প্রকাশিত: ০৮/০৮/২০১৭ ৯:৩০ পিএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৩:৩০ পিএম

জাহাঙ্গীর আলম, ইনানী::
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার বিশ্বের দরবারে সৌন্দর্য্যরে বেলাভূমি হিসেবে পরিচিত। এই দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের সৌন্দর্য্যে বর্ধনে অন্যতম ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে সৈকতের শামুক ও ঝিনুকগুলো। বাংলাদেশের সৌন্দর্য্যরে অন্যতম স্থান কক্সবাজার সৈকতের পাশাপাশি দৃষ্টিনন্দন ও দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন পর্যটক স্পট। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে দেশের সর্বদক্ষিণ উপজেলা টেকনাফ পর্যন্ত বিভিন্ন দর্শনীয় স্পট জুড়ে গড়ে উঠেছে শামুক ও ঝিনুক ব্যবসায়ীদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সিন্ডিকেট। তার মধ্যে অন্যতম স্পট কলাতলী, দরিয়া নগর, হিমছড়ি, ইনানী, পাটোয়ার টেক, শামলাপুর, টেকনাফ এলাকা থেকে নিয়মিত শামুক ঝিনুক আহরণ করা হচ্ছে। যার ফলে সমুদ্রের ভাঙ্গন, জীব বৈচিত্র নিধন সহ পরিবেশের ভয়াবহ বিপর্যয় সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, টেকনাফের সেন্টমার্টিন, সুন্দরবন সহ দেশের ৭টি এলাকাকে পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করে ১৯৯৫ইং সালে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ইং পাস করেন। উক্ত আইন প্রনয়নের পর হইতে অবৈধভাবে শামুক ও ঝিনুক আহরণ কিছুটা বন্ধ ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটকের মৌসুমকে সামনে রেখে জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যাপক ভাবে শুরু হয়েছে একটি সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে শামুক ও ঝিনুক আহরণ করা। উক্ত সিন্ডিকেট রোহিঙ্গা শ্রমিকদের অগ্রিম টাকা দিয়ে শামুক ঝিনুক আহরণ পূর্বক ট্রাক, পিকআপ ও চান্দের গাড়ী সহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাচার করে যাচ্ছে এই সিন্ডিকেট। এভাবে শামুক ও ঝিনুক আহরণ অব্যাহত থাকলে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় সহ প্রাকৃতিক দূর্যোগের আশংকা রয়েছে বলে স্থানীয় সচেতন মহল ধারণা করেন।
শামুক ঝিনুক আহরণকারীদের টেকাতে গত ৮ আগস্ট উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন উপজেলার সচেতন পরিবেশবাদীদের পক্ষ থেকে জালিয়াপালং ইউনিয়নের চেংছড়ি এলাকার আহমদ হোসেন। আবেদনে জালিয়াপালং ইউনিয়ন এলাকার অছিয়র রহমানের পুত্র আব্দুল হাশেম ভুল, মাহামুদুল্লাহর পুত্র নুর মোহাম্মদ, মৃত মোহাম্মদ উল্লাহ মেম্বারের পুত্র বেলাল উদ্দিন, মোফাচ্ছের আহমদের পুত্র মাইনুল ইসলাম রুবেল ও বাচা মিয়ার পুত্র শামশুল আলম সহ ৮/১০ জনের একটি সিন্ডিকেট পরিবেশ সংরক্ষণ আইনকে তোয়াক্কা না করে স্থানীয় প্রভাব বিস্তার করে শামুক ঝিনুক পাচার করে যাচ্ছে। শুধু তাই নয় এই শামুক ও ঝিনুক ব্যবসার অন্তরালে লুকিয়ে আছে ইয়াবা ব্যবসা। তারা শামকু ও ঝিনুকের বস্তার ভেতর দিয়ে মরণনেশা ইয়াবা পাচার করে যাচ্ছে বলে অনেকে ধারণা করেন।
এদিকে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ছোট ছোট রোহিঙ্গা শিশু ও মহিলাদের দিয়ে শামুক ঝিনুক উত্তোলন করা হচ্ছে। তাদের কথা বলে জানা যায়, তারা পাচারকারীদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে নিয়মিত শামুক ঝিনুক আহরণ করে থাকে। পাচারকারী সিন্ডিকেটের বেলাল উদ্দিনের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কথা বলতে রাজি হননি। এভাবে শামকু ঝিনুক আহরণ চলতে থাকলে হুমকির সম্মুখীন হবে বলে এলাকার সচেতন ব্যক্তিরা জানান।
এব্যাপারে ইনানী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহীমের কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাচারকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাঠকের মতামত

 

২০ টনের বেশি বর্জ্য অপসারণ, স্থায়ী সমাধানে ডাম্পিং স্টেশন চায় বিডি ক্লিন উখিয়া

দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা আন্দোলনের অংশ হিসেবে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন উখিয়া টিমের উদ্যোগে ১৪তম পরিচ্ছন্নতা অভিযান ...

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিএনপি জনগণের সরকার, সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ...

রাজাপালং ভেঙে হচ্ছে ‘উয়ালাপালং’ ইউনিয়ন, গণশুনানির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়ন বিভক্ত করে ‘উয়ালাপালং’ নামে নতুন একটি ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে ...

টেকনাফে ইউনিয়ন বিভক্তি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি; নেতৃত্বের দ্বন্ধে বাড়বে জন ভোগান্তি

কক্সবাজারের টেকনাফে নতুনভাবে কয়েকটি ইউনিয়ন করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানাগেছে। নাগরিক সেবা ত্বরান্বিত করতে উপজেলার ...

কক্সবাজারে বন্যা কবলিত বন্ধুর খোঁজ নিতে যাচ্ছিলেন, পথে প্রাণ গেল বন্ধুর

কক্সবাজারের পেকুয়ায় বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত বন্ধুর খোঁজ নিতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মো. মানিক উদ্দিন নাহিদ ...

কক্সবাজারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে ইয়াবা পাচার, আটক ৩

মাদক পাচারে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে সন্দেহ এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল ...