ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ০৩/১১/২০২৬ ৮:১৪ এএম

যশোরে বটি দিয়ে মায়ের দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া সেই আলোচিত হত্যার ঘটনার আসামি ছেলে মামুনুর রশিদ মামুন (৪৫) মারা গেছেন। খুলনা আড়াইশ বেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।

গত রোববার (১ নভেম্বর) রাত ৮টা ১০ মিনিটে হার্টঅ্যাটাক করে তার মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতালের চিকিৎসকের বরাদ দিয়ে খুলনা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলর সৈয়দ হাসান আলী জানিয়েছেন। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ মৃত্যুর ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

আর মাকে হত্যার সেই আলোচিত ঘটনাটি ঘটেছিল গত ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে যশোর সদর উপজেলার বাজে দুর্গাপুর গ্রামে।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ জানিয়েছেন, আসামি মামুন একটি হত্যা মামলার আসামি। তার হাজতি নম্বর ৫১০৫/২৫। গত রোববার তার কার্ডিয়াক অ্যাটাক হয়। সে সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাজতিকে খুলনা আড়াইশ বেড হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছিল। একই সঙ্গে খুলনা কারাগারের জেলারকে অবহিত করা হয়। খুলনা কারাগারের সদস্যরা হাসপাতালে তার প্রহরায় নিয়োজিত ছিলেন। রোববার রাত ৮টা ২০ মিনিটে মামুনুর রশিদ মামুন মারা যান। খুলনা কারাগারের জেলর সৈয়দ হাসান আলী জানিয়েছেন, হাজতির লাশ যথাযথ প্রক্রিয়ায় যশোরে পাঠানো হয়েছে। মামুন বাজেদুর্গাপুর গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেন মাস্টারের ছেলে। তিনি নিজেও যশোরের ঝিকরগাছার লাউজানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষক ছিলেন। আর তার মায়ের নাম আনোয়ারা বেগম (৫৮)।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, মামুনের দুটি বিয়ে হয়েছিল। ৮/৯ বছর আগে সদর উপজেলার ভেকুটিয়া গ্রামের মিথিলাকে বিয়ে করেছিলেন। বনিবনা না হওয়ায় মিথিলাকে তালাক দিয়েছিলেন মামুন। এরপর বিয়ে করেন ঝিকরগাছার অমৃতবাজার গ্রামের রিনাকে। বছর ছয়েক আগে রিনাও তালাক দিয়ে চলে যান। উভয় স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের কারণে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল। মামুন তার স্ত্রীদের সঙ্গে বিচ্ছেদের জন্য মাকে দায়ী মনে করতেন। এ নিয়ে এর আগেও মায়ের সঙ্গে তার বিরোধ ও মারপিটের ঘটনা ঘটেছিল।

এলাকাবাসি জানিয়েছে, পারিবারিক অশান্তির কারণে মামুন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি দুই থেকে তিন মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন।

স্থানীয়দের দাবি, মামুন দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে থাকতেন না। প্রায় পাঁচ বছর পর গত ২৭ আগস্ট তিনি।বাড়িতে এসছিলেন। বিকালে বাড়িতে এসে মায়ের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে মামুন উত্তেজিত হয়ে ধারালো। বটি দিয়ে আঘাত করলে আনোয়ারার শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে মামুন বটি ফেলে পালিয়ে গিয়েছিলেন। পর তিনি পুলিশে হাতে আটক হয়েছিলেন মামুন। এই ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা হয়েছিল। এই মামলায় মামুন যশোর কেন্দ্রীয় কারগারে আটক ছিলেন

পাঠকের মতামত

শাহপরীর দ্বীপে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম উত্তরপাড়ায় জমি নিয়ে পূর্বশরিয়তের জের ধরে কবির আহমদ চৌকিদারের ...