জসিম উদ্দিন টিপু, টেকনাফ
প্রকাশিত: ০৯/০৫/২০২৬ ৬:৩৯ পিএম

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দুর্গন্ধযুক্ত বিষাক্ত বর্জ্য ও ময়লাযুক্ত পানিতে দুষিত হচ্ছে খাল-বিল। প্রবাহমান খাল দিয়ে ক্যাম্পের দুষিত ও মারাত্মক দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা নদীতে চলে যাচ্ছে। এতে করে খাল ও বিলের পানি যেমন নষ্ট হচ্ছে। তেমনি নাফনদের পানিও সামনতালে দুষিত হচ্ছে। এদিকে ক্যাম্পের ময়লাযুক্ত বিষাক্ত পানির কারণে আশেপাশের খাল-বিলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া বিলে এবং নদীতে মৎস্য উৎপাদন দিন দিন কমছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে,হ্নীলা ইউনিয়নের আলীখালী খাল,মুচনী ছুরি খাল, জাদীমুরা জাদীর খাল ও ওমর খালের পানি একেবারে ব্যবহার অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দুর্গন্ধযুক্ত বিষাক্ত বর্জ্য ও ময়লাযুক্ত পানির খালের পানির সাথে একাকার হয়ে গেছে। ফলে পানির রং পরিবর্তন হয়ে কালো রং ধারণ করেছে। এখানকার স্থানীয় লোকজন;যুগ যুগ ধরে ওই সব খালের পানি নিয়ে শুস্ক মৌসুমে ক্ষেত খামার করতো। পানির রং অস্বাভাবিক পরিবর্তন হওয়ায় ক্ষেত খামারে করতে পারছেন না এখানকার কৃষকরা।

#দূষণ হচ্ছে নাফনদের পানিও।
#ফসল উৎপাদন ব্যাহত।
#কমছে মৎস্য উৎপাদন।
#লবণ উৎপাদনে সমস্যা।
#বিষাক্ত ও দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশ।
#নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।
#পরিবেশের ক্ষতি হলেও; দেখার কেউ নেই।

উল্লেখিত খাল ৪টি প্রবাহমান থাকায় লবণ চাষীদের যেমন কষ্ট হচ্ছে। তেমন লবণ উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন লেদা এলাকার কৃষক জুবায়ের। তিনি আরো জানান, পঁচা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি লবণ মাঠেও ব্যবহার করা যায়না। ওই পানিতে তেমন লবণ উৎপাদন হয়না। ক্যাম্পের বর্জ্য এবং ময়লাযুক্ত পানির কারণে নদীর পানিও খালে ঢুকতে পারেনা বলেও লবণ চাষীদের অভিযোগ। ফলে লবণ চাষীরদের প্রতিবছর ক্ষতির মাশুল গুনতে হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নে ৫টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প রয়েছে। ইউনিয়নের মাত্র ৪বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ক্যাম্পগুলোর অবস্থান। এসব ক্যাম্পে ১লাখ ৬০হাজার রোহিঙ্গা বসবাস করছেন।
ক্যাম্প সুত্র জানায়,টেকনাফের ৫টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাত্র একটি ওয়াটার ট্রিটম্যান্ট প্লান্ট রয়েছে। ২৭নং ক্যাম্প এলাকা জাদীমুরায় ওই ট্রিটমেন্ট প্লান্টটির অবস্থান। ট্রিটমেন্ট প্লান্টটি ওই ক্যাম্পের জন্যও অপ্রতুল। অথচ বাকী ৪টি ক্যাম্পেই কোন ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নেই। এই কারণেই পায়খানাসহ লিকুইড জাতীয় বর্জ্য ব্যবস্থপনা করাটা খুবই কঠিন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্যাম্প বিশেষজ্ঞ ও এনজিও কর্মকর্তা জানান, রোহিঙ্গাদের সৃষ্ট ৩০ভাগ বর্জ্য তথা গৃহস্থলির বর্জ্য সংশ্লিষ্ট এনজিওরা ব্যবস্থাপনা করছেন। টয়লেটসহ বাদ বাকী ৭০ভাগ বর্জ্য আশেপাশের খালের উপর দিয়ে নদীতে চলে যাচ্ছে। এই কারণে বর্ষা মৌসুমেও এখানকার খালের পানির রং স্বাভাবিক থাকেনা বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
কৃষক থেকে শুরু করে সর্বশ্রেনীর মানুষের প্রশ্ন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ময়লাযুক্ত পানি ও বিষাক্ত বর্জ্য খাল-বিল দিয়ে নদীতে যাবে কেন? রোহিঙ্গাদের সৃষ্ট বর্জ্য ক্যাম্প ম্যনেজম্যান্টকেই অবশ্যই সমাধান করতে হবে। কারণ এসব বর্জ্যরে কারণে খাল-বিলের পানি দূষিত হওয়ার পাশাপাশি; পরিশেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় লোকজন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানাগেছে। স্থানীয়রা পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে ক্যাম্পের ময়লাযুক্ত পানি ও বিষাক্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবী জানিয়েছেন।
লবণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হোসাইন মুহাম্মদ আনিম জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ময়লাযুক্ত পানি ও বিষাক্ত বর্জ্যরে কারণে লবণ চাষীরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ময়লাযুক্ত পানি ও বিষাক্ত বর্জ্যরে কারণে চাষীরা ঠিকমত লবণ মাঠে সেচের ব্যবস্থা করতে পারছেননা। এছাড়া ময়লাযুক্ত পানির কারণেই আলীখালী, লেদা ও মুচনীতে লবণ উৎপাদন কম হচ্ছে বলে জানিয়েছেন লবণ ব্যবসায়ীদের এই নেতা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: হুমায়ুন কবির জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ময়লা-আবর্জনায় উল্লেখিত খাল সমুহের পানির গুণাগুণ একেবারেই নষ্ট হয়ে পড়ে। ওই পানি কোন প্রকার ফসল উৎপাদনে ব্যবহার করা যায়না। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ময়লাযুক্ত পানি ও বিষাক্ত বর্জ্যের কারণে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি তিনি ইউএনওসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অবগত করেছেন বলেন জানান।
টেকনাফ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ সহকারী প্রকৌশলী মো: ফারুক হোসেন জানান,রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিষাক্ত বর্জ্য ও দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানিতে দুষিত হচ্ছে পানি। স্থানীয়দের ব্যবহারের এই খাল দুষণমুক্ত রাখা ক্যাম্প সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। ক্যাম্পের বর্জ্য ও বিষাক্ত পানি আধুনিক এবং বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় শুধানাগারের উপর গুরুত্বারোপ করেন এই প্রকৌশলী। অন্যথায় ক্যাম্প থেকে নির্গত বর্জ্য ও বিষাক্ত পানিতে পরিবেশের ক্ষতি হবে। স্থানীয় লোকজন ও রোহিঙ্গারা নানান রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জমির উদ্দিনের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করা হয়। রিং হলেও মোবাইল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে জানতে চাইলে ২৪ ও ২৫নং ক্যাম্পের ইনচার্জ (সিআইসি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট খানজাদা শাহরিয়ার বিন মান্নান বলেন, ৪বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ৫টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প। এই ৫টি ক্যাম্প অন্তত: ১লাখ ৬০হাজার মানুষের বসতি রয়েছে। এত্ত মানুষের সৃষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করাটা আসলেই মুশকিল। প্রতিটি ক্যাম্পে বিজ্ঞান সম্মত আধুনিক ট্রিটমেন্ট প্লান্টের প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করে এই ক্যাম্প ইনচার্জ বলেন,গৃহস্থালির বর্জ্যরে পাশাপাশি অন্যসব বর্জ্যও ব্যবস্থাপনার আওতায় নিয়ে আসতে পারলেই ক্যাম্পের আশেপাশের খাল-বিল দুষণমুক্ত রাখা সম্ভব।#

পাঠকের মতামত

 

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিএনপি জনগণের সরকার, সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ...

রাজাপালং ভেঙে হচ্ছে ‘উয়ালাপালং’ ইউনিয়ন, গণশুনানির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়ন বিভক্ত করে ‘উয়ালাপালং’ নামে নতুন একটি ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে ...

টেকনাফে ইউনিয়ন বিভক্তি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি; নেতৃত্বের দ্বন্ধে বাড়বে জন ভোগান্তি

কক্সবাজারের টেকনাফে নতুনভাবে কয়েকটি ইউনিয়ন করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানাগেছে। নাগরিক সেবা ত্বরান্বিত করতে উপজেলার ...

কক্সবাজারে বন্যা কবলিত বন্ধুর খোঁজ নিতে যাচ্ছিলেন, পথে প্রাণ গেল বন্ধুর

কক্সবাজারের পেকুয়ায় বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত বন্ধুর খোঁজ নিতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মো. মানিক উদ্দিন নাহিদ ...

কক্সবাজারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে ইয়াবা পাচার, আটক ৩

মাদক পাচারে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে সন্দেহ এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল ...