উখিয়া নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩/০৪/২০২৬ ৭:৩৫ এএম

দেশে তীব্র সংকটের মধ্যেও সীমান্ত দিয়ে পাচার হচ্ছে জ্বালানি তেলসহ নিত্যপণ্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়াতে কক্সবাজারের চোরাকারবারিরা পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে কৌশলে সমুদ্র উপকূল ব্যবহার করছে। এ ছাড়া রাতের আঁধারে মেহেরপুর সীমান্তে তেল পাচারে সক্রিয় রয়েছে সংঘবদ্ধ চক্র। এদিকে, পাচারের শঙ্কায় রাজশাহী সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

এসবের বাইরে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারীর সীমান্ত থেকে ১ হাজার ৩০০ লিটার জ্বালানি জব্দ করা হয়েছে। অবশ্য, বেশি দামের কারণে সিলেটে পাচারের শঙ্কা নেই। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য।
কক্সবাজার : জ্বালানি তেলসহ নিত্যপণ্য পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে কৌশলে সমুদ্র উপকূল ব্যবহার করছে চোরাকারবারিরা।

বিজিবি, কোস্ট গার্ডসহ অন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি থাকার পরও মিয়ানমারে জ্বালানি তেল ও নিত্যপণ্যের পাচার ঠেকানো যাচ্ছে না। প্রায় প্রতিদিনই এসব পণ্যের কিছু অংশ জব্দ করা হলেও থেমে নেই পাচার। মিয়ানমারে চলমান অভ্যন্তরীণ সংঘাতে মিয়ানমারে জ্বালানি তেলসহ নিত্যপণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। বেড়ে গেছে দামও।
সেখানে পেট্রোল-অকটেনের লিটার ৩০০ টাকা ছাড়িয়েছে। তাই পাচারকারীরা নিয়েছেন নতুন কৌশল। সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে এখন সমুদ্র উপকূলকে নিরাপদ রুট হিসেবে বেছে নিয়েছে তারা। এ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে উপকূলের ট্রলার ও জেলেদের নৌকা।
জানা গেছে, পাচারের নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে টেকনাফের শামলাপুর, বাহারছড়া ও শাহপরীর দ্বীপ, পৌরসভার জালিয়াপাড়া, চৌধুরীপাড়া ও উখিয়ার রেজুখাল, ইনানি, হিমছড়ি ও নাজিরারটেক পয়েন্ট।

এসব স্থান দিয়ে জ্বালানি তেল পাচাররোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থান নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাখাইন (আরাকান) রাজ্যে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে খাদ্যসামগ্রী, ইউরিয়া সার, জ্বালানি তেল ও ওষুধ। পাচারের তালিকায় সম্প্রদি যুক্ত হয়েছে বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ এসিড ও বারুদ। পণ্য পাচারে পাচারকারীরা নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সীমান্ত পথে নৌপথ ব্যবহার করছে। মিয়ানমারে সংঘাতময় পরিস্থিতিতে দেশটির অন্যান্য এলাকা থেকে পণ্যসামগ্রীও রাখাইনে পাঠানো বন্ধ রয়েছে। এসব কারণে আরাকান আর্মি-শাসিত রাখাইনে বিভিন্ন পণ্যের তীব্র সংকট চলছে। লোকজনের বেশির ভাগ চাহিদা মেটানো হচ্ছে বাংলাদেশের পণ্য দিয়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চোরাচালান কার্যক্রমটি একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। প্রথম স্তরে রয়েছে কয়েকজন সশস্ত্র রোহিঙ্গা সদস্য, যারা রাখাইন রাজ্য থেকে চাহিদা বা অর্ডার সংগ্রহ করে। দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল। যার মধ্যে পালংখালী ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্যের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। তৃতীয় স্তরে রয়েছে ছয়-সাতজনের একটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। যারা পণ্য সংগ্রহ, মজুত ও সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। মিয়ানমারে পাচারকালে গত এক বছরে কোস্টগার্ড ১৪ হাজার ৮৮১ লিটার ডিজেল ও ৩১ হাজার ২৭০ লিটার অকটেন জব্ধ করেছে। সেই সঙ্গে বেশ কয়েকজন পাচারকারীকেও আটক করা হয়েছে। বিজিবি রামুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, জ্বালানি তেলের এ সংকটকালে কোনো অবস্থাতেই যাতে তা পাচার না হয় সেজন্য বিজিবি কাজ করছে এবং পাচার রোধে কড়া নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

পাঠকের মতামত

 

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিএনপি জনগণের সরকার, সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ...

রাজাপালং ভেঙে হচ্ছে ‘উয়ালাপালং’ ইউনিয়ন, গণশুনানির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়ন বিভক্ত করে ‘উয়ালাপালং’ নামে নতুন একটি ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে ...

টেকনাফে ইউনিয়ন বিভক্তি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি; নেতৃত্বের দ্বন্ধে বাড়বে জন ভোগান্তি

কক্সবাজারের টেকনাফে নতুনভাবে কয়েকটি ইউনিয়ন করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানাগেছে। নাগরিক সেবা ত্বরান্বিত করতে উপজেলার ...

কক্সবাজারে বন্যা কবলিত বন্ধুর খোঁজ নিতে যাচ্ছিলেন, পথে প্রাণ গেল বন্ধুর

কক্সবাজারের পেকুয়ায় বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত বন্ধুর খোঁজ নিতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মো. মানিক উদ্দিন নাহিদ ...

কক্সবাজারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে ইয়াবা পাচার, আটক ৩

মাদক পাচারে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে সন্দেহ এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল ...