প্রকাশিত: ০৯/০৫/২০১৯ ৩:২৮ পিএম

মাহাবুবুর রহমান :
কক্সবাজারকে যানজট মুক্ত করতে অবৈধ গাড়ী উচ্ছেদ এবং ফুটপাত দখল মুক্ত করা যেখানে সবার দাবী, সেখানে কক্সবাজার বিআরটিএ অফিস নতুন আরো প্রায় ৩ হাজার সিএনজি গাড়ীর লাইসেন্স দেওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে। মূলতঃ কর্মকর্তাদের পকেট ভারী করার জন্যই এই বিশেষ প্রকল্প বলে মনে করছেন সচেতন মহল। কারণ প্রতিটি সিএনজির লাইসেন্স দিতে সরকারি ফি ১২ হাজার টাকা হলেও অতীতে দেখা গেছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। তাই নতুন যোগদান করা বিআরটিএ অফিসের শীর্ষ কর্মকর্তার ইন্দনে বেশ কিছু সিএনজি গাড়ী বিক্রয়কারী প্রতিষ্টান এবং মালিক সমিতির নেতারা মিলে কক্সবাজারের যানজটকে তোয়অক্কা না করে নিজেরা প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করছে বলে জানা গেছে। সে লক্ষে আগামী শনিবার ১১ মে সরকারি বন্ধের দিনে বিআরটিসির বিশেষ সভার আহবান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার বিআরটিএ অফিস নতুন সহকারি পরিচালক যোগদান করার পর থেকে বিআরটিএ অফিসের সব কিছুতে রেইট ডাবল হয়ে গেছে। আগে সেখানে একটি শিক্ষানবীশ ড্রাইভিং লাইসেন্স ৫০০ টাকা দিলে করা যেত সেখানে গত কয়েক মাসের মধ্যে ১২০০ টাকা হয়ে গেছে। এছাড়া আগে সিএনজি রুট পারমিট নিতে ব্যাংকে ১১০৪ টাকা টাকা জমা দেওয়ার পরে অফিস খরচ ৫০০ টাকার মত দিলে খুশি মনে করে দিত। এখন ১৫০০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। মটর সাইকেল লাইসেন্স আগে ব্যাংকে ১২০৭৩ টাকা জমা দেওয়ার পরে অফিস খরচ অল্প দিতে হতো। এখন বাড়তি ২ হাজার নির্ধারণ করে দিয়েছে অফিস। মোট কথা সব কিছুতে এখন ডাবল টাকা গুনতে হচ্ছে সেবাপ্রার্থীদের। এছাড়া বর্তমান সহকারি পরিচালক উথোয়েন চৌধুরী সাধারণ মানুষের সাথে চরম খারাপ ব্যবহার করেন বলে জানান ভুক্তভোগীরা। এদিকে বিআরটিএর এই শীর্ষ কর্মকর্তার ইন্দনে বিশাল একটি অনিয়মের সুযোগ করে নিচ্ছে বলে জানা গেছে। সূত্রে জানা গেছে আগামী ১১ মে শনিবার সরকারি বন্ধের দিনে বিআরটিসির সভা আহবান করে সেখানে প্রায় ৩ হাজার সিএনজির লাইসেন্স অনুমোদন করিয়ে নেওয়ার পায়তারা করা হচ্ছে। জেলা বিআরটিএ অফিস সূত্রে জানা গেছে ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার সিএনজির লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে এর পরে আবারো প্রায় ৩ হাজার লাইসেন্স দেওয়ার কোন যুক্তিকতা আছে কিনা বা আদৌ প্রয়োজন আছে কিনা সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জেলার সচেতন মহল।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন বলেন,অতীতে আমরা দেখেছি সিএনজির লাইসেন্স দিতে গিয়ে বড় দূর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে সরকারি ভাবে ব্যাংক জমা দেওয়া হয়েছে ১২ হাজার টাকা তবে সিএনজি মালিকদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। তাই বর্তমানে সেই কৌশল অবলম্বন করে বিপুল টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্যই এই কাজে নেমেছে তারা
কক্সবাজার আইনজীবি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদকও এপিপি এড. জিয়া উদ্দিন আহামদ বলেন, পর্যটন নগরী হলেও রাস্তার আয়তন এবং বাস্তব অবস্থা মিলে একটি ঘিঞ্জি শহরে পরিনত হয়েছে কক্সবাজার। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তীব্র যানজটের মধ্যে পড়তে হয় কক্সবাজারবাসীকে তার উপর পর্যটন মৌসুমে বাইরের গাড়ী আসলে আরতো কথাই নেই পুরু শহর স্থবির হয়ে পড়ে। তাই প্রায় সময় রাস্তা থেকে অবৈধ গাড়ী চলাচল বন্ধ করা ফুটপাথ দখলমুক্ত করার মত সিদ্ধান্ত আসে বার বার। আমার মতে বর্তমানে যে গাড়ী আছে সেটা যথেষ্ট নতুন করে সিএনজি গাড়ীর লাইসেন্স দেওয়ার কোন যুক্তিকতা নেই।
কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সহ সভাপতি মমতাজ উদ্দিন বাহারী বলেন, প্রায় সময় যানজটের কথা আসলে টমটমের কথা উঠে আসে কিন্তু শহরে কয়েক হাজার সিএনজি বা অটোরিক্সার কথা উঠে খুব কম। সিএনজি খুব বেশি আছে বলেই যত্রতত্র তাদের গাড়ীর ষ্টেশন করতে হচ্ছে। আমার মতে কয়েক লাখ টাকা রাজস্বের জন্য জেলার লাখ লাখ মানুষকে কষ্ট দেওয়ার কোন মানে নেই। নতুন করে কোন গাড়ীন অনুমোদন দেওয়া মোটেও উচিত হবেনা।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে কেডিএম এন্টারপ্রাইজ, বাজাজ শোরুম, এমএস এন্টারপ্রাইজ এর কর্মকর্তা বর্তমান সহকারি পরিচালকের সাথে যোগসাজসে এই বিপুল পরিমান সিএনজি গাড়ী লাইসেন্স করিয়ে নেওয়ার পায়তারা করছে। তারা গোপনে চুক্তি করে প্রতি গাড়ী থেকে সরকারি ব্যাংক হিসাব বাদে বিপুল টাকা আত্মসাৎ করে কক্সবাজারবাসীকে ডুবানোর জন্য পায়তারা করছে। যদি নতুন করে আরো ৩ হাজার সিএনজি রাস্তায় নামানো হয় তাহলে রাস্তার অবস্থা খুবই করুন হবে এবং মানুষের দুর্ভোগের সীমা থাকে না।
৫ মে সকালে জেলা বিআরটিএ অফিসের সামনে তারাবনিয়ারছড়ার ইরফান নামের একজন জানান আমার লাইসেন্স নবায়ন করতে এসেছি আগে ব্যাংকের জন্য ২৭০০ টাকা ছাড়া ১০০০ টাকা বাড়তি দিলে সব কাজ উনারা করে দিত এখন সব মিলিয়ে ৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তারা বলছে নতুন কর্মকর্তা তাই ফিও বেশি।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার বিআরটিএ অফিসের কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার সিএনজির লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। তবে যানজট বাড়ার মূল কারন হচ্ছে টমটম কারন ২৫০০ টমটমের কথা বলে অন্তত ৭ হাজার টমটম চলে। আর সিএনজি সরকারকে রাজস্ব দিয়ে আসে তারা তাই সিএনজি লাইসেন্স পাওয়ার জন্য বৈধ। যদি সিএনজি লাইসেন্স না হয় তাহলে সরকার রাজস্ব পাবে কিভাবে। আর ১১ মের সভার জন্য এখনো দেড়শত মত আবেদন জমা পড়েছে মাত্র। তবে কমিটি চাইলে কয়েক হাজারের জন্য অনুমোদন দিতে পারে।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার বিআরটিএ কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক উথোয়েইন চৌধুরী বলেন, আমার অফিসে বাড়তি কোন টাকা নেওয়ার বিষয়ে আমার জানা নেই বরং আপনাদের কাছে এরকম কোন অভিযোগ থাকলে তাকে আমার কাছে নিয়ে আসেন। বাকি কোন বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। সুত্র ,দৈনিক কক্সবাজার

পাঠকের মতামত

‘ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন মির্জা আব্বাস, দেশে ফিরতে লাগবে আরও কিছুটা সময়’

মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের থেরাপি চিকিৎসা উন্নতির ...

প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে মালয়েশিয়ায় স্বামী, ক্ষোভে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিলেন দ্বিতীয় স্ত্রী

প্রথম স্ত্রীকে রেখে দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় ছিলেন রফিউদ্দিন। এরই মধ্যে তার প্রথম স্ত্রী অন্য এক ...

কক্সবাজার লাইট হাউস দারুল উলুম মাদ্রাসা ও জামে মসজিদ দখলের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

কক্সবাজার পৌরসভাধীন কলাতলি লাইট হাউজ এলাকাস্থ দারুল উলুম লাইট হাউস মাদ্রাসার পরিচালনা, মার্কেট ও মসজিদের ...

রামুতে সূর্যের হাসির চিকিৎসা ক্যাম্প উদ্বোধন করলেন এমপি লুৎফুর রহমান কাজল

কক্সবাজারের রামুতে অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ক্যাম্প পরিচালনা করেছে সূর্যের হাসি ক্লিনিক। ...
Single Page Footer