উখিয়া নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১/০১/২০২৪ ৯:৫৫ এএম
ফাইল ছবি

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় ‘এক মাসের মধ্যে’ একটি পাহাড় কেটে প্রায় এক একর জায়গা সমভূমিতে পরিণত করা হয়েছে। অথচ এই পাহাড়ের আধা কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে বন বিভাগের বিট কার্যালয়। শনিবার (২০ জানুয়ারি) সেখানে পাহাড় কাটতে গিয়ে এক শ্রমিক মারা গেলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বন বিভাগ ও পরিবেশ দপ্তর এসব বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু মামলা দিয়েই দায় সারছে বলে পরিবেশবাদীরা অভিযোগ করেছেন।

পাহাড়টি উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের বায়তুশ শরফ এলাকায়। নিহত মুসলেম উদ্দিন উপজেলার পাইন্যাশিয়া চাককাটা এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। এ বিষয়ে বন বিভাগ বলছে, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে বন বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ৭টি মামলার পরও পাহাড় কেটে চলেছেন হেলাল ও সরওয়ার নামে দুই যুবক।

উখিয়া থানার ওসি মো. শামীম হোসেন বলেন, ভোর সাড়ে ৫টায় মুসলেম উদ্দিন স্থানীয় হেলাল কোম্পানির ডাম্পার ট্রাক নিয়ে পাহাড়ে মাটি কাটতে যান। এ সময় হঠাৎ করে বড় একটি মাটির চাক ও গাছের ধারালো শেকড় এসে তার অণ্ডকোশে ঢুকে যায়। অন্য শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান ওসি।

ঘটনার পর উখিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সালে আহমদ, বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা ফিরোজ আল আমিনসহ পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে যান।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে ভয়াবহ পাহাড় কাটার দৃশ্য। এক একরের বেশি পাহাড় কেটে ইতোমধ্যে সমতল ভূমিতে পরিণত করেছে চক্রটি। পাহাড় কেটে সেই মাটি ডাম্পার ট্রাকে করে নিয়ে বিক্রি করে ফেলা হয়েছে বলে জানান বন বিভাগের ইনানি রেঞ্জ কর্মকর্তা ফিরোজ আল আমিন। তিনি বলেন, ওই এলাকার মৃত কাসেমের ছেলে হেলাল উদ্দিন ও সরওয়ার নামের অপর এক যুবকের নেতৃত্বে গত এক মাসে এই পাহাড় কাটা হয়েছে। বিষয়টি তাদের জানা ছিল না। এই দুজনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই বন বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তর সাতটি মামলা করেছে, যা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ ছাড়া কয়েক মাস আগে পাহাড়ের মাটিসহ হেলালের ডাম্পারও জব্দ করেছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। ফিরোজ আল আমিন বলেন, এ ব্যাপারে আবারও মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে।

এসব বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এনভায়রনমেন্ট পিপলের প্রধান নির্বাহী রাশেদুল মজিদ। তিনি বলেন, পাহাড় কাটার যে চিত্র দেখা গেছে তা ভয়াবহ। ঘটনাস্থলের আধা কিলোমিটার এলাকায় বন বিভাগের বিট কার্যালয়। অথচ বন বিভাগ বিষয়টি জানে না বলে দাবি করছে। বন বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তর শুধু মামলা দিয়ে দায়িত্ব শেষ করার চেষ্টা করছে। ফলে বন্ধ হচ্ছে না পাহাড় কাটা।

পাঠকের মতামত

টেকনাফে জনতার বিক্ষোভের মুখে গণশুনানি পন্ড; কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতা অবরুদ্ধ!

“ইউনিয়ন বিভক্তি হলে আমরণ অনশন করবো” “বর্গকিলোমিটারের অজুহাতে ইউনিয়ন বিভক্তি চাই না” “ইউনিয়ন বিভক্তি হলে ...

কক্সবাজারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জীবন দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা গাইডলাইন অনুমোদন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জীবন দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা (এলএসবিই) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গাইডলাইন উপস্থাপন ও অনুমোদনবিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত ...

ইয়াবা কারবার, অপহরণ ও আধিপত্য বিস্তারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আতঙ্কে উখিয়া-টেকনাফ

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সংঘবদ্ধ অপরাধ, সশস্ত্র তৎপরতা ও অপহরণ বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের ...

টেকনাফের ‘জাফর চেয়ারম্যান’ দুনীর্তির দায়ে ৭ বছরের সাজা নিয়ে কারাগারে

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদকে সম্পদের তথ্য গোপন এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ ...

অপহরণ-সন্ত্রাসে জনশূন্য জুম্মাপাড়া, আতঙ্কে ঘরছাড়া ২০০ পরিবার

রহমত উল্লাহ • কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের জুম্মাপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে অপহরণ আতঙ্ক বিরাজ ...
Single Page Footer