প্রকাশিত: ১০/০৯/২০২১ ৬:৫১ পিএম

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পেলেও থাকতে চান না সুন্দরী তরুণীরা। ক্যাম্প ছেড়ে জড়িয়ে পড়ছেন যৌন পেশায়। টাকার লোভে দালালদের হাত ধরে কক্সবাজারসহ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছেন এসব তরুণী। এতে রোহিঙ্গা যৌনকর্মীর সংখ্যা ব্যাপকহারে বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে নারী-শিশু পাচারও।
সুন্দরী তরুণীদের ক্যাম্প ছাড়ানোর নেপথ্যে রয়েছে দেশীয় ও রোহিঙ্গা দালাল চক্র। এ চক্রটি এখন বেশ সক্রিয়। প্রশাসন তৎপর থাকলেও বিভিন্ন কৌশলে নারী-শিশু পাচার চালিয়ে যাচ্ছে চক্রটি। যৌন পেশায় তাদের টার্গেট সুন্দরী তরুণীরা। বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে এসব তরুণীদেরকে ক্যাম্প থেকে সরিয়ে নিয়ে যায় এরা।

চলতি বছরের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৫৪ জন রোহিঙ্গা নারী পাচারের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হন। মালয়েশিয়া-মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে যৌনকর্মী হিসেবে ব্যবহার করা হয় এসব নারীদের। তবে কাগজপত্রে দেখানো হয় বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে।

উল্লেখ্য, ১৪ মে কক্সবাজারের আবাসিক হোটেল থেকে ১৭ তরুণীকে উদ্ধার করা হয় এবং তাদেরকে ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়। এছাড়াও দেশের অন্যান্য এলাকা থেকেও রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুদের উদ্ধার করা হচ্ছে।
২০ জুলাই ঢাকা থেকে দুই রোহিঙ্গা নারীকে উদ্ধার করে র‍্যাব। এ সময় দালাল চক্রের সদস্যদেরও আটক করা হয়। বাংলাদেশি পাসপোর্টের মাধ্যমে বিদেশে পাচারের চেষ্টা করছিল দালালরা। এর আগে সিলেট থেকে ১৪ জন রোহিঙ্গা নারী-শিশুকে উদ্ধার করেছিল পুলিশ।

কক্সবাজারে যৌনকর্মীদের নিয়ে কাজ করছে এনজিও সংস্থা নোঙর। রোহিঙ্গা নারীদের যৌন পেশায় জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি তারা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে।

নোঙরের নির্বাহী পরিচালক দিদারুল আলম রাশেদ বলেন, দরিদ্রতার সুযোগ নিয়ে রোহিঙ্গা তরুণীদের যৌনকাজে উদ্বুদ্ধ করছে দালাল চক্র। চাকরির নামে বিদেশে পাঠানো হলেও মূলত যৌন পেশায় জড়িয়ে পড়েন এসব তরুণীরা।

অভিযোগ রয়েছে, এসব রোহিঙ্গা তরুণী কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ছাড়াও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ভাড়া বাসা নিয়ে যৌনকাজ চালান। এছাড়া হোটেল-মোটেল কিংবা গেস্ট হাউসেও রয়েছে তাদের বিচরণ। মূলত তাদের খদ্দের ব্যবস্থা করে দেন দালাল চক্রের সদস্যরা।

বেসরকারি একাধিক সংস্থার মতে, রোহিঙ্গা যৌনকর্মীর সংখ্যা ২৫-৩০ হাজার হতে পারে। শুধু তাই নয়, ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন ঝুপড়ি ঘরেও চলে যৌনকাজ।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান জানান, বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে খদ্দেরসহ রোহিঙ্গা তরুণীদের আটক করে পুলিশ। জেলার কয়েকটি হোটেলে মূলত রোহিঙ্গা তরুণীরা এসব কাজ চালান। তাদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সুত্র: ডেইলি বাংলাদেশ

পাঠকের মতামত

স্ত্রীর লাশ বাড়িতে রেখে মসজিদে গেলেন আজান দিতে, নামাজরত অবস্থায় মুয়াজ্জিনের মৃত্যু

জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক তুলারামপুর ইউনিয়নের সন্তান শিহাবুর রহমান শিহাব জানান, মালিডাঙ্গা গ্রামের রোমান মোল্যার ...

উখিয়ায় জমি দখলের চেষ্টা, ভুক্তভোগীকে ‘মাদক কারবারি’ বানিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ

কক্সবাজারের উখিয়ায় জমি দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নিজের ভাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত ...

অনির্দিষ্টকালের জন্য রিয়াদের ফ্লাইট স্থগিত করল বিমান

‘অনিবার্য পরিচালনগত কারণ’ উল্লেখ করে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ...