প্রকাশিত: ২৮/১১/২০১৮ ৯:০৮ এএম

ডেস্ক রিপোর্ট :একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে সশস্ত্র  (সেনা, নৌ ও বিমান) বাহিনীর সদস্যরা ১০ দিন মাঠে থাকবে। ভোটগ্রহণের সাতদিন আগে আগামী ২৩ ডিসেম্বর থেকে তাদের মাঠে নামার কথা রয়েছে। ভোটের পরেও তারা দুইদিন মাঠে অবস্থান করবে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, ভোটে বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা দিতে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্বশস্ত্রবাহিনী কাজ করবে। আগামী ১৫ ডিসেম্বরের পর মাঠে নামবে সশস্ত্র বাহিনীর একটি ছোট টিম। তারা পুলিশ সদস্যদের নিয়ে নির্বাচনী এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি অবলোকন  (রেকি) করবে। তাদের প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে কতজন সদস্য মাঠে নামবে তা নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ১১দিন, পুলিশ ও র‌্যাব সাত দিন (মোতায়েনের পূর্বে দুইদিন ও প্রত্যাগমনের একদিনসহ), কোষ্টগার্ড সাত দিন ও আনসার সদস্যরা ছয়দিন নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবে।

সূত্র জানায়, নির্বাচনে ভোটের আগে ও পরে ১০ দিনের জন্য সশস্ত্র বাহিনীর নির্দিষ্ট সংখ্যক সদস্যরা মাঠে রাখার বিষয়ে কমিশনের নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। তাদের নামার আগে এ বাহিনীর কিছু সংখ্যক সদস্য মাঠ পর্যায়ে রেকি করবে। এবার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ভোটের সাতদিন আগে অর্থাৎ ২৩ ডিসেম্বর মাঠে নামবে। ভোটের দিন ৩০ ডিসেম্বর ও পরে আরও দুই দিন তারা মাঠে থাকবে।

সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে অতিরিক্ত সচিব মোঃ মোখলেসুর রহমান বলেন, ভোটের আগে ও পরে ১০ দিনের জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে মাঠে নামানোর বিষয়ে ইসির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তা চূড়ান্ত করা হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকের পর। সেই বৈঠকেই নির্বাচনে কত সংখ্যক সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের প্রয়োজন হবে, এবং কতদিনের জন্য মোতায়েন করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

জানা গেছে, এবারও ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার এর আওতায় সেনা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। তারা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবেন। এর আগে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনেও তাদেরকে একইভাবে মোতায়েন করেছিল ইসি। যদিও ২০০৮ সালে নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। ওই সময়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও) তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী অন্তর্ভূক্ত ছিল। পরে তা বাতিল করা হয়।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বিশেষ বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা জানান, ১৫ ডিসেম্বরের পর সশস্ত্র বাহিনীর একটি ছোট টিম নির্বাচনী এলাকায় যাবে। তারা পুলিশ সদস্যদের নিয়ে নির্বাচনী এলাকা রেকি করবেন। এসব টিমকে নিয়ে সমন্বয় করে পুলিশকে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর এই টিমের যাতায়াতের ব্যবস্থা পুলিশকে করে রাখতে হবে। অন্যান্য বাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেটদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে পুলিশকে নির্দেশনা জানান সিইসি।

দশম সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী ২০১৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ১৫ দিন মাঠে ছিল। তারা সাধারণ এলাকায় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মেট্রোপলিটন এলাকায় কমিশনারের অধীনে দায়িত্ব পালন করেন। ফৌজদারি বিধির আলোকে মোতায়েন করা সেনাবাহিনী ২০১৪ সালের নির্বাচনে মূলত স্ট্রাইকিং বা রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। ওই নির্বাচনে সারা দেশে প্রায় ৫০ হাজার সেনা সদস্য দায়িত্ব পালন করে। এক্ষেত্রে প্রতিটি জেলা একটি ব্যাটালিয়ন (৭৪০ সদস্য) ও প্রতিটি উপজেলায় এক প্লাটুন (৩৫ জন) সেনা সদস্য দায়িত্ব পালন করে।

পাঠকের মতামত

গুতেরেসের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক, রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু ইস্যুতে জোর

জাতিসংঘে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ইস্যু, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এবং বৈশ্বিক শান্তি ও ...

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ৫ দফারোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য সময়োপযোগী প্রস্তাবনা : শাহজাহান চৌধুরী

দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিপুল উপস্থিতির কারণে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে জনজীবনে নানা ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। ...

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘে তারেক রহমানের ৫ প্রস্তাব

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক ...

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্বকে আরও কঠোর হওয়ার বার্তা তারেক রহমানের

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ...

নবম পে স্কেলের বাইরে যারা

সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত কয়েক শ্রেণির কর্মচারী ও শ্রমিক নবম জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় আসছেন না। ...