উখিয়া নিউজ ডটকম
প্রকাশিত: ২২/১১/২০২৪ ৩:০৪ পিএম

তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার::
কক্সবাজারের কুতুবদিয়া দ্বীপের গর্বিত সন্তান এ এম এম নাসির উদ্দীন ১৯৬৮ সালে এসএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা বোর্ডে মানবিক বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। সেই সময় তাঁর এ সাফল্যের খবর দ্বীপে পৌঁছেছিল দুদিন পর। বঙ্গোপসাগরের বুকে ভাসমান কুতুবদিয়া দ্বীপের এই মেধাবী সন্তান বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে তাঁকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কুতুবদিয়া দ্বীপে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়।

এমন আনন্দঘন মুহূর্তে দ্বীপবাসীর সঙ্গে পুরো কক্সবাজারের মানুষও আনন্দে মেতে ওঠেন। একজন নির্ভীক, নির্লোভ এবং মেধাবী ব্যক্তিকে এই পদে নিয়োগ দেওয়ায় দ্বীপের মানুষ আশাবাদী হয়ে উঠেছেন যে, এবার সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে।
কুতুবদিয়া দ্বীপের আলী আকবর ডেইলের কবি জসিম উদ্দিন হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমি আজ আনন্দে আত্মহারা। এ এম এম নাসির উদ্দীনের প্রয়াত বাবা তালেব উল্লাহ মাস্টার ছিলেন কুতুবদিয়া আদর্শ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক।

আর আমার বাবা মফিজুর রহমান ছিলেন সহকারী প্রধান শিক্ষক। তাদের বন্ধুত্বের কারণে আমার কাছে বহু স্মৃতি রয়েছে।’
তিনি আরও জানান, ১৯৬৮ সালে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা হলে খবরটি দ্বীপে পৌঁছায় দুদিন পর, যখন স্টিমার পত্রিকা নিয়ে দ্বীপে আসে। ফলাফল জানার পর শিক্ষার্থীদের নিয়ে বড়ঘোপ লঞ্চঘাটে গিয়ে নাসির উদ্দীনকে বরণ করে কাঁধে তুলে নিয়ে আসেন তাঁর বাবা।

নাসির উদ্দীন কুতুবদিয়া হাই স্কুল থেকে এসএসসি পাস করার পর চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে ভর্তি হন এবং পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে পড়ালেখা করেন। তিনি নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই বছর শিক্ষকতাও করেছেন।

কুতুবদিয়া আদর্শ হাই স্কুলের বর্তমান প্রধান শিক্ষক জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘একজন ত্যাগী শিক্ষকের মেধাবী সন্তান আ.ম.ম নাসির উদ্দীন। তিনি সততার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ একজন মানুষ। তাঁর নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের হারানো ঐতিহ্য কিছুটা হলেও ফিরবে বলে আমরা আশাবাদী।


নাসির উদ্দীনের ছোট ভাই এবং কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আ ন ম শহীদ উদ্দীন ছোটন জানান, তাঁদের পরিবারে ১০ ভাইবোন। মা-বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি তাঁরা কেউই ব্যক্তিগতভাবে ভোগ করেন না। সব সম্পদ বিক্রি করে গঠন করা হয়েছে ‘মাস্টার তালেব উল্লাহ-জান্নাত আরা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট’। এই ট্রাস্টের মাধ্যমে স্কুল, মসজিদ, হাফেজখানা এবং নুরানি একাডেমি পরিচালিত হচ্ছে।

মৌলভী পাড়ায় গড়ে তোলা হয়েছে ‘মাস্টার তালেব উল্লাহ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ’। এসব প্রতিষ্ঠান তাঁদের মা-বাবার আদর্শ এবং ত্যাগের প্রতীক হিসেবে সমাজের জন্য সেবা প্রদান করছে।

এমন একজন মেধাবী, সৎ এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ায় দ্বীপবাসী সহ পুরো দেশের মানুষের মধ্যে এক নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

পাঠকের মতামত

 

জাইকার অর্থায়নের ফিলেপ প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) অর্থায়িত ফিলেপ (ফরেন এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড লাইভলিহুড ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট) প্রকল্পের আওতায় ...

​পাহাড় কেটে মাটি পাচার করলেন জামায়াত নেতা, ঝুঁকিতে রোহিঙ্গাদের বসতি

সাম্প্রতিক সময়ে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনায় রোহিঙ্গাদের মাঝে যেখানে আতঙ্ক কাজ করছে, এমন ...

২০ টনের বেশি বর্জ্য অপসারণ, স্থায়ী সমাধানে ডাম্পিং স্টেশন চায় বিডি ক্লিন উখিয়া

দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা আন্দোলনের অংশ হিসেবে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন উখিয়া টিমের উদ্যোগে ১৪তম পরিচ্ছন্নতা অভিযান ...

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিএনপি জনগণের সরকার, সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ...

রাজাপালং ভেঙে হচ্ছে ‘উয়ালাপালং’ ইউনিয়ন, গণশুনানির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়ন বিভক্ত করে ‘উয়ালাপালং’ নামে নতুন একটি ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে ...

টেকনাফে ইউনিয়ন বিভক্তি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি; নেতৃত্বের দ্বন্ধে বাড়বে জন ভোগান্তি

কক্সবাজারের টেকনাফে নতুনভাবে কয়েকটি ইউনিয়ন করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানাগেছে। নাগরিক সেবা ত্বরান্বিত করতে উপজেলার ...