
কক্সবাজারের উখিয়ায় জমি দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নিজের ভাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নুর হোছাইন (৫৫) নামের এক ব্যক্তি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, জমি দখলের বিরোধকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে তাঁকে ‘মাদক কারবারি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৩০ এপ্রিল সকাল আটটার দিকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের উখিয়ার ঘাট কাস্টমস এলাকার মোবারক পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত জাহেদ আলম (৩৫) ও অভিযোগকারী নুর হোছাইন আপন ভাই।
নুর হোছাইনের অভিযোগ, প্রায় ৩০ বছর আগে বাবার কাছ থেকে আলাদা হওয়ার পর তিনি নিজ অর্থ ও শ্রমে ৪০ শতক জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছেন। ওই জমিতে তাঁর বসতবাড়ি, বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও একটি পুকুর রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালের ১১ অক্টোবর তিনি ওই জমি বন্ধক রেখে করিম আলমের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। পরে বন্ধকমুক্ত করে জমিটি আবার ভোগদখলে নেন। সম্প্রতি জমির দাম বেড়ে যাওয়ায় জাহেদ আলমসহ তাঁর অন্য ভাইয়েরা জমি দখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন নুর হোছাইন।
এ নিয়ে পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরীর কাছে সালিশ দেওয়া হয়েছিল। সালিশে অন্য ভাইয়েরা জমি দখল করবেন না বলে মৌখিক অঙ্গীকার করেছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। তবে জাহেদ আলম প্রায় ২০ শতক জমি দখলে রেখেছেন বলে দাবি করেন নুর হোছাইন।
নুর হোছাইনের অভিযোগ, গত ৩০ এপ্রিল জমিতে দখলচেষ্টায় বাধা দিলে জাহেদ আলম তাঁকে গালিগালাজ ও মারধরের চেষ্টা করেন। এ সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান তিনি।
অভিযোগকারী জানান, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও সমাধান না হওয়ায় তিনি উখিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাহেদ আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জমিটি তাঁদের পিতার দখলে ছিল। পরে সালিসি বৈঠকের মাধ্যমে সবার মধ্যে ভাগ-বণ্টন করে দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য নুরুল আলম বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে সালিসি বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে। তবে আবারও তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা নষ্টে হলে আবার সালিসে বসে সমাধান করা হবে।

পাঠকের মতামত