প্রকাশিত: ১৪/১১/২০১৯ ১২:০৩ পিএম

মাহাবুবুর রহমান :
কক্সবাজার শহরের মাঝিরঘাট সংলগ্ন বাঁকখালী নদী এখন ডাম্পিং ষ্টেশনে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় একশত ট্রাক ময়লা ফেলা হচ্ছে এই বাকঁখালী নদী সংলগ্ন প্যারাবনে। এতে একদিকে নষ্ট হচ্ছে নদীর পানি এবং প্যারাবন অন্যদিকে ময়লা আবর্জনার দূর্গন্ধে দিশেহারা হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা। আবার ময়লা আবর্জনা ফেলে ভরাট হওয়া বাকঁখালী নদী দখল করতে ইতিমধ্যে প্রতিযোগিতায় নেমেছে চিহ্নিত ভুমিদস্যুরা। অনেকে সাইনবোর্ডও টাঙ্গিয়ে দিয়েছে। এদিকে পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে বিকল্প জায়গা না থাকায় মাঝিরঘাট এলাকার এই স্থানে ময়লা ফেলতে হচ্ছে। তবে এলাকাবাসীর দাবী এখানে ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তাই দ্রুত সেটা বন্ধ করা না হলে আন্দোলনে যাবেন তারা।
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে প্রতি দিন ময়লা আবর্জনা অপসারণের দায়িত্বে থাকা ট্রাক গুলো টেকপাড়া হয়ে মাঝির ঘাট সংলগ্ন বাকঁখালী নদীতে ফেলে আসছে বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা ময়লা আবর্জনা। ইসলামিয়া বরফ কলের পাশ থেকে শুরু করে কায়সার বরফ কলের সামনে থেকে মিজানের গ্যারেজের পাশের বিশাল বাকঁখালী নদীর জমি ইতিমধ্যে ভরাট করে ফেলেছে ময়লা আবর্জনা ফেলে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় বোরহান উদ্দিন বলেন, কয়েক মাস আগে থেকে দেখছি শহরের সব ময়লা আমাদের পাশে এনে ফেলছে আমরা প্রথমে মনে করেছিলাম হয়তো কিছুদিন কোন সমস্যার কারণে ফেলছে পরে দেখছি সংশ্লিষ্টরা এটাকে স্থায়ী ডাম্পিং ষ্টেশন হিসাবে চিন্তা করছে। ফলে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্তত ১০০ ট্রাক ময়লা এখানে এনে ফেলছে। এতে ইতিমধ্যে আমাদের পার্শবর্তি বাকঁখালী নদীর বিশাল অংশ ভরাট হয়ে গেছে এবং সেটা প্রতিণিয়ত হচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা স্থানীয় কাউন্সিলারের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও তিনি কোন সুরাহা দিতে পারেননি।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান বলেন, শহরের ময়লা এখানে ফেলার কারণে এখন ঠিকমত নিঃশ^াসও নিতে পারছিনা গন্ধের কারনে। আগে রাতে বা সন্ধ্যায় ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা নদীর পাড়ে খেলাধুলা করার জন্য যেত এখন তীব্র গন্ধের কারনে সেটাও বন্ধ হয়ে গেছে আর বৃষ্টি হলে গন্ধ আরো প্রকট হয়। আমার মতে বাকঁখালী নদীর প্যার‌্যাবন ভরাট করে এভাবে ময়লা ফেলা কোনভাবেই আইন সম্মত নয়। আর একটি আবাসিক এলাকায় এভাবে ময়লা ফেলতে পারে কিনা সেটাও কতৃপক্ষের ভেবে দেখা উচিত।
স্থানীয় আবছার উদ্দিন বলেন, একটি নদী ভরাট করে আবাসিক এলাকায় কিভাবে শত শত টন ময়লা ফেলতে পারে। এভাবে আর কিছুদিন চলতে থাকলে পুরু বাকঁখালী ভরাট হয়ে যাবে আর এই এলাকা একটি ময়লার ডিপুতে পরিণত হবে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের ময়লা আবর্জনা ফেলে ভরাট হওয়া বাকঁখালী নদী দখল করতে ইতি মধ্যে সক্রিয় হয়ে গেছে বেশ কয়েকজন চিহ্নিত ভুমিদস্যু। ইতিমধ্যে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে এবং নানা ভাবে নদীর জমি দখল করতে মরিয়া হয়ে পড়েছে তারা।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আলম বলেন, বিকল্প কোন জায়গা না থাকায় মাঝিরঘাট এলাকায় আপাতত ময়লা ফেলে হচ্ছে। তিনি জানান প্রতিদিন প্রায় ১২০ ট্রাক ময়লা সেখানে ফেলা হয়। আর পৌরসভার ডাম্পিং ষ্টেশন করার জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে জমি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে কিন্তু সেই জমি এখনো পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে পৌরসভার প্যানেল মেয়র-২ হেলাল উদ্দিন কবির বলেন, আমি যতটুকু জানি কোথাও বিকল্প জায়গা না থাকায় সেখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে। বিকল্প ব্যবস্থা হলেই সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধ হয়ে যাবে। সুত্র: দৈনিক কক্সবাজার

পাঠকের মতামত

নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের দক্ষতা বাড়াতে উখিয়ায় দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ...

ভোটার হচ্ছেন রোহিঙ্গারা

মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরানোর চেষ্টার মধ্যে তাদেরকে লাখ ...

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প পরিদর্শনে গেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ...