প্রকাশিত: ০৮/০৫/২০২২ ৮:০৭ এএম , আপডেট: ০৮/০৫/২০২২ ৮:০৯ এএম

নিজস্ব প্রতিবেদক::
জীবিকার তাগিদে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলা, ডিসি সাহেবের বলী খেলাসহ বিভিন্ন বলী খেলায় একাধিকবার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা কক্সবাজারের উখিয়ার নুর মোহাম্মদ বলী। চার বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরলেও করোনার কারণে বলী খেলার আয়োজন না থাকায় দীর্ঘ সাত বছর ধরে মাঠে নামেননি এক সময়ের স্বনামধন্য এই কুস্তিগির।

অবশেষে দীর্ঘ ৩ বছর পর কক্সবাজারের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ডিসি সাহেবের বলী খেলার ৬৭ তম আসরে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তিনি। এই আসরে নুর মোহাম্মদ বলীর সাথে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন বাংলাদেশ কুস্তি ফেডারেশনের লিটন বিশ্বাস।

গতকাল শনিবার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনাল খেলায় প্রায় ১৮ মিনিট লড়াইয়ের পর কারও জয় নিশ্চিত না হওয়ায় বিচারকেরা তাঁদের যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেন।

এর আগে সেমিফাইনালে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জব্বারের বলী খেলায় শিরোপা জেতা চকরিয়ার জীবন বলীকে হারান নুর মোহাম্মদ বলী। তবে ফাইনাল খেলা শেষে নিজেকে একক চ্যাম্পিয়ন দাবি করেছেন নুর মোহাম্মদ। তাঁর দাবি, তিনি জীবন বলীসহ পরপর তিনজন বলীকে হারিয়েছেন। তাঁকে একক বিজয়ী না করে ঢাকা থেকে আসা অন্য একজন বলীর সাথে খেলানো হয়েছে।

নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘আমার সাথে অন্যায় হয়েছে। আমি পরপর তিনজনকে হারিয়েছি। একজন বলী কতক্ষণ একটানা লড়াই করতে পারে? আমার সাথে ফাইনালে যিনি খেলেছেন তাঁকে আগে কখনো দেখিনি। আমি তাঁকেও হারাতাম, কিন্তু সে আমাকে নিয়মভঙ্গ করে আহত করেছে।’

নুর মোহাম্মদ জানান, রমজান মাসে রোজা রাখার কারণে তিনি জব্বারের বলী খেলায় অংশ নিতে পারেননি। তবে আজ সেখানকার চ্যাম্পিয়ন জীবন বলীকে হারাতে পেরে তিনি খুশি।

যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হওয়া আরেক বলী লিটন বিশ্বাস বলেন, ‘সে (নুর মোহাম্মদ) যতটা ম্যাচ খেলেছে, আমিও ততটা ম্যাচ খেলে ফাইনালে এসেছি। ফাইনালে সে আমাকে আঘাত করেছে বারবার। তাঁকেও হারিয়ে দেওয়ার আত্মবিশ্বাস ছিল। কিন্তু সময়ের কারণে পারিনি।’

খেলা নিয়ে দুজন পরস্পর বিরোধী অভিযোগ করলেও পুরস্কার হিসেবে একটি ট্রফি নিয়েছেন এক সাথে।

আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, রীতি অনুযায়ী পরে আরেকটা ট্রফি বানিয়ে দেওয়া হবে। আজ যিনি নেবেন না তাঁকে ওই ট্রফি দেওয়া হবে।

এবারের আয়োজনে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশ কুস্তি ফেডারেশনের দুই নারী বলী। নারী ইভেন্টে বাংলাদেশ পুলিশের ফাতেমা বেগমকে পরাস্ত করে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে নেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রীতি রায়।

খেলা শেষে বিজয়ীদের মাঝে নগদ অর্থ ও ট্রফি তুলে দেন আয়োজনের পৃষ্ঠপোষক কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ। এর আগে সমাপনী দিনের খেলা উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

দুই দিনব্যাপী আয়োজিত ঐতিহাসিক এই আয়োজনের সমাপনী দিনে দুপুর থেকে ঢোল ও নানা বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে বিভিন্ন এলাকা থেকে স্টেডিয়ামে আসতে থাকেন হাজারো মানুষ। বিকেল গড়ানোর সাথে সাথে কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয় দর্শক গ্যালারি। এবারের বলী খেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রায় সাড়ে ৩০০ বলী অংশ নিয়েছেন

পাঠকের মতামত