ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ২৬/০৪/২০২৫ ৫:১৪ পিএম

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ‘বেহেশতের লোভ দেখিয়ে’ এক মানসিক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধের প্রায় ৮৩ শতক জমি প্রতারণার মাধ্যমে লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আঞ্জুমান-এ রহমানিয়া আহমদীয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ২০০৪ সালের হলেও সম্প্রতি ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ জমিটি দখলে নেওয়ার উদ্যোগ নিলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং মৃতের পরিবারের সাথে উত্তেজনা তৈরি হয়।

ভুক্তভোগী এস্তফিজুর রহমান ২০০৭ সালে ৭৫ বছর বয়সে মারা যান। তার পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তিনি মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং ২০০৪ সালে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে, এমনকি তার জীবিত স্ত্রীকেও অন্ধকারে রেখে, ট্রাস্টের লোকজন তাকে ভুল বুঝিয়ে একটি দানপত্র দলিলে সই করিয়ে নেয়।

এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে গত বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) এস্তফিজুর রহমানের ছেলে আনোয়ারুল আজিম বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, বাঁশখালীর কালীপুর ইউনিয়নের পশ্চিম কোকদন্ডী গ্রামের বাসিন্দা এস্তফিজুর রহমানের ৮৩ শতক জমি ২০০৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি একটি দানপত্র দলিলের মাধ্যমে আঞ্জুমান ট্রাস্টের নামে লেখা হয়। দলিলে দাতার বয়স ৩৭বছর উল্লেখ করা হলেও প্রকৃতপক্ষে তখন তার বয়স ছিল আনুমানিক ৭২ বছর।

আনোয়ারুল আজিম বলেন, “আমার বাবা সহজ সরল ও মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। তিনি আঞ্জুমানের ভক্ত ছিলেন, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু লোক তাকে বেহেশতের লোভ দেখিয়ে এই কাজটি করেছে। দলিলে পরিবারের সম্মতির কথা লেখা থাকলেও আমরা কেউ কিছুই জানতাম না।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “কিছুদিন আগে ট্রাস্টের লোকজন আমাদের সাথে কথা বলে দলিল বাতিলের আশ্বাস দিয়েছিল, কিন্তু পরে আর যোগাযোগ করেনি। এখন তারা জায়গা দখল করে আমাদের উচ্ছেদের হুমকি দিচ্ছে। আমরা ইসলামী বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলেছি, তারাও বলেছেন পরিবারের অজান্তে অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তির কাছ থেকে এভাবে নেওয়া দান শরিয়তসম্মত নয়।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আঞ্জুমান ট্রাস্টের বাঁশখালী উপজেলা প্রতিনিধি মাওলানা আবদুর রহিম সিরাজী বলেন, “এস্তফিজুর রহমান সাহেব নিজেই আবেগপ্রবণ হয়ে জায়গাটি ট্রাস্টকে দান করেছেন। আমরা নিতে চাইনি। এখন আমরা তার পরিবারের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করছি। সেখানে পরিবারের সদস্যদের নিয়েই একটি খানকা শরিফ করার পরিকল্পনা আছে।”

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জামশেদুল আলম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “বৃহস্পতিবার একটি অভিযোগ পেয়েছি। পুরো বিষয়টি এখনো জানা হয়নি। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাদমের প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

পাঠকের মতামত

কক্সবাজারে স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়োগ, পরীক্ষায় অনুপস্থিত থেকেও উত্তীর্ণ!

কক্সবাজারে স্বাস্থ্য সহকারীসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষা ...

দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যশোরে ৮.৮ ডিগ্রি, টেকনাফে সর্বোচ্চ ৩১

শীতের তীব্রতা বাড়ায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যশোরে দেশের ...