প্রকাশিত: ০৯/১০/২০১৯ ৪:৫৫ পিএম

সারাদেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি হলের সবগুলো রুম সার্চ করা হবে। কোন হলে কারা অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলতা করছে তাদের দলা হবে। কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আবরার হত্যা প্রসঙ্গে তিনি এই মন্তব্য করেছেন। বুধবার (৯ অক্টোবর) গণভবনে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের খরচে হলে বসে জমিদারি চলবে না। আমি কোনো দলটল দেখব না। তিনি বলেন, ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার পক্ষে আমি না। আমি নিজেও তো ছাত্র রাজনীতি করে উঠে এসেছি। বুয়েটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বুয়েট চাইলে সেটা করতে পারে আমরা সেখানে হস্তক্ষেপ করবো না।

অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তারা কোন দলের বা কি কিছু দেখা হবে না। অপরাধী- অপরাধীই।

পরিবার হারানো কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি তো বাপ-মা, ভাই-বোন, সব হারিয়েছি। আমি তো কষ্টটা বুঝি। একটা মেধাবী ছাত্র (আবরার) হারালে মায়ের যে কি কষ্ট আমি বুঝি।

তিনি বলেন, কেউ যদি কোনো অপরাধ করে, সে যে দলই করুক না কেনো তার বিচার হবে। আমি ঘটনা শুনে তখনই সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে বলেছিলাম। যখন পুলিশ সিসিটিভি নিয়ে আসছে তখন তাদের ঘেরাও করা হলো। তাদের ফুটেজ নিয়ে আসতে দেয়া হবে না। আমাকে জানানো হলো ফুটেজ নিয়ে আটকে দেয়া হয়েছে। আমার প্রশ্ন ছাত্ররা তাদের আটকে দিলো কেনো?

তিনি যোগ করেন, এরপর আমি যাদের ফুটেজে দেখা গেছে- তাদের মধ্যে যাদের পেয়েছি তাদের অ্যারেস্ট করিয়েছি। আমি আইজিপিকে বলেছি, যথাযথ ব্যবস্থা নিতে। কে ছাত্রলীগ, কে ছাত্রদল। আমি তা বিবেচনা করি না। কি অমানবিক। একটা ছাত্রকে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হলো! এক সময় আমাদের অনেক নেতাকর্মীদের এভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি কখনোই অন্যায় মেনে নিব না। আমার দল হলেও কিছু আসে যায়না।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমি আশার পর থেকে চেষ্টা করছি ক্যাম্পাসগুলোতে এ ঘটনা যেনো না ঘটে। একটা সময় দুপুর দুইটার পর ঢাবিতে ক্লাসই হতো হতো না। ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসছে। যে অন্যায় করেছে সে অন্যায়কারী। গ্রেপ্তার শুরু হয়ে গেছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের দেশের ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করতেই আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি। এটা আমরা উন্মুক্ত করে দেয়ায় অল্প দামে পাওয়া যাচ্ছে। দেশে বর্তমানে ২৬টি কোম্পানি কাজ করছে। ১৮টি কোম্পানি গ্যাস উৎপাদন করছে। আমরা আমদানি করে সে গ্যাসই ত্রিপুরায় দিচ্ছি। এখানে আমাদেরই লাভ হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশে কতো গ্যাস আছে, সেটা গবেষণা করে না বের করা পর্যন্ত আমি বিক্রি করতে পারি না। আমি দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজ করতে পারি না।

যুক্তরাষ্ট্রের অনেকেই গ্যাস বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাকে যুক্তরাষ্ট্রের অনেকেই প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আমাকে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে যাওয়া হলেও আমি একই কথা বলেছিলাম। একদল গবেষক সার্ভে করে জানিয়েছিলো প্রাকৃতিক গ্যাস বিক্রি করা যাবে। আমি তখন সঠিক তথ্য জানতে চাইলে গবেষকদল কতো গ্যাস আছে তা সঠিকভাবে বলতে পারেনি।

বাংলাদেশের কোনো স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করবে তা কখনো হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ত্রিপুরা থেকে আমরা বিদ্যুৎ কিনছি। ভারতের সাথে আমাদের সুসম্পর্ক অনেক আগে থেকেই।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ত্রিপুরা কিছু চাইলে আমাদের তাদের দিতে হবে। ১৯৭১ সালে আমাদের লোকেদের ত্রিপুরা তাদের আশ্রয় দিয়েছিলো। ওই অঞ্চল আমাদের জন্য বিরাট একটা শক্তি ছিলো। খুব স্বাভাবিকভাবে তাদের সাথে ভালো সম্পর্ক ছিলো, থাকবে

পাঠকের মতামত

গুতেরেসের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক, রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু ইস্যুতে জোর

জাতিসংঘে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ইস্যু, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এবং বৈশ্বিক শান্তি ও ...

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ৫ দফারোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য সময়োপযোগী প্রস্তাবনা : শাহজাহান চৌধুরী

দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিপুল উপস্থিতির কারণে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে জনজীবনে নানা ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। ...

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘে তারেক রহমানের ৫ প্রস্তাব

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক ...

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্বকে আরও কঠোর হওয়ার বার্তা তারেক রহমানের

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ...

নবম পে স্কেলের বাইরে যারা

সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত কয়েক শ্রেণির কর্মচারী ও শ্রমিক নবম জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় আসছেন না। ...