প্রকাশিত: ২৮/০৫/২০১৮ ৩:১৪ পিএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ২:২৩ এএম

ডেস্ক নিউজ : সরকার মানবিক কারণে ১০ লাখ রোহিঙ্গার দায়িত্ব নিতে পেরেছে, আর আমাদের দু’লাখ মা-বোনের দায়িত্ব নিতে পারবে না? কেন আমাদের ইজ্জত-সম্মান বিক্রি করতে সৌদি যেতে হবে?’ বাংলাদেশ সরকারের প্রতি এমন প্রশ্ন সৌদি আরব থেকে ফিরে আসা নারী গৃহকর্মী রেহানার (২২)।

গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরবে যাওয়ার মাত্র তিন মাস পর রোববার (২৭ মে) রাতে দেশে ফিরেছেন রেহেনা। দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রেহেনা জানান, ‘পলিথিনের ব্যাগে আনা সামান্য পরনের কাপড় ছাড়া সব দিয়ে এসেছি। এমন অসভ্য মালিকের বাসা আর যেন কোনো বাংলাদেশি নারী কাজ করতে না যায়।’

তিনি বলেন, ‘তিন মাসকে মনে হয়েছে তিন বছর। দেশের কোনো মানুষের চেহারা দেখি নাই। মালিকের নাম ছিল আব্দুল্লাহ। বাড়িতে স্ত্রী ও চার ছেলে নিয়ে থাকেন। বাসার সবাই সারাদিন বাড়িতে থাকলেও বিকেল হলে মালিক ছাড়া বাকিরা গাড়িতে করে বাইরে চলে যেত। ওই সময় মালিক একলা পেয়ে আমাকে হয়রানি করতো। বাধা দিলে মারধর।’

‘এভাবে তিন মাস নির্যাতনকে বুকে পাথর চাপা দিয়ে শুধু কেঁদেছি, আর দেশের মানুষ খুঁজেছি। একদিন আমার মালিকের এক বন্ধুর বাংলাদেশি গাড়ি চালক মনির আঙ্কেলের সঙ্গে দেখা হয়। তিনি একদিন ভোরে আমাকে বাংলাদেশ অ্যাম্বেসিতে দিয়ে আসেন, সেখানে হাসিনা নামের এক খালার সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনি আমাকে দেশে ফিরে আসার ব্যাপারে সহযোগিতা করেছেন।’ -বলেন রেহেনা।

তিনি আরও বলেন, ‘দেশ থেকে যাওয়ার সময় আমার কাছে বাংলাদেশি ৪শ’ টাকা ছিল। ওই টাকাটা নিয়েই ফিরেছি। ওই টাকা নিয়েই আজ হবিগঞ্জ যাচ্ছি।’

শুধু রেহেনাই নয়, গত কয়েক দিনে সৌদি আরব থেকে কয়েকশ’ নারী গৃহকর্মী দেশে ফিরে এসেছেন। তারা সবাই নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। গত শনিবার রাতেও সৌদি আরব থেকে ৪০ জন গৃহকর্মী দেশে ফিরে এসেছেন।

নির্যাতনের শিকার হয়ে নারীকর্মীরা দেশে ফিরে আসার ঘটনায় এক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নমিতা হালদার বলেন, ‘আমরা বিষয়টির প্রতি নজর রাখছি। বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কে আমাদের কর্মীরা তৎপর রয়েছেন।’

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) দেয়া তথ্য মতে, ২০১৭ সালে অভিবাসী নারীর সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ১৯ হাজার ৯২৫ জন। যা মোট অভিবাসন সংখ্যার ১৩ শতাংশ। ১৯৯১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত একা অভিবাসন প্রত্যাশী নারী শ্রমিককে অভিবাসনে বাধা দেয়া হলেও পরবর্তীতে ২০০৩ এবং ২০০৬ সালে কিছুটা শিথিল করা হয়।

২০০৪ সালের পর থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত নারী শ্রমিকের অভিবাসন হার ক্রমাগত বাড়তে থাকে। ২০১৫ সালে এ সংখ্যা দাঁড়ায় মোট অভিবাসনের ১৯ শতাংশ।

পাঠকের মতামত

টেকনাফের একরামুল হত্যা : সেনা হেফাজতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ

কক্সবাজারের টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তৎকালীন র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট ...

টেকনাফের একরামুলকে সরাসরি গুলি করেন কারা, জানালেন চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, কক্সবাজারের টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যাকাণ্ডে ...

ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাই করবেন থানা-উপজেলা নেতারা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের প্রতিটি স্তরে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী ...

সব বাধা পেরিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

দেশকে প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে জাতীয় অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা ...

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আসিয়ানের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

মিয়ানমারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট ...

বাংলাদেশ-চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে রোহিঙ্গা ও করিডোর নিয়ে আলোচনা

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ক‌রে‌ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তারা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, পরিবহন ...
Single Page Footer