প্রকাশিত: ২০/০৯/২০১৬ ৭:৪৭ এএম

1ab630a13df23270d33ed8bf2ed5cdfc-57de156f15cc5উখিয়া নিউজ ডটকম::

‘দীর্ঘদিনের ইচ্ছে ছিল আকাশে উড়ার। সত্যি সত্যি উড়তে না পারলেও বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারে বসেই স্বপ্ন পূরণের সাধ নিচ্ছি। আর কোনও দিন বিমানে চড়তে না পারলেও কোনও আফসোস থাকবে না।’ এভাবেই ভাঙ্গা হেলিকপ্টারে চড়ে নিজেদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করছিলেন উখিয়া সমুদ্র উপকূলবর্তী সোনারপাড়া এলাকার চার দরিদ্র জেলে মো. হোসেন, ফজল করিম, ইলিয়াছ হোসেন ও আব্দুস সালাম।

চারজনেরই বাড়ি উখিয়া সমুদ্র উপকূলবর্তী সোনারপাড়া এলাকায়। পেশায় তাঁরা মৎস্যজীবী। বেশিরভাগ সময় কাটান সাগরে। সাগরপাড়ের এ চার যুবকের সাধ ছিল আকাশে উড়ার! কিন্তু সাধ থাকলেও সাধ্য ছিল না তাদের। তবে দুধের স্বাদ ঘোলে মিটিয়েছেন তারা। তাইতো উখিয়া উপকূলের চরপাড়া এলাকায় বিধ্বস্ত হওয়া হেলিকপ্টারে বসেই আকাশে উড়ার আনন্দ অনুভব তাদের।

গত শুক্রবার সকালে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে কক্সবাজারের ইনানী সৈকতের একটি হোটেলে নামিয়ে দিয়ে ফেরার পথে মেঘনা এভিয়েশনের ওই হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। এতে একজন নিহত ও চারজন আহত হয়। হেলিকপ্টারটি যেখানে বিধ্বস্ত হয়েছে তার থেকে সাত কিলোমিটার দূরে ওই চার যুবকের বাড়ি। দুর্ঘটনার প্রথম প্রত্যক্ষদর্শীও তারা। হেলিকপ্টারটি যখন বিধ্বস্ত হয়ে সাগরের হাঁটু পানিতে পড়ছিল তখন ঘটনাস্থল থেকে একটু দূরেই চিংড়ির পোনা আহরণ করছিলেন ওই চারজন। তারাই আহতদের উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনার পর থেকেই এখনও ঘটনাস্থলেই রয়েছেন তারা। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অনুরোধে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ দেখভাল করছেন ওই চারজন। একই সঙ্গে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারে বসেই দীর্ঘদিনের ‘স্বপ্ন’ পূরণ করছেন তারা। গতকাল সোমবার এই প্রতিবেদকের সাথে তাদের কথা হয়। তারা বলেন, জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে সাগরে মাছ ধরে। বিমানে চড়া তো দূরের কথা, জীবনে কখনও কাছ থেকে বিমান দেখার সুযোগ হয়নি। হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ায় দুঃখিত কিনা জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘নিজেদের ইচ্ছা পূরণ করতে পেরেছি এজন্য খুশি। তবে শাহ আলমের মৃত্যুতে দুঃখও পেয়েছি।’ দুর্ঘটনার পরপরই শাহ আলমকে বেল্ট কেটে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টার থেকে উদ্ধার করে তারাই হাসপাতালে পাঠিয়েছিলেন। চার যুবক বলেন, ‘হেলিকপ্টারে বসে থাকা মানে আকাশে উড়ছি আমরা। খুব মজা পাচ্ছি।’

ঘটনাস্থলে উপস্থিত মেঘনা এভিয়েশনের রক্ষণাবেক্ষণ কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম  বলেন, যুবক চারজন হেলিকপ্টারের দেখভাল করায় আমরা নিশ্চিন্তে রয়েছি। কারণ, উপকূলীয় অঞ্চল হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও তেমন ভালো নয়। ধারে কাছে নেই কোনও জনবসতি। বর্তমানে এসব তরুণদের সহযোগিতা পাচ্ছি। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় সবকিছু সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তা না হলে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারের অনেক কিছুই চুরি হয়ে যেতো। শুরু থেকে এসব তরুণরাই উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করেছেন।

পাঠকের মতামত

উখিয়ায় ৩ জনের সিন্ডিকেট দ্রব্যমূল্য বাড়াচ্ছে, প্রশাসনের নজরদারি নেই

উখিয়ায় নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী গুদামজাত করে রমজানে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পায়তারা করে যাচ্ছে কয়েকজন পাইকারি ...