ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ২১/০৪/২০২৪ ১১:১৪ এএম

মিয়ানমারে জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সংঘাতের বলি হচ্ছে রোহিঙ্গারা। প্রতিদিন গ্রাম ছাড়া হচ্ছে রোহিঙ্গারা। এপারে আসতে ওপারে নাফ নদীর তীরে ভিড় করেছে হাজারও রোহিঙ্গা। ভিডিও কলে চ্যানেল24 এর কাছে মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের বর্ণনা দিয়েছেন সেখানকার এক যুবক। নতুন করে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে জোরালো ভূমিকার কথা বলছেন কক্সবাজারের নাগরিক সমাজ। শক্ত অবস্থানের কথা বলছে প্রশাসন।

সংঘাতের কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের জন্য নাফ নদীর ওপারে জড়ো হচ্ছেন রোহিঙ্গারা। কেউ কেউ অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে চোরাই পথে। নাফ নদীর তীরে জড়ো হওয়ার গত তিন দিনের এমন কিছু ভিডিও এসেছে চ্যানেল24 এর কাছে। যাতে দেখা যাচ্ছে রোহিঙ্গারা দলে দলে ছুটছেন নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য। সবশেষ ১৭ এপ্রিল মংডুর উত্তরের গ্রাম মাঙ্গালায় জান্তা বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা করে আরাকান আর্মি। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে যোগ দেয় আরও একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। ত্রিমুখী সংঘর্ষের ফল ভোগ করতে হচ্ছে রোহিঙ্গাদের। একের পর এক গোলাবারুদ পড়ায় মাঙ্গালা ছেড়ে পেরাংপুর, বাজারপাড়া, শলাকা গ্রামে আশ্রয় নিচ্ছে তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাখাইনের মাঙ্গালার রোহিঙ্গা যুবক বলেন, দুই গ্রুপ যখন হামলা করে তখন তাদের গোলাবারুদ আমাদের বাড়িতে এসে পড়ে। তাই আমরা ভয়ে পালিয়ে এসেছি।

এদিকে রোহিঙ্গা নেতারা বলছেন, জান্তা বাহিনী এবং আরাকান আর্মি দু’পক্ষই চায় রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করতে।

রোহিঙ্গাদের সংগঠন এফডিএমএন আরসির বোর্ড সদস্য ছৈয়দ উল্লাহ বলেন, আমরা বার বার তাদেরকে বলেছি এদেশে না আসতে। প্রয়োজনে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে পালিয়ে থাকুক, তবু যেনো এপারে না আসে। কারণ আমরা ৭ বছরেও মিয়ানমার ফেরত যেতে পারিনি। যদি বাকিরাও চলে আসে তাহলে আরাকানে রোহিঙ্গাদের শেকড় হারিয়ে যাবে।

কক্সবাজারের স্থানীয়রা বলছেন, যে কোনভাবে ঠেকাতে হবে অনুপ্রবেশ। তবে প্রশাসনের দাবি, অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি-কোস্টগার্ডের পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।

কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, যদি রোহিঙ্গারা ঢুকে পড়ে তবে তাদেরকে ফেরত পাঠানো কঠিন হয়ে যাবে। সুতরাং আমাদের প্রত্যাশা থাকবে তারা যেনো বর্ডার অতিক্রম করতে না পারে।

কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক এইচএম নজরুল ইসলাম বলেন, পুরাতন রোহিঙ্গা দালালরা এবং মিয়ানমার থেকে মানুষ আনার জন্য স্থানীয় কিছু দালাল সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। এই মুহূর্তে আমি মনে করি প্রশাসন রোহিঙ্গা নিয়ন্ত্রণ বা অনুপ্রবেশ করা আগে দালালদের চিহ্নিত করা উচিত এবং তদেরকে আইনের আওতায় আনা উচিত।

কক্সবাজার টেকনাফের ইউএনও আদনান চৌধুরী বলেন, আমরা বিষয়টি প্রতিনিয়ত মনিটরিং করছি যেনো কোনো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে।

সংঘাতের শুরুতে নিজদেশে ফেরার ব্যাপারে রোহিঙ্গারা আরাকান আর্মিকে ঘিরে আশান্বিত হলেও এখন পর্যন্ত সংগঠনটি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি। উল্টো রোহিঙ্গাদের বিষয়ে তাদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।

পাঠকের মতামত

নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের দক্ষতা বাড়াতে উখিয়ায় দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ...

ভোটার হচ্ছেন রোহিঙ্গারা

মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরানোর চেষ্টার মধ্যে তাদেরকে লাখ ...

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প পরিদর্শনে গেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ...

লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই চলছে কক্সবাজারের অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতাল

কক্সবাজারে লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই চলছে অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। জেলার তালিকাভুক্ত ১৮০টি ...