প্রকাশিত: ০৩/০৭/২০২২ ১২:৫৬ পিএম

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের কোরবানির পশুর হাটগুলোতে বেচা-বিক্রি শুরু হয়েছে। তবে উপজেলা দুটির হাটগুলো ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ গরু কিনে নিচ্ছেন রোহিঙ্গারা। নিজেদের টাকায় কোরবানি দেবেন তারা।

রোহিঙ্গাদের মধ্যে গরু বিক্রির জন্য ক্যাম্পের আশপাশে পশুর অস্থায়ী হাটও বসেছে। সেসব হাট থেকে দেদার গরু কিনে নিচ্ছেন তারা। রোহিঙ্গারা হাটের গরু এভাবে কিনে নিয়ে যাওয়ায় এবার উখিয়া-টেকনাফের লোকজনের কোরবানির পশু সংকট দেখা দিতে পারে।

শনিবার উখিয়ার দারোগা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বাজারে শত শত গরু বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্রেতাই রোহিঙ্গা। আব্দুল করিম নামে এক বিক্রেতা জানিয়েছেন, তিনি উখিয়ার টাইপালং এলাকা থেকে একটি গরু নিয়ে এসেছিলেন। সেটি এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে লম্বাশিয়া ক্যাম্পের এক রোহিঙ্গার কাছে বিক্রি হয়েছে।

ছগির আহম্মদ নামে আরেক বিক্রেতা জানিয়েছেন, ঘরের দুটি গরু হাটে এনেছিলেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কয়েকজন দুই লাখ পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে দুটিই কিনে নিয়ে গেছেন।

উখিয়ার দারোগা বাজার হাটের ইজারাদার জানিয়েছেন, হাটে পশু বেচা-বিক্রি জমে উঠেছে। ক্রেতাদের কে বাংলাদেশি আর কে রোহিঙ্গা, তা বোঝা মুশকিল।

উখিয়ার মরিচ্যাবাজারের পশুর হাটেও গত বুধবার কোরবানির জন্য প্রচুর গরু-মহিষ বিক্রি হয়েছে। অধিকাংশ গরু রোহিঙ্গারা কিনে নিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।

কোরবানিকে সামনে রেখে উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী ও থাইংখালীতে কয়েকটি অস্থায়ী পশুর হাট বসানো হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা রোহিঙ্গাদের কাছে গরু বিক্রির জন্য এসব হাট বসিয়েছেন।

অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি উখিয়ার সভাপতি শরিফ আজাদ বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের লোকজন মিয়ানমার থেকে ইয়াবা এনে বিক্রি করে অনেক টাকার মালিক হয়ে গেছে। তাই তারা নিজেদের টাকায় কোরবানি দিতে শুরু করেছে। রোহিঙ্গারা এখন আর কোরবানির ত্রাণের মাংসের জন্য বসে থাকে না।

উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গারা ব্যক্তিগতভাবে কোরবানি দেওয়ার জন্য যেভাবে বাজার থেকে গরু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন, তাতে করে এখানের স্থানীয়দের মধ্যে কোরবানির গরুর সংকট সৃষ্টি হবে।

ফালংখালী ইউনিয়ন পরিষদেন চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, কয়েকজন প্রভাবশালী রোহিঙ্গাদের মধ্যে গরু বিক্রির জন্য থাইংখালী ও বালুখালী ক্যাম্পের পাশে অস্থায়ী হাট বসিয়েছেন। হাটগুলোর কোনো বৈধ অনুমোদন নেই। হাট থেকে ইজারার নামে চাঁদাবাজি করছেন প্রভাবশালীরা। সুত্র: সমকাল

পাঠকের মতামত

 

২০ টনের বেশি বর্জ্য অপসারণ, স্থায়ী সমাধানে ডাম্পিং স্টেশন চায় বিডি ক্লিন উখিয়া

দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা আন্দোলনের অংশ হিসেবে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন উখিয়া টিমের উদ্যোগে ১৪তম পরিচ্ছন্নতা অভিযান ...

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিএনপি জনগণের সরকার, সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ...

রাজাপালং ভেঙে হচ্ছে ‘উয়ালাপালং’ ইউনিয়ন, গণশুনানির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়ন বিভক্ত করে ‘উয়ালাপালং’ নামে নতুন একটি ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে ...

টেকনাফে ইউনিয়ন বিভক্তি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি; নেতৃত্বের দ্বন্ধে বাড়বে জন ভোগান্তি

কক্সবাজারের টেকনাফে নতুনভাবে কয়েকটি ইউনিয়ন করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানাগেছে। নাগরিক সেবা ত্বরান্বিত করতে উপজেলার ...

কক্সবাজারে বন্যা কবলিত বন্ধুর খোঁজ নিতে যাচ্ছিলেন, পথে প্রাণ গেল বন্ধুর

কক্সবাজারের পেকুয়ায় বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত বন্ধুর খোঁজ নিতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মো. মানিক উদ্দিন নাহিদ ...

কক্সবাজারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে ইয়াবা পাচার, আটক ৩

মাদক পাচারে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে সন্দেহ এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল ...