প্রকাশিত: ১৮/১০/২০১৯ ৯:২৩ পিএম

শিশু নির্যাতন ও হত্যায় জড়িতরা কঠোর সাজা পাবে বলে শুক্রবার স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘যারা শিশু নির্যাতন ও হত্যায় জড়িত থাকবে তাদের কঠোর থেকে কঠোরতর সাজা পেতে হবে।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

শেখ রাসেলের বড় বোন শেখ হাসিনা বলেন, সরকার চায় যে, কোনো শিশু হত্যার শিকার হবে না এবং সব শিশু যাতে সুন্দর পরিবেশে বাঁচতে পারে।

‘প্রতিটি শিশুর থাকবে অর্থবহ জীবন। সেটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য,’ বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ রাসেলকে হত্যা এবং খুনিদের রক্ষায় আইন করার বিশাল প্রভাব সমাজের ওপর পড়েছিল।সাম্প্রতিক সময়ে আমরা শিশুদের অমানবিক নির্যাতনের কিছু ঘটনা দেখছি। যদি সেই সময় (১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর) যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হতো তাহলে এ ধরনের কাজ করতে মানুষ অন্তত ভয় পেত,’ বলেন তিনি।

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় শিশু তুহিন হত্যার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী অবাক হয়ে যান যে কীভাবে একজন বাবা প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে তার সন্তানকে হত্যা করতে পারে। ‘কী বিকৃত মানসিকতা!’

প্রধানমন্ত্রী দেশের শিশু, কিশোর ও তরুণদের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। সেই সাথে তিনি সবাইকে সততার সাথে জীবন যাপনের অনুরোধ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিটি শিশুর ভেতর সুপ্ত চেতনা, মনন ও শক্তি রয়েছে।

শেখ রাসেলের জীবনের নানা পর্যায় বর্ণনা করে তিনি বলেন, রাসেলের ছিল এক দরদি মন। ‘যদি সে বেঁচে থাকত তাহলে দেশের জন্য অনেক কিছু করত।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সর্বকনিষ্ঠ ভাই শেখ রাসেলের ৫৬তম জন্মবার্ষিকী আজ। তিনি ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর ধানমন্ডির ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিহত হন।

ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শেখ রাসেল তার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের সাথে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।

শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের সভাপতি রকিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের মহাসচিব মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, উপদেষ্টা তরফদার রুহুল আমিন, সাংগঠনিক সচিব কেএম সহিদুল্লাহ ও শিশু আকিয়া আবিদ।এর আগে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ এবং পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

পাঠকের মতামত

গুতেরেসের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক, রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু ইস্যুতে জোর

জাতিসংঘে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ইস্যু, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এবং বৈশ্বিক শান্তি ও ...

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ৫ দফারোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য সময়োপযোগী প্রস্তাবনা : শাহজাহান চৌধুরী

দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিপুল উপস্থিতির কারণে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে জনজীবনে নানা ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। ...

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘে তারেক রহমানের ৫ প্রস্তাব

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক ...

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্বকে আরও কঠোর হওয়ার বার্তা তারেক রহমানের

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ...

নবম পে স্কেলের বাইরে যারা

সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত কয়েক শ্রেণির কর্মচারী ও শ্রমিক নবম জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় আসছেন না। ...