প্রকাশিত: ২৭/০১/২০২২ ৯:১৬ এএম
সেন্ট মার্টিন দ্বীপে অধ্যক্ষ আবদুর রশিদের মালিকানাধীন ড্রিমার্স প্যারাডাইস নামের রিসোর্টে উঠছে নতুন ভবন। সম্প্রতি তোলা

বিশেষ প্রতিনিধি::

সেন্ট মার্টিন দ্বীপে অধ্যক্ষ আবদুর রশিদের মালিকানাধীন ড্রিমার্স প্যারাডাইস নামের রিসোর্টে উঠছে নতুন ভবন। সম্প্রতি তোলা

প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। গতকাল বুধবার কক্সবাজার ও সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মরত কর্মকর্তাদের এই নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, গতকাল বুধবারের কালের কণ্ঠে ‘নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই হচ্ছে হোটেল-রিসোর্ট’ শিরোনামে দ্বীপের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের তোড়জোড় বিষয়ে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
জানা গেছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় থেকে দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এমনিতেই দ্বীপটি প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা। ৪ জুন এক প্রজ্ঞাপনে সরকার সেন্ট মার্টিন দ্বীপসহ আশপাশের এক হাজার ৭৪৩ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া (এমপিএ) ঘোষণা করে। এ কারণে দ্বীপ ও দ্বীপ সন্নিহিত সাগরের পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করতে হবে।

অধিদপ্তরের নির্দেশনা পেয়ে আজ বৃহস্পতিবার থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরুর কথা জানিয়েছেন সেন্ট মার্টিন দ্বীপের পরিবেশ কার্যালয়ে কর্মরত সহকারী পরিচালক আজহারুল ইসলাম।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ জানিয়েছেন, সরকার দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ সেন্ট মার্টিনের পরিবেশ রক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আসছে। এ কারণে দ্বীপে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণে টেকনাফ থেকে নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের অনুমতি দেওয়া হয় না।
জেলা প্রশাসক বলেন, দ্বীপটির পরিবেশ-প্রতিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে আইনগত সহায়তা দেওয়ার জন্য ওই দ্বীপে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দিয়ে রাখা হয়েছে। দ্বীপে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ যাবতীয় উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে।

টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ চৌধুরী গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, দেশের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচয়ে দ্বীপে অবৈধভাবে ইট-কংক্রিটের কয়েক তলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এই ব্যক্তিদের প্রথমে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের স্মরণ করে দেওয়া হয়েছিল, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। তিনি আরো বলেন, দেশের প্রচলিত আইন-কানুনের কথা বলেও তাঁদের দমানো যায়নি। শেষ পর্যন্ত প্রচলিত আইনে মামলাও করা হয়েছে। মামলার অন্যতম আসামি রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রশীদ।

স্থানীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আদালতে চলমান মামলা মাথায় নিয়েই অধ্যক্ষ আবদুর রশীদ দ্বীপের তীরবর্তী সাগরের পানিছোঁয়া সৈকতে ‘ড্রিমার্স প্যারাডাইস’ নামের রিসোর্টটি রাতারাতি নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখেন। পরিবেশ অধিদপ্তর দ্বীপে এ রকম অবৈধভাবে নির্মিত এবং নির্মাণাধীন ২০টি রিসোর্টের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এর মধ্যে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন চেয়ারম্যানও দ্বীপের অবৈধ ভবন নির্মাণের কারণে পরিবেশ আইনের মামলার আসামি।

পাঠকের মতামত

টেকনাফে মাদক গডফাদারদের ১৮২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ক্রোকের প্রক্রিয়া,তালিকায় আছে যারা

মাদক কারবারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়া ১১৬ জন গডফাদারের ১৮২ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোকের ...

১৫ আগস্ট ঘিরে খিচুড়ি রান্নার অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানসহ দুই ভাই গ্রেপ্তার

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী যুবলীগ সহ-সভাপতি সোহেল রানা পবন ...
Single Page Footer