উখিয়া নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৪/১০/২০২২ ৭:১৮ এএম
মহেশখালীতে তোলপাড় : করিমের পরিবারে আহাজারি

মিয়ানমারে এক যুবককে বন্ধক রেখে আনা হল ৬০ হাজার ইয়াবা। বকেয়া টাকা পরিশোধ করলেই ফিরিয়ে দেবে ওই যুবককে। ইয়াবার মূল ব্যবসায়ি বকেয়া টাকা পরিশোধ না করায় মিয়ানমারে বন্ধক রাখা যুবককে প্রতিদিন নির্যাতন করছে শুনে তার পরিবারে শুরু হয়েছে আহাজারি। এমন অভিনব ইয়াবা ব্যবসার কথা শুনে হতভম্ব হয়ে পড়েছেন এলাকার মানুষ।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, মহেশখালীর হোয়ানকের পানিরছড়া গ্রামের বারঘর পাড়ার মৃত গুরামিয়ার পুত্র কালাবাশি দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত। সম্প্রতি সাগর পথে মিয়ানমারে গিয়ে বাকিতে ইয়াবা নিয়ে আসছেন প্রতিনিয়ত। টাকার নিশ্চয়তা হিসেবে বন্ধক রেখে আসছেন তার সহপাঠীকে। এভাবে কয়েকবার বন্ধক রেখে ইয়াবা এনে টাকা পরিশোধ করে আবার ছাড়িয়ে এনেছেন বন্ধক রাখা যুবককে।
ঠিক তারই ধারাবাহিকতায় গত দেড় মাস আগে কুতুবজুম ইউনিয়নের বটতলা গ্রামের কবির আহমদের পুত্র মোঃ করিম (২৪) কে বন্ধক রেখে ৬০ হাজার ইয়াবা নিয়ে মহেশখালী চলে আসেন কালাবাশি। দুই মাস অতিবাহিত হলেও বকেয়া টাকা পরিশোধ না করায় এখনো ছাড়া পায়নি মোঃ করিম। সম্প্রতি মিয়ানমারের ইয়াবা বিক্রেতারা মোঃ করিমকে বকেয়া টাকার জন্য নির্যাতন করার খবর আসলে তারা পরিবারে শুরু হয় আহাজারি।

স্থানীয় লোকজন জানায় গত ৪ মাস আগে পানিরছড়ার সাতঘর পাড়ার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে আবদু শুক্কুরকে বন্ধক রেখে ৫০ হাজার ইয়াবা এনেছিল কালাবাশি। আনেক শালিশ বিচারের পরে বকেয়া টাকা পরিশোধ করে তাকে ছাড়িয়ে এনেছে কালাবাশি। কুতুবজুম ইউনিয়নের শেফায়ত উল্লাহ এর ট্রলারে করে এই ইয়াবা ব্যবসা চলে আসছে দীর্ঘদিন। মানুষ বন্ধক রেখে বাকিতে ইয়াবা আনার খবরটি প্রকাশ হলে সর্বত্র তোলপাড় চলছে। স্থানীয় লোকজন জানান দীর্ঘদিন ধরে মানুষ বন্ধক রেখে ইয়াবার চালান নিয়ে আসলেও বিষয়টি গোপন ছিল। এ বিষয়টি প্রশাসনকেও অবহিত করা হয়েছে।
মূল ইয়াবা ব্যবসায়ি কালাবাশির সাথ মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে মানুষ বন্ধক রেখে ইয়াবা আনার বিষয়টি অস্বীকার করেন। মোঃ করিম কোথায় তিনি জানেন না। পরে তিনি মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন।
মোঃ করিমের মা জরিনা বেগম জানিয়েছেন, গত দুই মাস ধরে করিম নিখোঁজ রয়েছে। তার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল কালাবাশির। তারা কুতুবজুমের শেফায়াত উল্লাহ এর ট্রলারে করে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার কথা বলে বের হলেও কয়েকদিন পরে কালাবাশি ফিরে আসলেও করিম ফিরে আসেনি। সম্প্রতি কালাবাশির সাথে যোগাযোগ করলে সমস্যা হবে না বলে জানায়। কিছু টাকা জোগাড় হলেই সমস্যার সমাধান হবে বলে আমাদেরকে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য বলেন।
মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ প্রণব চৌধুরী বলেন, এমন একটি ঘটনার কথা শূনেছি। বিষয়টি আরো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রমাণ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সুত্র: দৈনিক কক্সবাজার

পাঠকের মতামত

সীমান্তে পরিবর্তন হতে পারে এসএসসির পরীক্ষাকেন্দ্র

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি বিবেচনায় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় অবস্থিত উখিয়া উপজেলার নিকটবর্তী ...

ঘুমধুম সীমান্তে অবিস্ফোরিত মর্টার শেল নিষ্ক্রিয়

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম-তুমব্রু সীমান্তের নোয়াপাড়া এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা অবিস্ফোরিত মর্টার শেল নিষ্ক্রিয় ...

আলজেরিয়ায় কুরআন প্রতিযোগিতায় তৃতীয় বাংলাদেশের বশির

আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত বিশ্ব কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশের কিশোর ...