
উখিয়া নিউজ ডটকম::
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে গতকাল বুধবার মাদক, জঙ্গি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস বিরোধী এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন ইয়াবা কারবারিদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, এখনো সুযোগ আছে, এখনো সময় আছে, যদি নিজেকে সংশোধন করতে চান-নিজের জীবন বাঁচাতে চান, সুষ্ঠুভাবে-সম্মানজনকভাবে বসবাস করতে চান, নিজের দোষ স্বীকার করুন এবং ভালো হয়ে যান।
পুলিশ সুপার বলেন, সীমান্তের মাদক কারবারকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন-‘ সীমান্তের মাত্র গুটি কয়েক কারবারির কাছে রাষ্ট্র কখনো আত্মসমর্পণ করবে না। যারা ইয়াবা কারবার করবে তাদের ধ্বংস অনিবার্য। পুলিশের কাছে যাও, নিজের দোষ স্বীকার করো নিজেকে শুদ্ধ করো মাদক বিরোধী ভূমিকা পালন করো, যদি না করো তাহলে ধ্বংস হয়ে যাবে।’
টেকনাফ সীমান্তের সাবরাং ইউনিয়নের নয়াপাড়া আলহাজ্ব নবী হোসাইন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এ সমাবেশ। এতে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশ সভাপতিত্ব করেন। পুলিশ সুপার সভায় আরো বলেন, এই জেলায় এ পর্যন্ত ৫৫ জন লোক ক্রসফায়ারে মারা গেছে- যার মধ্যে ৫৩ জনই টেকনাফের। আমরা চাই না আর কোনো মায়ের বুক খালি হোক। তিনি বলেন, যারা মারা গেছে তার সম্পদ কোনো কাজে আসছে না।
মাদক সম্পর্কে টেকনাফ সীমান্তে ভুল ধারণা আছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, সেটা হচ্ছে মাদক কারবারকে খারাপ মনে না করা। যদি খারাপ মনে করতো তাহলে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে ইয়াবা কারবার করতো না। এই ভুল ধারণা পাল্টাতে হবে। পুলিশ সুপার ধর্মের কথা উল্লেখ করে বলেন, মাদক কারবারিরা এই দুনিয়াতে ঘৃণিত ব্যক্তি হিসাবে পরিচিত। তেমনি তারা পরকালেও কোনো কিছু পাবেন না।
ইয়াবা কারবারে জড়িত একজন হাফেজ সম্প্রতি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন বলে পুলিশ সুপার জানান। এই হাফেজ অকপটে সবকিছু স্বীকার করেছেন। কোরানের বাণী বুকের মধ্যে লালন করে ইয়াবা কারবার করা ব্যক্তি হয়তোবা এতদিন পরই বুঝতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, এই কোরানের বাণী যার ভেতরে এটার কোনো মূল্য আছে? যারা আত্মসমর্পণ করেছে স্কুল মাদ্রাসা করেছে মসজিদে টাকা দিয়েছে। এই টাকা দিয়ে মসজিদ মাদরাসা করার কোনো মূল্য আছে?
পুলিশ সুপার বলেন, নিরপরাধ কোনো লোক হয়রানির শিকার হলে আমাদেরকে বলবেন- সেটা অবশ্যই আমরা ভেরিফাই করে ব্যবস্থা নেব। যদি নিরীহ কোনো লোক পুলিশের মাধ্যমে কিংবা অন্য কোনো বাহিনীর মাধ্যমে হয়রানির মুখে পড়ে তাহলে আমাদের তথ্য দিন।
হুন্ডি চক্রের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে আরেকটা চক্র আছে যারা ইয়াবা কারবারিদের সহযোগী। তাদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, যদি বেঁচে থাকতে চান তাহলে কক্সবাজার থেকে এই কারবার ছেড়ে চলে যান, টেকনাফ ছেড়ে চলে যান। ইয়াবা আর হুন্ডি কারবার করবেন আবার টেকনাফে বসবাস করবেন সেটা অসম্ভব।
অনুষ্ঠানে উখিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাহিদ আদনান তাইয়ান বলেন, সমাজের গুটি কয়েক মাদক কারবারির জন্য সবাই দায়ভার নিতে পারেন না। তাই মাদক কারবারিদের তথ্য পুলিশকে জানানোর আহবান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, পুলিশ ইয়াবা কারবারিদের আকাশ থেকে মাটিতে নামিয়ে এনেছে। এখনো যারা ছদ্মবেশে অথবা আড়ালে এই কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের সবার তথ্য পুলিশের কাছে আছে।
সাবরাং ইউপি চেয়ারম্যান নুর হোসেন বলেন, মাদকের এই বদনাম নিয়ে আর আমরা থাকতে চাই না, ঘরে ঘরে মাদকের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলুন। অনুষ্ঠানে সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুফিজ উদ দোলা, নবী হোসাইন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উদয় শেখর দত্ত প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

পাঠকের মতামত