প্রকাশিত: ২৮/০৮/২০১৭ ১০:১৫ পিএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ২:২৭ পিএম

১৯৯১ সালে মিয়ানমারের অং সান সু চি নোবেল পুরস্কার পান। তবে পুরস্কার পাওয়ার সময় তিনি দেশটিতে গৃহবন্দি হিসেবে ছিলেন। সু চি’র ছিল দীর্ঘদিন আন্দোলনের ইতিহাস। তবে তার আন্দোলন সহিংস ছিল না, যা নোবেল কমিটি উল্লেখ করেছে।

নোবেল দেওয়ার ৩ কারণ

নোবেল কমিটি তাদের বিবৃতিতে সু চিকে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার তিনটি কারণ উল্লেখ করেন। এগুলো তাদের বিবৃতিতেই উঠে এসেছে।

১৯৯১ সালে অং সান সু চিকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়ে নোবেল কমিটির প্রেস রিলিজে যা বলা হয়েছিল-

১. নরওয়ের নোবেল কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১৯৯১ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার অং সান সু চিকে (মিয়ানমার) দেওয়া হবে। এটি গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য তার অহিংস সংগ্রামের জন্য দেওয়া হচ্ছে।

২. তিনি নিপীড়নের বিরুদ্ধে একজন আদর্শ হিসেবে পরিণত হয়েছেন।

৩. ১৯৯১ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার পাশাপাশি নোবেল কমিটি অং সান সু চিকে সম্মান জানাতে চায় বিশ্বের বহু মানুষের গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম মানবাধিকার ও জাতিগত শান্তি বজায় রাখায় তার শান্তিপূর্ণ সমর্থন ও অবিরত প্রচেষ্টার জন্য।

নোবেল ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি

এখন মিয়ানমারের পরিস্থিতি পাল্টেছে।
সমালোচকরা বলছেন, যিনি বহু বছর ধরে নির্যাতিত মানুষের প্রতীক হিসেবে ছিলেন, তিনিই এখন ক্ষমতায়। আর তার সরকারই যখন রোহিঙ্গাদের নির্যাতন নিপীড়নের জন্য দায়ী তখন নিপীড়ক হিসেবে তার নামও চলে আসে।

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্মম নির্যাতনের কারণে ২০১৬ সালেই সু চির নোবেল শান্তি পুরস্কার ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি ওঠে। সে সময় অনলাইনে তার নোবেল শান্তি পুরস্কার ফিরিয়ে নেয়ার জন্য এক আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন লক্ষাধিক মানুষ। চেঞ্জ ডট অর্গে এই আবেদনটি করা হয়।

আবেদনে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক শান্তি এবং ভ্রাতৃত্ববোধ রক্ষায় যারা কাজ করেন, তাদেরকেই নোবেল শান্তি পুরস্কারের মতো সর্বোচ্চ পুরস্কার দেয়া হয়। সু চির মতো যারা এই পুরস্কার পান, তারা শেষ দিন পর্যন্ত এই মূল্যবোধ রক্ষা করবেন, এটাই আশা করা হয়। যখন একজন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী শান্তি রক্ষায় ব্যর্থ হন, তখন শান্তির স্বার্থেই নোবেল শান্তি পুরস্কার কমিটির উচিত এই পুরস্কার হয় জব্দ করা নয়তো ফিরিয়ে নেয়া। ’

সুচির জাতিবিদ্বেষী আচরণ

বিবিসির এক সাংবাদিক সু চির সাক্ষাৎকার নিতে গেলে সেখানে তিনি বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। মিশাল হোসেন নামে সাংবাদিককে দেয়া সেই সাক্ষাৎকারে আং সান সু চিকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের সঙ্গে মিয়ানমারের আচরণ নিয়ে অনেক অপ্রিয় এবং কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

২০১৩ সালে ওই সাক্ষাৎকারের পর সু চি মন্তব্য করেছিলেন, “ও (মিশাল হোসেন) যে একজন মুসলিম কেউ তো আগে আমাকে জানায়নি। ”

রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর মিয়ানমারে ধারাবাহিক নির্যাতনের ব্যাপারে অং সান সু চি তার নিশ্চুপ ভূমিকার কারণে সমালোচিত হয়েছেন। তিনি এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে এমন অনুরোধও জানিয়েছেন যেন রোহিঙ্গাদের এই নামে উল্লেখ করা না হয়।

সূত্র : নোবেল কমিটির বিবৃতি ও বিবিসি

পাঠকের মতামত

ইসরায়েলিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে মালদ্বীপ

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় আগ্রাসন চালানোর কারণে ইসরায়েলিদের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে মালদ্বীপ ...

মিয়ানমারে যুদ্ধে অংশ নিতে রোহিঙ্গাদের বাধ্য করছে সেনাবাহিনী

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার থেকে বাঁচতে রোহিঙ্গারা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। এখন সেই সেনাবাহিনীর পক্ষেই লড়তে রোহিঙ্গাদের ...