প্রকাশিত: ০৫/০৪/২০১৯ ৯:৪০ এএম
ফাইল ছবি

আজিম নিহাদ :
সারাদেশে একের পর এক অগ্নিকান্ডের ঘটনায় উদ্বেগে রয়েছে বিদেশি দূতাবাসগুলো। খোঁজ খবর নিচ্ছে বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশিরা নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করছেন কি না।
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরে চাকরির সুবাদে প্রায় ৩ হাজারের মত বিদেশি অবস্থান করছেন। তাদের নিরাপত্তার খাতিরে কক্সবাজারের চারটি পাঁচ তারকা হোটেলের অগ্নি-নির্বাপন ব্যবস্থা সম্পর্কে দমকল বাহিনীর কাছে প্রতিবেদন চেয়েছে জার্মান দূতাবাস।
কক্সবাজার দমকল বাহিনী সূত্র জানায়, জার্মান দূতাবাস সম্প্রতি কক্সবাজারের চারটি পাঁচ তারকা হোটেল রয়েল টিউলিপ অ্যান্ড, সায়মন বীচ রিসোর্ট, ওশান প্যারাডাইস ও লংবীচ হোটেলের অগ্নি-নির্বাপন ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চেয়ে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে চিঠি দেয়। পরে অধিদপ্তর থেকে কক্সবাজার স্টেশনের কাছে জানতে চাওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে গত ৩০ মার্চ এ চারটি পাঁচ তারকা হোটেল পরিদর্শন করে প্রতিবেদন পাঠানো হয়।
ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চারটি পাঁচ তারকা হোটেলের মধ্যে লংবীচ হোটেল ও সায়মন বীচ রিসোর্ট অত্যন্ত অগ্নি-দূর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছে। ওশান প্যারাডাইস হোটেলের অগ্নি-নির্বাপন ব্যবস্থা মোটামুটি সন্তোষজনক। তবে রয়েল টিউলিপ সী-পার্ল হোটেলটি অত্যাধুনিক অগ্নি-প্রতিরোধ ও নির্বাপন ব্যবস্থায় পরিপূর্ণ।
অগ্নি-প্রতিরোধ ও নির্বাপক আইন অনুযায়ী স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে অগ্নি-নির্বাপন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য ২৫টি শর্ত মানতে করতে হয়। কিন্তু কক্সবাজারের বেশির ভাগ পাঁচ তারকা মানের হোটেলে এসব শর্ত শতভাগ মানা হয়নি। অথচ এসব হোটেলে সবচেয়ে বিদেশিরা অবস্থান করে।
দমকল বাহিনীর প্রতিবেদন অনুযায়ী, লংবীচ হোটেলে ৪০ শতাংশ অগ্নি-নির্বাপন ব্যবস্থা ঘাটতি রয়েছে। বড় কোন অগ্নি-দূর্ঘটনা ঘটলে মোকাবেলা করা কঠিন হবে পাঁচ তারকা এই হোটেলে। লংবীচ হোটেলকে অগ্নি-দূর্ঘটনার ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওশান প্যারাডাইস হোটেলে প্রায় ৯০ শতাংশ স্বয়ংসম্পূর্ণ রয়েছে অগ্নি-নির্বাপন ব্যবস্থা। পাঁচ তারকা এই হোটেলে তারপরও ১০ শতাংশ ব্যবস্থা ঘাটতি রয়েছে।
সায়মন বীচ রিসোর্টে অগ্নি-নির্বাপন ব্যবস্থা থাকলেও সবকিছুই অকার্যকর। গত ৩০ মার্চ দমকল বাহিনী পরিদর্শনে গিয়ে সবকিছু অকার্যকর অবস্থায় দেখতে পায়।
সায়মন বীচ রিসোর্টে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন ম্যানেজার সাফায়াত হোসেন। তিনি বলেন, সায়মন বীচ রিসোর্টে অগ্নি-নির্বাপনের ব্যবস্থা দেখা গেছে। কিন্তু সবকিছু অকেজো অবস্থায় ছিল। যার কারণে এটিকেও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে দ্রুত কার্যকর করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জার্মান দূতাবাস থেকে যে চারটি হোটেলের প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েল টিউলিপ এবং ওশান প্যারাডাইস ছাড়া বাকি দুটি অগ্নি-দূর্ঘটনার ঝুঁকিতে আছে। ঝুঁকিপূর্ণ এ দুটি ছাড়াও তারকামানের যেসব হোটেল রয়েছে সেগুলোও পরিদর্শন করে ‘ত্রুটি’ গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।
জানা গেছে, কলাতলীতে অবস্থিত হোটেল কক্স-টুডে, সী-গাল, বেস্ট-ওয়েস্টার্ন হেরিটেজ, নিসর্গ রিসোর্ট, সুইট সাদাফ, ওয়ার্ল্ড বীচ রিসোর্ট, সী-ওয়ার্ল্ড রিসোর্ট, উইন্ডি ট্যারেজের মতো তারকা মানের হোটেলগুলোতেও অগ্নি-নির্বাপন ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এসব হোটেলে অগ্নি-দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে রাতযাপন করে দেশি-বিদেশি হাজার হাজার পর্যটক।

পাঠকের মতামত

‘ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন মির্জা আব্বাস, দেশে ফিরতে লাগবে আরও কিছুটা সময়’

মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের থেরাপি চিকিৎসা উন্নতির ...

প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে মালয়েশিয়ায় স্বামী, ক্ষোভে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিলেন দ্বিতীয় স্ত্রী

প্রথম স্ত্রীকে রেখে দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় ছিলেন রফিউদ্দিন। এরই মধ্যে তার প্রথম স্ত্রী অন্য এক ...

কক্সবাজার লাইট হাউস দারুল উলুম মাদ্রাসা ও জামে মসজিদ দখলের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

কক্সবাজার পৌরসভাধীন কলাতলি লাইট হাউজ এলাকাস্থ দারুল উলুম লাইট হাউস মাদ্রাসার পরিচালনা, মার্কেট ও মসজিদের ...

রামুতে সূর্যের হাসির চিকিৎসা ক্যাম্প উদ্বোধন করলেন এমপি লুৎফুর রহমান কাজল

কক্সবাজারের রামুতে অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ক্যাম্প পরিচালনা করেছে সূর্যের হাসি ক্লিনিক। ...
Single Page Footer