
আবু সায়েমঃ 
কক্সবাজার জেলা কারাগারে ভূমিষ্ট হয়েছে এক নবজাতক শিশু। গতকাল(২৫ জুলাই) বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে শিশুটি জন্মগ্রহণ করেন। কারা সূত্র জানায়, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় টেকনাফ থানার জিআর ৭২১/১৮ মামলায় ছেনুয়ারা বেগম নামে এক নারী কারাগারে আগমন করেন। এরপর কারা কর্তৃপক্ষ মহিলা অন্তঃসত্ত্বা বিধায় মহিলা ওয়ার্ডে বিশেষ দেখভালের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। কক্সবাজার জেলা কারাগারের জেল সুপার বজলুর রশীদ আখন্দ উক্ত গর্ভবর্তী মহিলার যতœ এবং দেখাশুনার নির্দেশ দেন। গতকাল ঐ মহিলার প্রসব বেদনা শুরু হলে, সহকারী কারা সার্জন এর পরামর্শে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। স্বাভাবিকভাবে মহান আল্লাহর রহমতে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। সদ্য নবজাতক শিশুটির নামকরণ করা হয়েছে আব্দুল্লাহ । কক্সবাজার জেলা কারাগারের সুযোগ্য জেল সুপার বজলুর রশীদ আখন্দ সদ্য প্রসূত বাচ্চাটির নামকরণ করেন এবং নতুন বস্ত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী উপহার দেন মা ও শিশুর জন্য। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব , এবং মানুষ মানুষের জন্য এ প্রবাদটিকে বাস্তবে রুপ দিয়েছেন তিনি। মানুষের প্রতি ভালোবাসা, আন্তরিকতা দায়িত্ববোধ এবং ইহকাল ও পরকালে চিন্তা চেতনাকে স্মরণ করে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কার্যক্রম সম্পাদন করা প্রতিটি মানুষের মৌলিক কর্তব্য এবং ইহা তারঁ উপর বর্তায়। কিন্তু এসব কার্যক্রমকে বাস্তবায়ন করে দীর্ঘ সাড়ে ৩বছর যাবত যিনি কক্সবাজার জেলা কারাগারকে আগলে রেখেছেন একটি শৃঙ্খলার মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করেছেন , সুন্দর মডেল কারাগােের পরিণত করেছেন নিজের সন্তানের মতো কারাগারের বন্দিদের খোজঁ খবর নিয়েছেন কোন সমস্যা হলে প্রত্যেক মানুষের কাছে গিয়ে তা সমাধান করেছেন তিনি হলেন কক্সবাজার জেলা কারাগারের অভিজ্ঞ এবং সততার অনন্য প্রতীক জেল সুপার বজলুর রশীদ আখন্দ। ঠিক তেমনি ছেনুয়ারা বেগম যখন কারাগারে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় এসেিেছলেন যে মামলার হোক না কেনো ,তিনি কারা কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যতœ এবং পরম ভালোবাসায় রাখার জন্য । তিনি আরো বলেছিলেন, মহিলাটি যেহেতু গর্ভবতী, সেহেতু তাকে যেনো পুষ্টি জাতীয় খাদ্য সরবরাহ করা হয়। কারাগারের ভালোবাসার জ¦লন্ত প্রমাণ ফুটফুটে স¦াভাবিকভাবে এক ছেলে সন্তানের জন্ম। মহান আল্লাহর অশেষ কৃপায় মা ও ছেলে দুজনই ভালো আছেন। কীর্তিমানের মৃত্যু নেই , মানুষ বাচেঁ তারঁ কর্মের মধ্যে দিয়ে, বয়সের মধ্যে নহে, জেলা কারাগারের জেল সুপার আজ যদি বদলী সূত্রে অন্যত্রে চলে যান, মানুষ তারঁ স্মৃতিচারণ করবেন , এবং তারঁ সৃষ্ট সৃজনশীল কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করবেন। যোগদান করার পর থেকে তিনি তারঁ কারা কর্মীদের সাথে নিয়ে একাগ্রচিত্তে কাজ করে কারাভ্যন্তরে এবং বাহিরের চিত্র বদলে দিয়েছেন।
জেলা কারাগারের জেলার রীতেশ চাকমা বলেন, প্রত্যেকটি মানুষকে মৃত্যুুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা হিসেবে জনগণের সেবা করার জন্য আমি কারাগারে যোগদান করেছি। কক্সবাজার জেলা কারাগারে যোগদান করার পর থেকে আমি আমার মেধা ও মানসিক কার্যক্রমের মাধ্যমে যথার্থভাবে কাজ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছ্ ি। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে জেলা কারাগারে ধারণ ক্ষমতার ৮ গুণ বন্দি রয়েছে। ৪৫০০ জন বন্দি নিয়ে আমরা চরম বিপাকে রয়েছি। রাত দিন পরিশ্রম করে শৃঙ্খলার সাথে বন্দিদের আমরা স্বাস্থ্যসম্মত ভাবে রাখতে কাজ করছি। রাখিব নিরাপদ , দেখাবো আলোর পথ, এ স্লোগানকে ধারণ করে আমাদের পথচলা । বর্তমানে কারাগারের পরিবেশ বেশ চমৎকার । প্রতিটি বিষয়ে আমরা আমাদের কারাগারের নিরাপত্তা এবং বন্দিদের সুষ্ঠভাবে রাখার জন্য কর্মীদের কাজের প্রতি প্রেষণা সৃষ্টি করে সেবার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিচ্ছ্ ি। কারাগারে কেউ অসুস্থ হলে কারা সার্জনের মাধ্যমে চিকিৎসার করার জন্য আমরা তাদের বাইরে ও নিয়ে যাচ্ছি, এমনকি কারাগারে গর্ভবতী মহিলাদের জন্য আলাদা দেখভালের ব্যবস্থ কারা হয়। ফলশ্রুতিতে কক্সবাজার জেলা কারাগারে আমি যোগদানের পর থেকে অনেক নবজাতক শিশু সুষ্ঠুভাবে এবং স্বাভাবিক প্রাকৃতিক নিয়মে জন্ম গ্রহণ করেছেন। জেল সুপারের নির্দেশে আমরা আমাদের কারাগারের কাঠামো ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের গতিকে তরান্বিত করছি।
জেল সুপার বজলুর রশীদ আখন্দ বলেন, কারাগার হলো অপরাধ শোধনাগার । মানুষকে ভালো পথে ধাবিত করার জন্য এবং যে অপরাধে সে কারাগারে প্রবেশ করেছে আমরা চেষ্টা করি , তাদের বুঝিয়ে এবং মাসিক সভা আয়োজন করে মাদক বিরোধী এবং নানা ধরণের অপরাধ থেকে তারা যেনো ভবিষ্যতে বিরত থাকেন। দীর্ঘ সাড়ে ৩ বছর যাবত আমি কক্সবাজার জেলা কারাগারে নিয়োজিত রয়েছি, কিন্তু কাজ করতে গিয়ে বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিয়েছি। চার হাজারের অধিক বন্দিদের সুšদরভাবে রাখার জন্য রাত দিন পরিশ্রম করেছি। কারা কর্মীদের সাথে নিয়ে বর্তমান সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে যে জিরো টলারেন্স সেটা রুপান্তরিত করতে কারা কর্মীদের মাদকের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। ফলশ্রুতিতে আমরা ১০ বারের মতো প্রায় ৭০০০ পিস কারাবন্দিদের পেট থেকে ইয়াবা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। সামগ্রিক কার্যক্রম বিশ্লেষণ করলে কক্সবাজার কারাগারের পরিবেশ বেশ চমৎকার, এবং আজ সফলতার নিশ^াস ফেলছি । তিনি আরো বলেন,অন্তঃসত্তা অবস্থায় ছেনুয়ারা বেগম কারাগারে আগমন করেন। খোজঁ খবর নিতে গিয়ে আমি, ১ম দিন নির্দেশ দিয়েছি দেখভাল করার জন্য , এবং উন্নতমানের পুষ্টি জাতীয় খাদ্য দেওয়ার জন্য । আলহামদুলিল্লাহ মহান আল্লাহর অশেষ কৃপায় ঐ মহিলা ফুটফুটে স্বাভবাবিকভাবে এক ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছন। কারাগারের তত্বাবধানে মা ও ছেলে উভয় ভালো আছেন। বাকি জীবনটায় যেনো মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত থাকতে পারি এবং সবাই মিলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গঠনে অংশীদার হতে পারি।

পাঠকের মতামত