প্রকাশিত: ১১/১২/২০১৬ ৭:০৮ এএম

এম.বশিরুল আলম,লামাঃ

লামা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের যোগসাজসে ফাসিঁয়াখালী ইউনিয়নে লাইল্যামার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিপ্লব মজুমদার ও কয়েকজন সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও দৈনিক হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর ও বেতন-ভাতা উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে।

সূত্রে জানা যায়, বেশ কয়েকবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিপ্লব মজুমদার বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামত (স্লিপ) করার জন্য বরাদ্ধকৃত অর্থ, পুরাতন বই বিক্রয় ও শিক্ষার্থীদের হতে অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায় করা অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছিলো কিন্তু উধ্বর্তন কর্তৃক পক্ষের কোন পদক্ষেপ দেখা মিলেনি। যার ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কাঠামো ব্যাপক ভাবে ভেঙ্গে পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়ম সম্পর্কে ক্লাস্টার কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার বিষয়টি জেনেও না জানার ভান করে রয়েছেন বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। এ বিষয়ের এলাকাবাসীর সাথে কথা বললে জানা যায়, শিপ্লব মজুমদার ২০১০ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে ওই প্রধান শিক্ষক কর্ম দিবসের অর্ধেকের বেশি দিন বিভিন্ন অযুহাতে বিদ্যালয়ে অনপস্থিত থাকেন এবং পরের দিন বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর নিশ্চিত করেন। আর ওই প্রধান শিক্ষকের অনিয়মের কারনে বিদ্যালয়ে কর্মরত কয়েক জন সহকারী শিক্ষকও ছুটি ছাড়া বাড়িতে চলে যায়। আর পরবর্তীতে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। প্রধান শিক্ষকসহ কয়েক জন সহকারী শিক্ষকদের অনিয়ম, ও স্বেচ্ছাচারিতার কারনে বিদ্যালয়ে কোমলমতি শিশুরা পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অনুপস্থিতি এবং মানসম্মত শিক্ষার অভাবে দিন দিন ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।

এ বিষয়ে শিপ্লব মজুমদার এর নিকট ফোনে জানতে চাইলে তিনি উদ্ধত স্বরে এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি কবে বিদ্যালয়ে আসব আর আসবো না , তা আপনাকে বলতে হবে? বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার ব্যাপারে তিনি আরও বলেন, আমি একদিন পর একদিন স্কুল করি, লিখিত ভাবে ছুটি নেওয়া না হলেও এ বিষয়ে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে ফোন করে ছুটি মঞ্জুর করি।

এ ব্যাপারে লামা উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আশিষ কুমার মহাজন-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, লাইল্যামার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিপ্লব মজুমদার বিদ্যালয়ে প্রতিমাসে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার কারনে তার বেতন বন্ধ রয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

পাঠকের মতামত