প্রকাশিত: ৩০/০১/২০২২ ১০:৩৯ এএম

সাগরে খরা কাটিয়ে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। যার কারণে ইলিশে সয়লাব কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। তবে ছোট ইলিশের দাম কম হলেও বড় ইলিশের দাম চড়া। এক’শো ছোটো ইলিশ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও দেড় কেজি ওজনের এক’শো ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায়। এতে ইলিশ নিয়ে জেলে এবং ট্রলার মালিকরা খুশি হলেও কিছুটা অস্বস্তিতে মৎস্য ব্যবসায়ীরা।

শনিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টা; সাগরে মাছ শিকার শেষে বাঁকখালী নদীর মোহনায় একে একে ভিড়ছে এফবি আব্দুল্লাহ, জায়েদ ও মায়ের দোয়া ট্রলার। প্রতিটি ট্রলারে রয়েছে ৩ থেকে ৫ হাজার ইলিশ। ঘাটে ভিড়তেই ঝুঁড়িতে ভরে ইলিশগুলো দ্র‍ুত নেয়া হচ্ছে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের পল্টুনে।
এফবি জায়েদ ট্রলারের মাঝি ইলিয়াছ আলী বলেন, টানা দুই মাস সাগরের কোথাও ইলিশ পাওয়া যাচ্ছিল না। কিন্তু হঠাৎ বঙ্গোপসাগরের টেকনাফ থেকে দূরে জাল ফেলতেই ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ে। টানা ১০দিন জাল ফেলে প্রায় ৫ হাজার ইলিশ মাছ পেয়েছি। এতপর শনিবার সকালে এসব মাছ বিক্রি করার জন্য কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ঘাটে আসা। আশা করি, ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকায় এসব ইলিশ বিক্রি করতে পারব।
এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ৩ হাজার ইলিশ। ফিশারিঘাটে ইলিশ বিক্রি করে পাওয়া গেল ৭ লাখ টাকা। তবে ইলিশের আকার ছিল ছোট। ট্রলারের মাঝি আব্দু রহিম বলেন, এত দিন ইলিশ গভীর সাগরে হারিয়ে গিয়েছিল, এখন উপক‚লের দিকে ছুটে আসছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। ফলে আশা করছি, আরও কিছুদিন ইলিশ ধরা পড়বে। দ্রæত ইলিশগুলো বিক্রি করে আবারও সাগরে মাছ শিকারে যাচ্ছি।

সরেজমিন দেখা যায়, শনিবার সকাল থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত গভীর সাগর থেকে ইলিশ ধরে বাঁকখালী নদীর ফিশারিঘাটে ভিড়েছে অর্ধ-শতাধিক ট্রলার। প্রতিটা ট্রলারে ইলিশের পাশাপাশি রয়েছে অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ। তবে ব্যবসায়ীদের দৃষ্টি ইলিশের দিকে। ট্রলারের ইলিশগুলো প্রথমে ডিঙিতে বোঝাই করা হয়। তারপর সেই ইলিশ আনা হয় ফিশারিঘাট পাইকারি মাছ বিক্রির বাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের পল্টুনে। এখান থেকে ব্যবসায়ীরা ইলিশ কিনে ট্রাক বোঝাই করে পাঠাচ্ছেন চট্টগ্রাম, ঢাকা, বগুড়া, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
অবতরণ কেন্দ্রের ঘাটে ইলিশের চাপ বাড়ায় বেড়েছে শ্রমিকদেরও ব্যস্ততারা। শ্রমিকরাও বলছে, আয় বেড়েছে তাদের।
মৎস্য শ্রমিক রহিম উদ্দিন বলেন, কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ৫’শোর বেশি শ্রমিক রয়েছে। গত দুই মাস ঘাটে মাছ কম আসাতে বেশ কষ্টে দিনযাপন করতে হয়েছিল। কিন্তু গত ৪ দিন ঘাটে প্রচুর ইলিশ আসছে। যার কারণে প্রতিদিনই ১২০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা আয় করছি।
ইলিশে সয়লাব মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের পল্টুন। বড় বড় ইলিশগুলো কিনে মজুদ করা হচ্ছে পল্টুনে। প্রতিটি ইলিশের ওজন ৮’শ থেকে ১ হাজার ৫০০ গ্রাম। বড় ইলিশ চড়া দামে কিনতে হচ্ছে বলেও জানালেন মৎস্য ব্যবসায়ীরা।
মৎস্য ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতিবছর মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ধরার মৌসুম। মাঝেমধ্যে এর ব্যতিক্রমও ঘটে। এবার শীত মৌসুমে ইলিশ বেশি ধরা পড়ছে। বিপুল ইলিশ ধরা পড়লেও দাম বেশি। কারণ, ঢাকার বাজারে ইলিশের চাহিদা অনেক। ইলিশের দাম ওঠানামা করে ঢাকার বাজার পরিস্থিতির ওপর। ইলিশের বাজার ধরতে ট্রলারগুলো ছুটছে সেন্ট মার্টিন-টেকনাফ উপকূলের দিকে।
কক্সবাজার মৎস্য বিভাগের তথ্য বলছে, গত বছর জেলায় আহরণ হয়েছিলো ১৫ হাজার ২৫৬ মেট্রিকটন ইলিশ। এবার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৭ হাজার মেট্রিকটন।

পাঠকের মতামত

টেকনাফে মাদক গডফাদারদের ১৮২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ক্রোকের প্রক্রিয়া,তালিকায় আছে যারা

মাদক কারবারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়া ১১৬ জন গডফাদারের ১৮২ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোকের ...

১৫ আগস্ট ঘিরে খিচুড়ি রান্নার অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানসহ দুই ভাই গ্রেপ্তার

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী যুবলীগ সহ-সভাপতি সোহেল রানা পবন ...
Single Page Footer