ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ১৭/০৮/২০২৬ ১০:৫৮ এএম

স্কুলের হোস্টেলে ‘ভূতে ধরার’ গুজবে ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী হোস্টেল ছেড়ে চলে গেছে। ভারতের মহারাষ্ট্রের অমরাবতী জেলার একটি সরকারি আবাসিক স্কুলের হোস্টেলে এ ঘটনা ঘটে।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, মুম্বাই থেকে ৭০০ কিলোমিটারের দূরে ওই আবাসিক স্কুলটি আদিবাসী-অধ্যুষিত মেলঘাট এলাকায় অবস্থিত। স্কুলটিতে ৮১০ ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২২ জুলাই। ওই দিন চারজন ছাত্রী হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। তারা হঠাৎ কাঁদছিল আবার হাসছিল। এরপর তাদের ‘ভূতে ধরেছে’—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকজন ছাত্রী নূপুরের শব্দ শোনার দাবিও করে।

পরবর্তী কয়েক দিনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী হোস্টেল ছেড়ে চলে যায়। হোস্টেলটি মহারাষ্ট্রের আদিবাসী উন্নয়ন বিভাগের পরিচালনাধীন।

তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটি দল স্কুলটি পরিদর্শন করেছে। আদিবাসী উন্নয়ন বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষার্থীদের এসব উপসর্গের সঙ্গে অতিপ্রাকৃত কোনো কিছুর সম্পর্ক নেই। মানসিক চাপের কারণে বাছাই করা কিছু মানুষের মধ্যে হিস্টেরিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের তৈরি একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছাত্রীদের অস্বাভাবিক আচরণ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় কয়েকজন নারীর মধ্যেও একই ধরনের মানসিক উপসর্গ দেখা দেয়।

প্রতিবেদনটিতে স্থানীয়দের মধ্যে প্রচলিত কয়েকটি বিশ্বাসের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের ধারণা, ওই এলাকায় আগে একটি মহুয়া গাছ ছিল, যেখানে আত্মারা বাস করত। আশ্রম স্কুল কর্তৃপক্ষ গাছটি কেটে ফেলায় আত্মারা ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীদের বিরক্ত করছে—এমন বিশ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।

রাশিয়ার অধিকাংশ মানুষ ‘ভূতে’ বিশ্বাস করেন: সমীক্ষা
আরেকটি ধারণা হলো, স্কুলের পেছনে থাকা স্থানীয় দেবতার মন্দিরের জায়গায় স্কুলের পানি নিষ্কাশনের নালা চলে যাওয়ায় দেবতা অসন্তুষ্ট হয়েছেন। এ ছাড়া স্কুলের কাছের একটি মাঠে এক আদিবাসী তরুণের মৃত্যু হয়েছিল। তার আত্মাই ভূত হয়ে শিক্ষার্থীদের ভয় দেখাচ্ছে—এমন কথাও ছড়িয়ে পড়ে।

কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুসংস্কার, ভয়, মানসিক চাপ এবং স্থানীয়দের আত্মা-ভূতসংক্রান্ত বিশ্বাসের সম্মিলিত প্রভাবেই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্ধবিশ্বাস দূরীকরণে কাজ করা মহারাষ্ট্র অন্ধশ্রদ্ধা নির্মূলন সমিতির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করে কাউন্সেলিং করেছেন। তারা ঘটনাটিকে কুসংস্কারের পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার আহ্বান জানান।

অমরাবতীর সংসদ সদস্য বলবন্ত ওয়াংখাড়েও শিক্ষার্থীদের ভয় না পেয়ে আবার ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় চৌধুরী বলেন, ছাত্রীদের কাউন্সেলিং করে স্কুলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী ফিরে এসেছে।

পাঠকের মতামত

রোহিঙ্গাদের ‘রাখাইনের বাঙালি’ দাবি করে মিয়ানমারের বিবৃতি কী বার্তা দিচ্ছে

মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আবারও ‘বাঙালি’ দাবি করে নতুন একটি ...

বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বড় ঘোষণা মিয়ানমার সরকারের

বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে থাকা ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই ...
Single Page Footer