
ভোরের নিস্তব্ধতায় আবারও রক্তাক্ত হলো উখিয়ার পাহাড়। প্রশাসনের নীরবতায় চলতে থাকা অবৈধ পাহাড় কাটার সময় পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ে নুরুল আমিন (৩০) নামে এক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হেলাল নামের এক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় প্রকাশ্যে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করা হচ্ছিল। জীবিকার তাগিদে নুরুল আমিন এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত ছিলেন। ভোরের অন্ধকারে পাহাড়ের একটি বড় অংশ হঠাৎ ধসে পড়লে তিনি মাটির নিচে সম্পূর্ণ চাপা পড়েন।
নিহত নুরুল আমিন মির আহমদের ছেলে। তার জন্মস্থান চরপাড়া হলেও বর্তমানে তিনি জুম্মাপাড়ায় বসবাস করতেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনিই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাহাড় ধসের সঙ্গে সঙ্গে অন্য শ্রমিকরা আতঙ্কে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে মাটি সরিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতের পরিবারের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে উখিয়া থানার একটি সূত্র জানায়, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছে। মরদেহ সুরতহাল শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। অবৈধ পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, জালিয়াপালং এলাকায় রাত ও ভোরে নিয়মিত পাহাড় কাটা হলেও কার্যকর নজরদারি ছিল না। এতে একদিকে পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে প্রাণ হারাচ্ছেন শ্রমজীবী মানুষ।
এলাকাবাসী অবিলম্বে অবৈধ পাহাড় কাটা বন্ধ, ঘটনার সঙ্গে জড়িত হেলালসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিহত পরিবারের জন্য সরকারি ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনসহ প্রচলিত ফৌজদারি আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পাঠকের মতামত