প্রকাশিত: ২২/০৩/২০২২ ১১:২৩ এএম

মাত্র ১২ দিন আগেই গত ৯ মার্চ রাতে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল সেন্টারে ক্যানসার আক্রান্ত প্রেমিকা ফাহমিদা কামালকে বিয়ে করেছিলেন প্রেমিক মাহমুদুল হাসান। প্রেমিকার মৃত্যু আসন্ন জেনেও সংসারজীবনে বাধা পড়েছিলেন তারা। মৃত্যু যে অবধারিত ছিল তা জানতেন ফাহমিদা। কারণ চিকিৎসকেরা জানিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁর বাঁচার সম্ভাবনা নেই। তবুও প্রেমিক মাহমুদুলকে বিয়ে করার পর নতুনভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখেছিলেন।

কিন্তু স্বামীর হাত ধরে খুব বেশিদিন পৃথিবীতে থাকা হলো না তার। বিয়ের ১২ দিনের মাথায় আজ সোমবার সকালে বাকলিয়ায় নিজ বাসায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তার মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ফাহমিদার নানা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক জনসংযোগ কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন সাকী। ফাহমিদার নানা সাইফুদ্দিন সাকী জানান, ফাহমিদাকে আর বাঁচানো গেল না। তার কপালে জুটল না সুখের সংসার। আজ বাদ আছর ফাহমিদার নিজবাড়ি দক্ষিণ বাকলিয়া হাজী আবদুস সালাম মাস্টারের বাড়িতে নামাজে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। আক্ষেপ করে ফাহমিদার নানা বলেন, ‘মাহমুদুল বিয়ে করাতে অনেকটা সুস্থ হয়েছিল ফাহমিদা। বিয়ের পর নতুনভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু আমাদের ফাহমিদা এখন আর নেই।’

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ফাহমিদা রাজি না থাকলেও গত ৯ মার্চ হাসপাতালের শয্যাতেই প্রিয়তমাকে বিয়ে মাহমুদুল হাসান। সেদিন ফাহমিদা একদিনের জন্য পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেন। অসুস্থ হওয়ার আগের দিনগুলির মতোই সেদিন মুখে হাসি লেপ্টে ছিল। যে ফাহমিদা বিছানা ছেড়ে উঠতে পারতেন না, সেই তিনিই ওই দিন বিছানা থেকে উঠে বেনারসি শাড়ি পরেছেন। হাতে চুড়ি, গলায় অলংকার সাজে নতুন বউ সেজেছেন। আবার বরকে রিং পড়িয়ে দিয়ে অদল-বদল করেছেন গলার মালাও। সেই হাসপাতালেই চলে তাদের সুখের সংসার। মাঝে একদিন তারা গিয়েছিলেন বাসায়। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ফের হাসপাতালেই পেতেছেন তারা সংসার। কথা ছিল সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে নতুন করে সংসার শুরু করবেন ফাহমিদা ও মাহমুদুল। কিন্তু ক্যান্সারের কাছে হার মেনে না ফেরার দেশেই চলে গেলেন ফাহমিদা। পছন্দের মানুষটিকে নিয়ে সংসার করার স্বপ্ন আর পূরণ হলো না ফাহমিদার।

চকরিয়ার ছেলে মাহমুদুল হাসান নর্থ সাউথ থেকে এমবিএ আর চট্টগ্রাম নগরের দক্ষিণ বাকলিয়াতে জন্ম নেওয়া ফাহমিদা কামাল আইইউবি থেকে বিবিএ ও এমবিএ শেষ করেন। ফাহমিদা কামাল ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন ও শিউলি আক্তারের মেজ সন্তান। তারা দুই বোন, এক ভাই। বড় বোন থাকেন চীনে। ছোট ভাইটি বিবিএ পড়েন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন সাকী বলেন, ‘দক্ষিণ বাকলিয়ার আব্দুস ছিলাম মাস্টারের বাড়িতে আজ সকালে ফাহমিদা কামাল মৃত্যুবরণ করেন। ফাহমিদা কামাল দীর্ঘদিন ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। ভারতেও চিকিৎসা নিয়েছেন। কিন্তু সেখানকার চিকিৎসকেরা আশা ছেড়ে দেওয়ায় ফাহমিদাকে দেশে নিয়ে আসা হয়।

পাঠকের মতামত

কক্সবাজারের সাগরে ডুবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ২

কক্সবাজারের রামুর হিমছড়িতে সাগরে গোসল করতে নেমে তিন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আরও ...

কক্সবাজারে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগ, হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়েছে চিকিৎসক-নার্স

কক্সবাজারের কক্স ন্যাশনাল হসপিটালে প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর ...

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে ১৫ হাজার সাবান

কক্সবাজারের উখিয়ার থাইংখালী রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-২০) একটি কারখানায় প্রতিদিন গড়ে ১৫ হাজার সাবান উৎপাদিত হচ্ছে। ...

ইনানীতে অগ্নিকান্ড : ১০ মরদেহ শনাক্ত হলেও এখনো নিখোঁজ শিক্ষিকা

অন্যদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর স্বজনদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী রিসোর্টে অবস্থানকারী পর্যটকদের মধ্যে নিখোঁজের তালিকায় ছিলেন মোট ...