসূচিতে ছিলেন সরব।
ত্যাগী এই ছাত্রনেতার বিষয়ে পালংখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ইবনে জুবাইর বলেন, রিদুয়ান ভাই দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে উঠে আসা নেতা৷ তিনি জুলাইতে সম্মুখে ভূমিকা রেখেছে। এবং উখিয়া, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় দলের কর্মসূচিতে সরব ছিলেন। তূণমূল রিদুয়ান ভাইকে সভাপতি হিসেবে চাই। তিনি দলে একদিনও অনুপস্থিত ছিলেন না।
রাজাপালং ইউনিয়ন দক্ষিণ শাখার সভাপতি আহমদ উল্লাহ বলেন, দলের দুর্দিনে রিদুয়ান ভাই উখিয়াতে ছাত্রদলকে আগলে রেখেছে এখন দলের উচিত তাকে মূল্যায়ন করা। এই দলের পেছনে তার শ্রম, ত্যাগ, অর্থ সবকিছু রয়েছে৷
রাজাপালং ইউনিয়ন ছাত্রদল উত্তরের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামে রিদুয়ান ভাই ছাত্রদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন, আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি তিনি দলের দুর্দিনে কত কষ্ট করেছেন, দলের কর্মসূচি এবং স্বার্থ ছিলো তার প্রথম প্রায়োরিটি। এমনকি ছাত্রদলের জন্য ২০১৫ সালে ছাত্রলীগের মিথুন বাহিনীর হাতে নির্মম হামলার স্বীকার হয়েছিলেন। এবং পরে পালংখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সম্মেলনে যাওয়ার পথে মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনার স্বীকার হয়েছিলাম যেখানে আমিও মারাত্মকভাবে আহত ছিলাম। আমি মনে করি ছাত্রদলকে মেধাবী এবং স্মার্টদের সংগঠনে রুপান্তর করতে তিনি ভূমিকা রেখেছেন। তিনিই উখিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদের যৌগ্য দাবিদার।
সাংগঠনিক কার্যক্রমে তার ভূমিকার কারণে কর্মীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
সম্প্রতি উখিয়া উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করেছে জেলা ছাত্রদল। শিগগিরই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীর প্রত্যাশা, সভাপতি পদে রিদুয়ানুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হলে আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত একজন নেতার মূল্যায়ন হবে এবং সংগঠন আরও গতিশীল হবে।


পাঠকের মতামত