
কক্সবাজারে এক তরুণীকে সড়ক থেকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় আরেক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। মামলায় এ নিয়ে দুজন আসামি গ্রেফতার হয়েছেন।
গ্রেফতার মো. মনিরুল ইসলাম ওরফে হারবদল (৩৫) কক্সবাজার শহরের ঘোনারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি মামলার ২ নম্বর আসামি।
কক্সবাজার র্যাব-১৫ এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক মো. আবু সালাম চৌধুরী জানান, বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের একটি রাবার বাগান এলাকা থেকে ওই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে গত মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) সোলায়মান শামীম (২৩) নামে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকা থেকে কক্সবাজার এসেছিলেন তিন তরুণীসহ পাঁচ জন। গত রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে কক্সবাজারের কলাতলীর হোটেল-মোটেল জোনের মেরিন প্লাজায় ওঠেন তারা। পরদিন সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে সেখান থেকে দুই তরুণী বের হয়ে হেঁটে সুগন্ধা সড়কের পাশে রেস্তোরাঁয় খেতে যান।
পরে হোটেলে ফেরার সময় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় আসা পাঁচ যুবক দুই তরুণীর গতিরোধ করেন। তারা মেয়ে দুটির হাত-মুখ চেপে ধরে অস্ত্রের মুখে শহরের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের বিপরীতে রাজিউন নামে একটি কটেজে নিয়ে যায়। কটেজে প্রবেশের পরই দুই তরুণীকে আলাদা কক্ষে বন্দী করা হয়। বাদী অপর কক্ষের পরিস্থিতি জানতে না পারলেও তার ওপরে ভয়াবহ নির্যাতন চালানোর অভিযোগ করেন। নির্যাতনের এক পর্যায়ে জ্ঞান হারান তিনি।
পরদিন মঙ্গলবার সকালে তাদের দুজনকে একটি বাহনে (টমটম) করে নিয়ে যাওয়া হয় বাস টার্মিনাল এলাকায়। ওখানে ঢাকাগামী একটি বাসে তাদের তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু পথে ওই তরুণী অসুস্থতাবোধ করার কারণে বাস থেকে নেমে চিকিৎসার জন্য রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। ওই হাসপাতালে তরুণীকে চিকিৎসা দেন নুরুল হুদা মজুমদার নামে এক চিকিৎসক।
রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নুরুল হুদা জানান, ওই তরুণীর কাছে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন জানিয়ে পুলিশের সহযোগিতা চান। পরে রামু থানায় বিষয়টি জানিয়ে ভুক্তভোগীকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গত বুধবার সকালে ১৯ বছর বয়সী ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা দুজনকে আসামি করে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা করেছেন।
এদিকে র্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক আবু সালাম চৌধুরী জানিয়েছেন, গ্রেফতার হারবদল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতার আসামিকে শুক্রবার সকালে কক্সবাজার সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

পাঠকের মতামত