
উখিয়া নিউজ ডেস্ক।।
কক্সবাজার বিমান বন্দরটি দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। ভেঙে পড়েছে বিমান বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও।নিরাপত্তাকর্মী স্বল্পতাই এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা। বিমান বন্দরটির ২০ জন নিরাপত্তাকর্মীর স্থলে রয়েছেন মাত্র ৮ জন। এসব কারণে দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বেশ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
গতকাল সোমবার দুপুরে সরেজমিন বিমান বন্দরে গিয়ে দেখা গেছে, প্রধান ফটকটিও রয়েছে নিরাপত্তাকর্মীবিহীন অবস্থায়। যে কোনো কেউই প্রধান ফটক দিয়ে যাওয়া-আসা করতে পারে একদম সহজেই। ফটকের কিছু দুরে কয়েকজন আনসার সদস্যকে দেখা গেলেও তারাও রয়েছেন আড্ডায় ব্যস্ত। প্রচুর যাত্রীবাহী যানবাহনের আসা-যাওয়ায় কোনো তল্লাশিও চোখে পড়েনি।
বিমান বন্দরটির আন্তর্জাতিক মানের উন্নীতকরণ প্রকল্পের একজন কর্মী কালের কণ্ঠকে বলেন- ‘প্রধান ফটকের অবস্থা যেনতেন। যে কোনো কেউ চাইলেই দায়িত্বরত আনসারকে বশ করে রানওয়ে পর্যন্ত নির্ধিদ্বায় এপার-ওপার পার হতে পারে।
’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকল্পের এ কর্মী আরো বলেন, রবিবারের রাজধানী ঢাকা বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রাম বিমান বন্দরমুখি দুবাইগামী বিমানের ফ্লাইটটির ঘটনা নিয়েও পর্যন্ত কক্সবাজারে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি।
গতকাল সরেজমিনে দেখা গেছে, চট্টগ্রামে দুবাইগামী বিমানের ফ্লাইটটির ছিনতাইকারী নিহতের ঘটনার একদিন পরেও গতকাল সোমবার কক্সবাজার বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তেমন কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। অথচ দেশের অন্যান্য বিমানবন্দরের চেয়েও বর্তমান সময়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, মাত্র কয়েক বছর আগেও ছিল সপ্তাহে মাত্র দুই-চারটি ফ্লাইট। অথচ বর্তমানে দৈনিক ১২/১৪ টি ফ্লাইট ঢাকা-কক্সবাজার বিমানবন্দরের মধ্যে চলাচল করে থাকে। এমনকি বোয়িং-৭৩৭ ফ্লাইট চলাচল করে দৈনিক ৭/৮ টি। এতে করে দৈনিক দেড়-দুই হাজার যাত্রী যাতায়াত করে বিমানের ফ্লাইটে।
কক্সবাজার বিমানবন্দরের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি বেড়ে যায় ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের পর। রোহিঙ্গার কারণে কক্সবাজারে কয়েক হাজার বিদেশি অবস্থান নেয়। সেই সঙ্গে প্রায়শ আগমন ঘটে দেশি-বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের। ফলে চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিমানের ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো হয়। অথচ সেই তুলনায় বাড়েনি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
বিমানবন্দরে কর্মরত শাহিনুর নামের একজন নিরাপত্তা কর্মী গতকাল বলেন- ‘নিয়মানুযায়ী প্রধান ফটকেও আমাদের নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্ব পালনের কথা। কিন্তু সংখ্যায় কম থাকায় তা সম্ভব হয়ে উঠে না। আমরা পালাক্রমে কোনো রকমে গুরুত্বপূর্ণ স্থানসহ সন্দেহজনক যাত্রীদের নিয়েই দায়িত্ব পালন করি। ’ তিনি জানান, বর্তমানে ৬ জন নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন মাত্র। সেই সঙ্গে দুইজন সুপারভাইজারসহ সব মিলে আছেন মাত্র ৮ জন। তাও সব সময় একজন ছুটিতে থাকেন।
বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক মানের উন্নীতকরণ প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে অরক্ষিত অবস্থায়। অরক্ষিত থাকায় ১০ হাজার ফুট দীর্ঘ রানওয়ে পাহারা দিতেও কর্তব্যরত আনসারগণ হাঁফিয়ে উঠছেন। কক্সবাজার বিমান বন্দরের ব্যবস্থাপক এ কে এম সাইদুজ্জামান এসব বিষয়ে জানান- ‘বিমান বন্দরের দায়িত্বে রয়েছেন ১০৪ জন আনসার সদস্য। সেই সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন ৮ জন। অথচ ২০ জন নিরাপত্তাকর্মীর পদ থাকলেও এখনো শূন্য রয়েছে ১২টি।

পাঠকের মতামত