প্রকাশিত: ০৩/০৭/২০২০ ৭:৩৬ এএম

করোনা সংক্রমণের মধ্যেই দেশে গত ৩১ মে থেকে সীমিত পরিসরে সবকিছু খুলে দেয়া হয়েছে। কিন্তু সীমিত পরিসরে সবকিছু খুলে দেয়া পর থেকেই অলিতে গলিতে এবং ফুটপাতসহ কোথাও সামাজিক দূরত্বের ছিটেফোঁটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। মানুষ সামাজিক দূরত্ব না মানার ক্ষেত্রে বেপরোয়া হয়ে উঠছে। গ্লাভস পরাতো দূরের কথা, এখন মাস্ক পর্যন্ত পড়তে অনীহা তাদের।

সড়কে চলছে যানজট, ফুটপাতে চলছে ধাক্কাধাক্কি, বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া হচ্ছে এবং বাজারগুলোতেও পড়ছে উপচে পড়া ভিড়! আর এসব দেখে অনেকেই বলছে, সীমিত পরিসরে সবকিছু খুলে দেয়া হলেও এখন আর কোনো কিছুই ‘সীমিত পরিসরে’ নেই।

অন্যদিকে কাঁচাবাজারগুলোতেও মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব। আর কাঁচাবাজার বা মাছের বাজারে সামাজিক দূরত্ব মানার প্রচারণাও চোখে পড়ে নাই।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় কাওরান বাজারের মাছের আড়তে দেখা গেছে যে, আড়তে প্রায় দুই শতাধিক মানুষ। একে অপরের সাথে ধাক্কা খাচ্ছে। কিন্তু কারো ভিতরেই করোনা সংক্রমণের ভয় লক্ষ্য করা যায়নি।

করোনা সংক্রমণের বিষয়ে জানতে চাইলে মাছ কিনতে আসা রফিকুল নামে এক ক্রেতা বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, বাজারে যত মানুষের সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছি, তার মধ্যে কোনো একজন যদি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন তাহলে নিশ্চিত আমিও আক্রান্ত হব। আর যত চেষ্টাই করি না কেন, দূরত্ব বজায় রেখে কিছুতেই চলা যাচ্ছে না। এত মানুষ মারা যাচ্ছে, তবুও কেন যেন আমাদের হুঁশ ফিরছে না।

এদিকে রাজধানীর মার্কেটগুলোর ভেতরে বা ট্রাফিক সিগন্যালের কিছু কিছু জায়গায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য রেকর্ড করা অডিও বাজানো হচ্ছে। কিন্তু কাঁচা বাজার বা মাছের বাজার এমন সব জায়গায় প্রচারণা চোখে পড়ছে না। আবার অনেক মার্কেটগুলোর ভেতরে বা ট্রাফিক সিগন্যালেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য প্রচারণা করতে দেখা যায়নি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে ফার্মগেটে বাসের অপেক্ষায় থাকা সোহেল রানা বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, মার্কেটগুলোতে কিংবা ট্রাফিক সিগন্যাল সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার প্রচারণা করলেও বেশি ফল পাওয়া যাবে না। কারণ এর জন্য আগে আমাকে সচেতন হতে হবে। আমি যদি সচেতন হই তাহলে অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা সম্ভব হবে।

ফার্মগেটের ওভারব্রিজের নিচে এক পোশাক বিক্রেতা সুলতান বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, করোনাকে ভয় করে কী করবো ভাই? দোকান না খুললে তো না খেয়ে মারা যাবো। তাই আর বসে থাকা সম্ভব না। আর কেউ যদি এখন দোকান তুলে দেয় তাহলে ভিক্ষা করা ছাড়া কোনো পথ নেই।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪ হাজার ১৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এক দিনে এই সংখ্যা সর্বোচ্চ। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৫৩ হাজার ২৭৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনায় মোট মারা গেছে ১ হাজার ৯২৬ জন।

প্রসঙ্গত, গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্তের ঘোষণা আসে। আর ১৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

পাঠকের মতামত

কক্সবাজারে পোষা বিড়ালকে পিটিয়ে ‘হত্যা’, বিচার চেয়ে থানায় মালিক

নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করা পোষা বিড়ালকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। ...

‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে কাজ করছে যুক্তরাজ্য’

বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মর্যাদার সঙ্গে ও স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ...

স্ত্রীকে দোতলা থেকে ফেলে দিয়ে নিজেও লাফ, ইনানী থেকে বেঁচে ফেরা মাসুদের বর্ণনা

কক্সবাজারের উখিয়ায় পাটুয়ার টেক সৈকতে কাঠের ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের হৃদয়বিদারক ঘটনায় একই পরিবারের ছয় ...

কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: নাসরিনের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল

কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের একজন সাভারের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষিকা নাসরিন ...