উখিয়া নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩০/০৪/২০২৬ ২:৪৮ পিএম

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় কেটে নতুন করে বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশনের ব্লক-ই এলাকায় পাহাড় কেটে ১০ ফুট প্রশস্ত রাস্তা এবং প্রায় ৮৮৮টি নতুন শেল্টার (আশ্রয়কেন্দ্র) নির্মাণের এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সংশয় দেখা দিয়েছে।

অনেকের মতে, এই ধরনের বড় আকারের অবকাঠামো নির্মাণ রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদী বা স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে রাখার একটি সূক্ষ্ম প্রক্রিয়ার অংশ।

​শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলছেন, “তারা আমাদের অবগত করেই এই নির্মাণ কাজ করছে। যেখানে শেল্টার করা হচ্ছে সেখানে আগেও এমন শেল্টার ছিল, কয়েক বছর আগে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ভেঙ্গে দেন। এখন আবার করা হচ্ছে।”

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশনের ই-ব্লকে বর্তমানে ব্যাপক স্কেলে পাহাড় কাটার কাজ চলছে। প্রায় ১০ ফুট প্রশস্ত রাস্তা তৈরি করা হয়েছে যাতে বড় যানবাহন অনায়াসে চলাচল করতে পারে। পরিবেশবাদীদের মতে, বর্ষা মৌসুমের আগে এভাবে পাহাড় কাটার ফলে বড় ধরনের ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যা ওই এলাকায় বসবাসরত রোহিঙ্গাদের জন্য জীবনঘাতী হতে পারে।

প্রকল্পের আওতায় ৮৮৮টি নতুন ঘর নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। যদিও আইএনজিও ও এনজিওগুলোর পক্ষ থেকে এটিকে নিয়মিত “রিলোকেশন” বা “ঘনত্ব কমানোর” পদক্ষেপ হিসেবে দাবি করা হচ্ছে, তবে ঘরের স্থায়িত্ব এবং অবকাঠামোগত ধরন দেখে স্থানীয়রা একে স্থায়ী পুনর্বাসন হিসেবেই দেখছেন স্থানীয়রা।

​স্থানীয়দের ও সচেতন মহলের উদ্বেগ

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এনজিও এবং আইএনজিওগুলো আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য সুযোগ-সুবিধা এমনভাবে বৃদ্ধি করছে, যা পরোক্ষভাবে তাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় প্রতিনিধি বলেন, “পাহাড় কেটে যেভাবে পাকা রাস্তা ও আধুনিক ব্লক তৈরি করা হচ্ছে, তাতে মনে হয় না এরা কখনো চলে যাবে। এনজিওগুলো তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থে রোহিঙ্গাদের এখানে স্থায়ী করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।”

এদিকে এই বিশাল নির্মাণকাজের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারিভাবে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও মাঠ পর্যায়ে এনজিওগুলোর বিশাল বিনিয়োগ ও অবকাঠামো নির্মাণ সেই প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

​বিশ্লেষকদের মতে, মানবিক সহায়তার নামে পরিবেশ ধ্বংস করে এভাবে অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধ করা প্রয়োজন। অন্যথায়, কক্সবাজারের প্রাকৃতিক ভারসাম্য যেমন নষ্ট হবে, তেমনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াও জটিলতর হয়ে পড়বে

পাঠকের মতামত

 

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিএনপি জনগণের সরকার, সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ...

রাজাপালং ভেঙে হচ্ছে ‘উয়ালাপালং’ ইউনিয়ন, গণশুনানির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়ন বিভক্ত করে ‘উয়ালাপালং’ নামে নতুন একটি ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে ...

টেকনাফে ইউনিয়ন বিভক্তি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি; নেতৃত্বের দ্বন্ধে বাড়বে জন ভোগান্তি

কক্সবাজারের টেকনাফে নতুনভাবে কয়েকটি ইউনিয়ন করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানাগেছে। নাগরিক সেবা ত্বরান্বিত করতে উপজেলার ...

কক্সবাজারে বন্যা কবলিত বন্ধুর খোঁজ নিতে যাচ্ছিলেন, পথে প্রাণ গেল বন্ধুর

কক্সবাজারের পেকুয়ায় বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত বন্ধুর খোঁজ নিতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মো. মানিক উদ্দিন নাহিদ ...

কক্সবাজারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে ইয়াবা পাচার, আটক ৩

মাদক পাচারে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে সন্দেহ এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল ...