
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে কক্সবাজারের উখিয়ার তরুণ রাকিবুল ইসলাম সৈকতের বিশ্বখ্যাত ফিনটেক প্রতিষ্ঠান Payoneer-এ উচ্চ বেতনের চাকরি পাওয়ার খবর ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। দাবি করা হয়, তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে বার্ষিক ৭০ হাজার মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮৬ লাখ টাকা বেতনে নিয়োগ পেয়েছেন।
প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, সৈকতের ৬ বছরের রিমোট জবের অভিজ্ঞতা এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘সোলার ইউনিয়ন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজের সাফল্যের ভিত্তিতে তাকে পেওনিয়ারে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়। পাশাপাশি কথিত একটি নিয়োগপত্রের ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
গত বুধবার (৬ মে) বিষয়টি কক্সবাজারের স্থানীয় অনলাইন পোর্টালসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে সফলতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরতে শুরু করেন। আবার অনেকেই বিষয়টিকে অবিশ্বাস্য ও ভুয়া দাবি বলে মন্তব্য করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করতে গত ৬ মে রাকিবুল ইসলাম সৈকতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি একটি ইমেইলের স্ক্রিনশট দেখিয়ে চাকরির দাবিকে সত্য বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি নিয়োগপত্রের সত্যতা নিশ্চিত করতে সোমবার (১১ মে) প্রথম অনবোর্ডিং মিটিংয়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত আইডিতে প্রকাশ করার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
তবে তিন দিন পার হলেও ওই মিটিংয়ের কোনো ভিডিও প্রকাশ না হওয়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে পরবর্তীতে ‘চ্যানেল এস’-এর উখিয়া প্রতিনিধি মুজিবুর রহমান মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে সৈকত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
‘পেওনিয়ার বাংলাদেশ অফিশিয়াল’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে গ্রুপটির অ্যাডমিন রাশেদুল হাসান লিখেন, “আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পেওনিয়ারের নিয়োগ সংক্রান্ত একটি ছবি ছড়িয়ে পড়তে দেখেছি। আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই যে, এই তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং অননুমোদিত। ওই নিয়োগপত্র এবং দাবিকৃত তথ্যগুলো মোটেও আসল নয়।”
জানা গেছে, ‘পেওনিয়ার বাংলাদেশ অফিশিয়াল’ গ্রুপটিতে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার সদস্য রয়েছে এবং বাংলাদেশে পেওনিয়ার ব্যবহারকারীদের মধ্যে এটি অন্যতম বড় ও পরিচিত কমিউনিটি।
এ বিষয়ে পুনরায় রাকিবুল ইসলাম সৈকতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, Payoneer একটি আমেরিকান ক্রস-বর্ডার পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম, যা বিশ্বব্যাপী ফ্রিল্যান্সার ও অনলাইন উদ্যোক্তাদের অর্থ লেনদেনের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশেও এর বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারী রয়েছে। তবে বর্তমানে দেশে প্রতিষ্ঠানটির কোনো সরাসরি কার্যকর অফিস নেই। বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তারা সেবা দিয়ে থাকে।


পাঠকের মতামত