প্রকাশিত: ০৭/১১/২০১৬ ৮:০৫ এএম

235825kalerkantho-07-11-16-ns-03নিউজ ডেস্ক::

কক্সবাজারের রামু ও উখিয়ায় বৌদ্ধপল্লীতে সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছিল চার বছর আগে, ২০১২ সালে। ওই ঘটনায় ৪০০ ব্যক্তিকে আসামি করে দায়ের হওয়া ১৮ মামলার একটিরও বিচার শেষ হয়নি। ওই ঘটনার দ্রুত বিচার করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সাম্প্রতিক জঘন্য ঘটনা ঘটত না। এমন অভিমত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।

রামু ও উখিয়ার ওই জঘন্য হামলার ঘটনাটি ঘটেছিল ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম অবমাননাকর ছবি পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে। উত্তম নামের এক বৌদ্ধ যুবককে ওই ঘটনায় দায়ী করা হলেও পরে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন। বরং জামায়াতের ছাত্রসংগঠনের এক স্থানীয় কর্মী ওই ছবি প্রচার করে উসকানি ছড়ায় বলে অভিযোগ ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নাসিরনগরের ঘটনা তদন্ত করে বলেছে, রামু-উখিয়ার মতো নাসিরনগরেও ফেসবুকে ইসলাম অবমাননাকর ছবি প্রচারের ঘটনাটি একটি ষড়যন্ত্র।

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত কালের কণ্ঠকে বলেন, ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম অবমাননাকর ছবি প্রচারের অভিযোগে নাসিরনগরে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা অন্য অনেক ঘটনার ধারাবাহিকতা। এর আগে পাবনার সাঁথিয়া, দিনাজপুরের চিরিরবন্দর, সাতক্ষীরা, চট্টগ্রামের হাটহাজারী এবং কক্সবাজারের রামু, উখিয়া ও টেকনাফে এ রকম সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু অথবা বৌদ্ধদের দোষী করা হলেও বিভিন্ন তদন্তে উঠে এসেছে একটি চক্রের ষড়যন্ত্রের কথা। তারা ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে এসব ধর্ম অবমাননাকর ছবি প্রচার করে স্থানীয় মুসলমানদের উসকে দিচ্ছে। অথচ ওই চক্রের কাউকে এখন পর্যন্ত বিচারের আওতায় আনতে পারেনি সরকার। ফলে এ রকম ঘটনা ঘটেই চলেছে। এ রকম সাম্প্রদায়িক হামলা রোধে ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নের দাবি জানান তিনি।

কক্সবাজার জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক প্রিয়তোষ শর্মা কালের কণ্ঠকে বলেন, রামু, উখিয়া ও টেকনাফে ২০১২ সালে ফেসবুকের ছবিকে কেন্দ্র করে যে সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছিল তার বিচার চার বছরেও শেষ হয়নি। আর ষড়যন্ত্র করে যে ব্যক্তি ফেসবুকে ওই ছবি প্রচার করেছিল সরকারের পক্ষ থেকে তাকে খুঁজে বের করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে নাসিরনগরেও একই কায়দায় ও একই ধরনের অভিযোগে হামলা চালানোর সুযোগ নিয়েছে চক্রান্তকারীরা।

খাগড়াছড়ি সদরে ২০১৩ সালে ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম অবমাননাকর একটি ছবি পোস্ট করার জন্য বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে স্থানীয় মুসলমানরা। ওই ঘটনায় প্রাথমিকভাবে স্থানীয় এক হিন্দু যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশের সিআইডি বিভাগের তদন্তে উঠে আসে, ওই যুবক ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। যুবকটি ২৭ মাস কারাবন্দি থেকে তিন মাস আগে হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পান। একই ধরনের ঘটনা ঘটে গোপালগঞ্জে। ওই ঘটনায় এক হিন্দু যুবক গ্রেপ্তারের ৩২ মাস পর হাইকোর্ট থেকে জামিন পান গত আগস্ট মাসে। এই দুটি মামলার আইনজীবী ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল কালের কণ্ঠকে বলেন, পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসছে যে ওই সব যুবক ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। মূলত একটি চক্র দেশব্যাপী এসব ষড়যন্ত্র করছে। কারণ সব সাম্প্রদায়িক হামলার কারণ ও ধরন একই রকম।

রামু ও উখিয়ায় হামলার ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, যেটির এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, অনেকবার চেষ্টা করেও রিটটির শুনানি করা সম্ভব হয়নি। এখন যে অবস্থায় আছে, প্রধান বিচারপতি উদ্যোগ নিলে শুনানি করা সম্ভব। তিনি বলেন, ‘রামু-উখিয়ার ঘটনায় ১৯টি মামলা হলেও একটি মামলা তুলে নেওয়া হয়। এখনো ১৮টি মামলা বিচারাধীন। এসব মামলার মোট অভিযুক্ত আসামি ৩৮৪ জন। রামু-উখিয়ার ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি করেছিল। সেই কমিটির প্রতিবেদনে যাদের নাম এসেছে তারা অনেকেই অভিযুক্তদের তালিকায় নেই।’ তিনি বলেন, ‘১৮টি মামলার পাঁচটিতে পুলিশের তদন্ত সঠিক হয়নি বিবেচনায় আদালত অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেসব প্রতিবেদন আসার পর মামলাগুলো সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। দুটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। এসব মামলায় বেশির ভাগ সাক্ষীই সাক্ষ্য দিতে আদালতে আসছেন না। এমনও জানা গেছে, যাঁরা জানেন তাঁরাও বিভিন্ন কারণে মিথ্যা সাক্ষ্য দিচ্ছেন। সত্য কথা বললেই যে অপরাধীর শাস্তি হবে—স্থানীয়দের অনেকেই তা মনে করেন না। স্থানীয় চাপ তো আছেই।’

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘বিচার না হওয়ার সংস্কৃতির কারণে এসব সাম্প্রদায়িক হামলা ঠেকানো যাচ্ছে না। একটি মহল নানাভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের একটি অংশও এতে জড়িত।’ সব অপরাধীকে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের যারা জড়িত রয়েছে তাদের রাজনৈতিকভাবে শাস্তির আওতায় আনা এবং আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান তিনি।

সুত্র কালেরকন্ঠ

পাঠকের মতামত

সিভিল সার্জন কার্যালয়ে স্বাস্থ্য সহকারী পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে আটক ১

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় প্রক্সি দিয়ে উত্তীর্ণ হলেও মৌখিকে ধরা ...

গহীন পাহাড়ে কঠোর প্রশিক্ষণ, যা বললেন কুকি চিনের আকিম বম

বান্দরবানে পাহাড়ি সশস্ত্র সংগঠন কুকি–চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী শাখার বান্দরবান সদর ও ...

নাইক্ষ‌্যংছড়ি উপজেলা নির্বাচন বর্জনে জেলা বিএনপির লিফলেট বিতরণ

বান্দরবান জেলার আসন্ন নাইক্ষ‌্যংছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বর্জনে বান্দরবান জেলা বিএনপির দিনব‌্যাপি লিফলেট বিতরণ করা ...