ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ০৯/০৫/২০২৬ ১১:৪৮ এএম

বান্দরবানের সীমান্তবর্তী জনপদ নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু। একসময় দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হিসেবে পরিচিত এই সীমান্ত জনপদ এখন ‘কুমিরের রাজ্য’ পরিচয়ে আলোচনায়। প্রায় ২৫ একর পাহাড়ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে ওঠা বিশাল এই কুমির প্রজনন কেন্দ্র বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম কুমির খামার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

খামারটিতে বর্তমানে আনুমানিক চার হাজার অস্ট্রেলীয় প্রজাতির কুমির রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে লালন-পালন শেষে এসব কুমির এখন রপ্তানির উপযোগী হয়ে উঠেছে বলে দাবি খামার কর্তৃপক্ষের। ইতোমধ্যে বিদেশি ক্রেতাদের আনাগোনাও বেড়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই বাংলাদেশ থেকে বিদেশে রপ্তানি হতে পারে তুমব্রুর কুমির।

শুক্রবার (৮ মে) সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পাহাড়ি সবুজে ঘেরা বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছোট-বড় জলাশয় তৈরি করে সেখানে রাখা হয়েছে কুমিরগুলো। কোথাও পানিতে নিশ্চুপ ভেসে আছে বিশাল আকৃতির কুমির, আবার কোথাও দলবেঁধে রোদ পোহাতে দেখা যায় তাদের। নিরাপত্তার জন্য চারপাশে নির্মাণ করা হয়েছে শক্তিশালী গাইড ওয়াল ও লোহার বেষ্টনী। খামারের ভেতরে প্রবেশের জন্য রয়েছে টিকিট ব্যবস্থা। প্রতিদিনই স্থানীয় দর্শনার্থী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পর্যটকরা এখানে ভিড় করছেন। বিদেশি পর্যটকদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো।

আরও পড়ুন : পদ্মায় জেলেদের বড়শিতে ধরা পড়লো বিলুপ্তপ্রায় মিঠা পানির কুমির
আরও দেখুন
Textiles & Nonwovens
পেপার
Paper
Newspapers
Office Supplies

খামারের টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা মো. আবু তাহের বলেন, ‘প্রতিদিনই স্থানীয় মানুষসহ বিদেশি পর্যটকরা এখানে আসেন। স্থানীয় দর্শনার্থীদের জন্য টিকিট মূল্য ৫০ টাকা এবং বিদেশিদের জন্য ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। শীতকাল ও সরকারি ছুটির সময় দর্শনার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়।’

তিনি জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে মা কুমির ডিম দেওয়ার কারণে টানা প্রায় তিন মাস খামারটি দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখা হয়। বাকি ৯ মাস খোলা থাকে।

আবু তাহের বলেন, ‘খামারটি শুরু হওয়ার পর এখনো বিদেশে কুমির রপ্তানি হয়নি। তবে বর্তমানে অনেক কুমিরই বড় হয়েছে। বিদেশি ক্রেতারা নিয়মিত খামার পরিদর্শনে আসছেন। আশা করছি, খুব দ্রুত রপ্তানি শুরু হবে।’

খামার সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে বাণিজ্যিকভাবে এই কুমির প্রজনন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। শুরুতে অস্ট্রেলিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে ৫০টি অস্ট্রেলীয় প্রজাতির কুমির আনা হয়েছিল। প্রতিটি কুমিরের দাম ছিল তিন লাখ টাকারও বেশি। পরবর্তীতে প্রজননের মাধ্যমে ধীরে ধীরে কুমিরের সংখ্যা বেড়ে বর্তমানে প্রায় চার হাজারে পৌঁছেছে।

ঘুমধুম-তুমব্রু কুমির প্রজনন কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জ মো. সায়েম রহমান বলেন, ‘এটি মূলত বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে। চারপাশে পাহাড়ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো থাকায় দর্শনার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কুমিরগুলোকে নিয়মিত মুরগি ও গরুর মাংস খাওয়ানো হয়। সার্বক্ষণিক দেখভালের জন্য কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছে। বর্তমানে খামারের অনেক কুমিরই রপ্তানির উপযোগী হয়েছে। বিদেশি ক্রেতারা এসে খামার ঘুরে দেখছেন। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই বিদেশে কুমির রপ্তানি করতে পারবো।’

স্থানীয়রা বলছেন, ‘কুমির খামারটি চালু হওয়ার পর সীমান্তবর্তী তুমব্রু এলাকায় পর্যটন সম্ভাবনা বেড়েছে। স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি এলাকার পরিচিতি ছড়িয়ে পড়েছে দেশ-বিদেশে।’

খামারটি দেখতে আসা দর্শনার্থী শেহজাদ হোছাইন বলেন, ‘তুমব্রুর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যিই অসাধারণ। পাহাড়ঘেরা পরিবেশে এত বড় কুমির খামার দেখতে আলাদা রোমাঞ্চ লাগে। মাঝে মধ্যেই এখানে ঘুরতে আসি।’

তিনি আরও বলেন, ‘খামারটি শুধু বাণিজ্যিক প্রকল্প নয়, এটি এখন বড় ধরনের পর্যটন কেন্দ্রেও পরিণত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে আসছে।’

স্থানীয়দের মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও আন্তর্জাতিক বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে তুমব্রুর এই কুমির খামার দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। একই সঙ্গে এটি হতে পারে পার্বত্য অঞ্চলের অন্যতম বড় পর্যটন আকর্ষণ।

পাঠকের মতামত

 

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিএনপি জনগণের সরকার, সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ...

রাজাপালং ভেঙে হচ্ছে ‘উয়ালাপালং’ ইউনিয়ন, গণশুনানির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়ন বিভক্ত করে ‘উয়ালাপালং’ নামে নতুন একটি ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে ...

টেকনাফে ইউনিয়ন বিভক্তি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি; নেতৃত্বের দ্বন্ধে বাড়বে জন ভোগান্তি

কক্সবাজারের টেকনাফে নতুনভাবে কয়েকটি ইউনিয়ন করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানাগেছে। নাগরিক সেবা ত্বরান্বিত করতে উপজেলার ...

কক্সবাজারে বন্যা কবলিত বন্ধুর খোঁজ নিতে যাচ্ছিলেন, পথে প্রাণ গেল বন্ধুর

কক্সবাজারের পেকুয়ায় বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত বন্ধুর খোঁজ নিতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মো. মানিক উদ্দিন নাহিদ ...

কক্সবাজারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে ইয়াবা পাচার, আটক ৩

মাদক পাচারে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে সন্দেহ এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল ...