প্রকাশিত: ২৫/০৫/২০১৭ ৯:৪৭ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৫:৩৭ পিএম

টেকনাফ প্রতিনিধি ::
‘ইয়াবা ব্যবসায়ীদের হয় ইয়াবা ছাড়তে হবে, নয় এলাকা ছাড়তে হবে। জঙ্গিরা যেমন মানুষ হত্যা করে ইয়াবা ও তিলে তিলে মানুষ হত্যা করে। ইয়াবা ব্যবসায়ীরা যত বড় ক্ষমতাধর, প্রভাবশালী ও গডফাদার হোক তাদের তথ্য দিন আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব’- ইয়াবা ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন পুলিশের আইজিপি একেএম শহীদুল হক। তিনি গতকাল ২৪ মে বুধবার বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা পুলিশ আয়োজিত মাদক ও জঙ্গিবাদ বিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন। তিনি আরো বলেন, বিশ্বে জঙ্গিবাদ নির্মূলে বাংলাদেশ আজ রোল মডেল হয়েছে। গতকালও ব্রিটেনের মতো আধুনিক দেশে অত্যাধুনিক ক্যামেরা থাকার পরও আইএস এর জঙ্গি হামলায় ২২ জন নিহত হয়েছে। অথচ আমরা সেখানে গুলশান এবং শোলাকিয়ার দুটি হামলা ছাড়া বাকি ২০টি জঙ্গি তৎপরতা বন্ধ করেছি। এটা সম্ভব হয়েছে জনগণের সচেতনতা ও দেশাত্মবোধের কারণে। আমরা আপনাদের পাশে থাকতে চাই, আপনাদের পাশে রাখতে চাই, মাদক জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে আপনাদের সহযোগিতা চাই।
মাদক নির্মূল প্রসঙ্গে পুলিশের আইজিপি বলেন, ইতিমধ্যে পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধেও মাদক ব্যবসায়ীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ৭০ জন নিহত হয়েছে। ইয়াবা প্রতিরোধে বন্দুকযুদ্ধে আরো মারা গেলে পুলিশ কোন দয়া দেখাবে না। তিনি পুলিশ ও আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, ইয়াবা ব্যবসায় প্রত্য ও পরোক্ষভাবে কেউ জড়িয়ে পড়লে শুধু চাকরিচ্যুত করা হবে না, মাদক আইনে মামলা করে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।
যেকোন ফরমেটের হুন্ডি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে ইয়াবা ব্যবসাও অনেকটা নিয়ন্ত্রণ হবে একজন বক্তার এমন বক্তব্যে আইজিপি হুন্ডি ব্যবসা বন্ধে স্থানীয় পুলিশকে তৎপরতা শুরুর নির্দেশ দেন।
সভায় বিশেষ অতিথি কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আলী হোসেন বলেন, মিয়ানমার আমাদেরকে জীবন নাশক মাদক দিচ্ছে আর আমরা দিচ্ছি জীবন র াকারী ওষুধ। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী টেকনাফ উখিয়াবাসীকে আরো বেশি সচেতন হতে হবে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মনির উজ্‌ জামান বলেন, কতিপয় ইয়াবা ব্যবসায়ীর কারণে গোটা এলাকার বদনাম ছড়িয়ে পড়েছে। কক্সবাজারের এই বদনাম গোছাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৬ মে কক্সবাজারের জনসভায় ইয়াবার বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর পুলিশ সদস্যরা আইনশৃংখলা রক্ষার পাশাপাশি ইয়াবা উদ্ধারে আরো তৎপর হয়। কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার ড.একেএম ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে এ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি এসএম মনির উজ্‌ জামান, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আলী হোসেন, কক্সবাজার জেলা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি এ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন, কক্সবাজার জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের কমান্ডার মোহাম্মদ শাহজাহান, টেকনাফ উপজেলা কমিউিনিটি পুলিশিংয়ের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম। পবিত্র কুরআন, গীতা ও ত্রিপিটক পাঠের মধ্য দিয়ে এ সমাবেশ শুরু হয়।
সমাবেশের আগে পুলিশের আইজিপি একেএম শহিদুল হক সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত টেকনাফ মডেল থানার নতুন ভবন ও দুপুরে টেকনাফের বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের নব নির্মিত ভবনের উদ্বোধন করেন।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল এসএম আরিফুল ইসলাম, উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদ, জেলা পরিষদ সদস্য শফিক মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল বশর, পৌর মেয়র হাজী মোহাম্মদ ইসলাম, সাবরাং ইউপি চেয়ারম্যান নুর হোসেন, নুর আহম্মদ, সদর ইউপি চেয়ারম্যান শাহজান মিয়া প্রমুখ।

পাঠকের মতামত

মিয়ানমারের আরেক গুরুত্বপূর্ণ শহর বিদ্রোহীদের দখলে

মিয়ানমারের বিদ্রোহীরা দেশটির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের দখল নিয়েছে। মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী তা’আং ...

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও দূরপাল্লার ট্রেন পটিয়া স্টেশনে যাত্রা বিরতির দাবি

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার ও দূরপাল্লার ট্রেন পটিয়া স্টেশনে যাত্রা বিরতিসহ বিভিন্ন দাবিতে রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিমকে স্মারকলিপি দিয়েছেন ...