ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ১৬/০৮/২০২৬ ১০:১৭ এএম

ইমরান আল মাহমুদ •

কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের উখিয়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ কোর্টবাজার স্টেশনে যানজট নিরসন ও যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে সড়কে স্থাপন করা হয়েছে রোড ডিভাইডার। তবে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, যাত্রী ওঠানামা এবং সড়কের ওপর অব্যবস্থাপনার কারণে ডিভাইডার স্থাপনের সুফল মিলছে না। বরং দিনের ব্যস্ত সময়ে দীর্ঘ যানজটে নাকাল হচ্ছেন পথচারী ও যাত্রীরা।

সরেজমিনে কোর্টবাজার স্টেশনে দেখা যায়, ডিভাইডার স্থাপনের পর যানবাহন নির্দিষ্ট লেন মেনে চলাচলের চেষ্টা করছে। কিন্তু সড়কের দুই পাশে যত্রতত্র বাস, সিএনজি, অটোরিকশা, টমটমসহ বিভিন্ন যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকায় সড়কের কার্যকর অংশ সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ফলে ডিভাইডার মেনে চলা যানবাহনও মাঝপথে এসে ধীরগতির হয়ে পড়ছে এবং একপর্যায়ে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।

ব্যস্ত সময়ে কোর্টবাজার স্টেশনের যানজট আশপাশের এলাকায়ও প্রভাব ফেলছে। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ কাজে সময়মতো পৌঁছাতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে হাসপাতালগামী রোগী ও স্বজনদের জন্য এ ধরনের যানজট দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

স্থানীয় পথচারী জসিম উদ্দিন বলেন, “ডিভাইডার স্থাপন করায় প্রথম দিকে মনে হয়েছিল যানজট কমবে। কিন্তু সড়কের পাশে যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে আগের মতোই যানজট হচ্ছে। অনেক সময় কয়েক মিনিটের পথ যেতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে যেতে হলেও যানজটে আটকে থাকতে হয়।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে শুধু ডিভাইডার স্থাপন করলেই হবে না; ডিভাইডারের দুই পাশে অবৈধ পার্কিং বন্ধ, যাত্রী ওঠানামার নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ এবং নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। তা না হলে ডিভাইডার থাকলেও যানজট নিরসনে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।

একাধিকবার সতর্ক করার পরও সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, যানজট নিরসন ও সুশৃঙ্খলভাবে যানবাহন চলাচলের উদ্দেশ্যে ডিভাইডার স্থাপন করা হলেও সড়কের ওপর অব্যবস্থাপনা অব্যাহত থাকায় সেই উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। বরং নির্দিষ্ট লেনে চলাচল করতে গিয়ে যানবাহনগুলো অনেক সময় মাঝপথেই আটকা পড়ছে।

সচেতন মহলের দাবি, কোর্টবাজার স্টেশনে যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা চালু, সড়কের ওপর যত্রতত্র যানবাহন দাঁড় করানো বন্ধ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং নিয়মিত আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে।

বিষয়টি নিয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তারের নিকট জানতে চাইলে বলেন,”উচ্ছেদ কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য নির্দিষ্টভাবে ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োজিত করার অপেক্ষায় আছি। সেটা আমাকে হোক বা অন্য কেউ হোক ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ দিলে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

পাঠকের মতামত

প্রধানমন্ত্রীর হোটেল পরিচয়ে পর্যটককে হুমকি: সীগালের সেই ম্যানেজার কামরুল গ্রেফতার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হোটেল পরিচয়ে প্রতারণা ও পর্যটককে হুমকি দেয়ার ঘটনায় কক্সবাজারের তারকামানের হোটেল সীগালের ...

‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে’ ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার

বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে থাকা ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই ...

কক্সবাজারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রমজানের বদলে কারাভোগ করা সোনা মিয়া জামিনে মুক্ত

‘আয়নাবাজি’র শিকার নিরপরাধ দিনমজুর সোনা মিয়া অবশেষে কারামুক্ত হয়েছেন। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে কক্সবাজার জেলা ...
Single Page Footer