
কক্সবাজারের রামুর হিমছড়িতে সাগরে গোসল করতে নেমে তিন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আরও দুই পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। জানা গেছে, নিহত ও নিখোঁজদের মধ্যে তিনজন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে চারটার দিকে হিমছড়ির প্যাঁচার দ্বীপে মেরিনা রিসোর্টের জাদুঘর সংলগ্ন সৈকতে এ ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও লাইফগার্ড কর্মীরা অভিযান চালাচ্ছেন। উদ্ধার হওয়া তিনজনের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে হয়েছে বলে জানান হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সোলাইমান হোসেন।
তিনি জানান, গত ১৮ অক্টোবর ঢাকার উত্তরা থেকে সাত বন্ধু মিলে বান্দরবানের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে দুই দিন ভ্রমণ শেষে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা কক্সবাজারে পৌঁছান। দুপুর একটার দিকে হিমছড়ির প্যাঁচার দ্বীপের জাদুঘর সংলগ্ন ‘সৌরণেষ্ট’ নামের একটি রিসোর্টে ওঠেন। দুপুরের খাওয়া দাওয়া শেষে বিকাল চারটার দিকে তারা সমুদ্রে গোসল করতে নামেন।
তিনি আরও জানান, পর্যটকদের কেউই সাঁতার জানতেন না। গোসলের সময় কাছাকাছি কয়েকজন যুবককে পানিতে ডুবে যেতে দেখে তারা সাহায্যের জন্য এগিয়ে যান। এ সময় সাতজনই স্রোতের কবলে পড়ে ভেসে যেতে থাকেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন।
এ ঘটনায় নিহতরা হলেন, সাইবুল হক জিসান (২৩) ও আল মাহিবুর ইবনে মোকাররম (২৪)। অন্য নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। নিখোঁজ দুজনের মধ্যে একজন হলেন এসএম নাফিসুর রহমান নিবিড় (২৩)। অন্য নিখোঁজের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তাদের সঙ্গে বেড়াতে আসা অন্য চারজন হলেন, সামিন ইসরাত নাফি (২৩), রুহুল আমিন শাফি (২৩), ঐশ্বর্য অক্ষর (২৩), সুফি আমিন নাবিল (২২)।
নিহতের স্বজনেরা জানান, সাইবুল হক জিসান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। আল মাহিবুর ইবনে মোকাররম ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মুকাররম হোসেনের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) বিবিএর শিক্ষার্থী ছিলেন।
অপরদিকে নিখোঁজ এসএম নাফিসুর রহমান নিবিড় ঢাকার আজিমপুর এলাকার নাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
সাইবুল হক জিসানের বোন মাইশা হক বলেন, তারা ইতোমধ্যে দুর্ঘটনার খবর পেয়েছেন। তার বাবা কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।
আল মাহিবুর ইবনে মোকাররমের ভগ্নিপতি নাজমুস সাকিব বলেন, ‘গত সোমবার বন্ধুরা মিলে তারা বেড়াতে বের হয়েছিলেন। বুধবার বিকালে সাগরে গোসল করতে নেমে তারা দুর্ঘটনার শিকার হন।’
নিখোঁজ নিবিড়ের খালা শামীমা হক সোমা বলেন, ‘গত ১৮ অক্টোবর নিবিড় বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। প্রথমে তারা বান্দরবান যান। সেখান থেকে বুধবার কক্সবাজারে পৌঁছান। হঠাৎ এমন খবর পেয়ে পুরো পরিবার বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তারা কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।’
এদিকে জীবিত উদ্ধার হওয়া রাকিব বলেন, ‘আমরা পাঁচ বন্ধু মিলে চট্টগ্রাম থেকে বেড়াতে আসি। আমরা সকালে ইনানী যাই। দুপুর ১২টার দিকে বন্ধুরা মিলে সাগরে গোসলে নামি। হঠাৎ করে একটি গর্তে পড়ে যাই।’
হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সোলাইমান হোসেন জানান, ঘটনার পর নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও লাইফগার্ড কর্মীরা অভিযান চালাচ্ছেন।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ছুটে যায় আমরা। এসমস্ত বিপজ্জনক এলাকায় পর্যটকদের না নামার জন্য বলা ছিল। কিন্তু অনেকে তা মানছেন না। তাই বিপদে পড়ছেন।

পাঠকের মতামত