প্রকাশিত: ২২/০৩/২০১৯ ৮:১০ এএম

জসিম উদ্দীনঃ
উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নে ভাদিতলী গ্রামে লাকড়ি চুরির অপবাদে স্থানীয় দুই শিশুকে মোটা রশি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক মারধর ও মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১মার্চ) দুপুরের দিকে উপজেলা পালংখালী ইউনিয়নের ভাদিতলী গ্রামের গোলাম বাড়ি রোডের ভিতরে একটি সোমিলে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষকারীরা জানায়, পালংখালী গোলাম বাড়ি রোডের ভিতরে ব্যবসায়ী গফুর, ফয়সালসহ কয়েকজনের মালিকানাধীন অবৈধভাবে গড়ে উঠা, স’মিল গাছের সাথে রশি দিয়ে বেঁধে আরাফাত হোসেন ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম নামের দুই শিশুকে অমানবিক ও অমানুষিক ভাবে নির্যাতন করে আরেক রোহিঙ্গা।সিরাজুল মোনতাহা নামের এক প্রত্যক্ষকারী জানান, পাহারাদার রোহিঙ্গা হোসেন আহমেদ (প্রকাশ) ধলাইয়াবার মধ্যযুগীয় কায়দায় শিশু আরাফাত হোসেন ও মোহাম্মদ ইব্রাহিমের উপরে অমানবিক নির্যাতন চালায়। তাদের চিৎকার শোনে আশে পাশের লোকজন দুই শিশুকে উদ্ধার করে। স্থানীয় ক্লিনিকে তাদের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
নির্যাতিত শিশু দুই ভাই আরফাত ও ইব্রাহিম পালংখালী ইউনিয়নের হালু ফকিরের ঘোনার মোহাম্মদ হোসেনের সন্তান। তারা সহোদর।
তাদের পিতা মোহাম্মদ হোসেন জানান, নির্যানতকারী ও মারধর কারী রোহিঙ্গা হলেও স’মিলটির মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় এখনো থানায় অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তিনি কাঁদতে কাঁদতে আরো বলেন, আমি গরীব ও একজন রোহিঙ্গা বলে আমার শিশুদের গাছের সাথে বেঁধে মারধর করার সাহস পেয়েছে।
এ ব্যাপারে নির্যাতনকারী পাহারাদার রোহিঙ্গা হোসেন আহমেদ (প্রকাশ) ধলাইয়াবার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, স’মিলের মালিকরাই দুই শিশুকে বেঁধে মারধর করতে বলেছে। যাতে আর কেউ কোনদিন লাকড়ি চুরি করার সাহস না পায়।মিলটির মালিক ব্যবসায়ী মেসার্স গফুর এন্টারপ্রাইজের গফুর এ প্রতিবেদককে বলেন, আমার পাহারাদার শিশু পিটিয়েছেন, মারধর করেছেন তাতে আপনার কি সমস্যা?
তিনি আরো বলেন, হেডাম থাকলে থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ দিতে বলেন। আপনিও লিখেন। তার বক্তব্যের রের্কড অক্ষত রয়েছে এ প্রতিবেদকের কাছে।
অপর মালিক ফায়সালকে তথ্য ও ঘটনা সম্পর্কে অবগত করে জানতে চাইলে তিনিউখিয়াতে যাওয়ার জন্য এ প্রবেদককে অনুরোধ জানান এবং পরে আবারো ফোনে কথা বলবে বলে লাইন বিছিন্ন করে দেন।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল হক বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। তবে এ ব্যাপারে আমার কিছু করার ক্ষমতা নেই।পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আমি এখনো জানিনা। খোঁজ খবর নিয়ে দেখব।তিনি বলেন, ওই এলাকায় সন্ত্রাসীদের প্রভাব বেশি। তাই বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করছি।এ ব্যাপারে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল খায়ের বলেন, বিষয়টি নিয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। আমি আপনার কাছে শুনেছি। শিশু নির্যাতন করা হলে খুবই অমানবিক হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের ছাড় দেয়া হবেনা। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেব। সুত্র: সিবিএন

পাঠকের মতামত

লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই চলছে কক্সবাজারের অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতাল

কক্সবাজারে লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই চলছে অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। জেলার তালিকাভুক্ত ১৮০টি ...

পালংখালীর ১নং ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য পদে সিরাজের প্রার্থিতা ঘোষণা, দোয়া ও সমর্থন কামনা

কক্সবাজারের সীমান্তঘেঁষা উখিয়া উপজেলার ৫নং পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের ১নং (কাস্টমস) ওয়ার্ড থেকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ ...

অষ্টাদশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় সিভিল জজ হলেন উখিয়ার রিদুয়ান

অষ্টাদশ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ/জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ...