প্রকাশিত: ১১/০৫/২০১৬ ৯:২৭ পিএম

bidআতিকুর রহমান মানিক::

দ্বীপ উপজেলা  মহেশখালীতে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হচ্ছে কয়লাচালিত আরো একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ১৩২০ মেগাওয়াটের বৃহৎ এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানে মালয়েশিয়ার সঙ্গে যৌথ মূলধনী কোম্পানী গঠন করতে যাচ্ছে বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি )। যৌথ মূলধনী কোম্পানি গঠনে মন্ত্রিসভার অনুমোদন চেয়েছে বিদ্যুত বিভাগ।
মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি তেনেগা ন্যাশনাল বারহেড এবং পাওয়ারটেক বারহেড সমন্বয়ে গঠিত কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে পিডিবির এই চুক্তি হতে যাচ্ছে। ওই কোম্পানিটি মহেশখালী প্রস্তাবিত বিদ্যুত হাবে কেন্দ্রটি নির্মাণ করবে।  এতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সমান অংশীদারিত্ব থাকবে।
বিদ্যুত বিভাগেরর দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এর আগে তেনেগা এবং পাওয়ারটেকের মধ্যে একটি জেভিএ স্বাক্ষর হয়। স্বাক্ষরিত জেভিএ অনুমোদনের জন্য উপ- সচিব মোঃ শওকত আলী স্বাক্ষরিত প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় গত রবিবার পাঠানো হয়েছে। শীঘ্রই মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হবে। সরকারের অনুমোদন পেলে দ্রুত চুক্তি স্বাক্ষর করে কার্যক্রম চালানো হবে। যৌথ উদ্যোগে রাষ্ট্রীয় কোম্পানির বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের তৃতীয় উদ্যোগ এটি। এছাড়াও পায়রায় নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এবং রামরালে পিডিবি ভারতের সঙ্গে আরও একটি বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের জন্য যৌথ মূলধনী কোম্পানি গঠন করছে। এর মধ্যে পায়রায় বিদ্যুত কেন্দ্রটি নির্মাণ শুরু হয়েছে। আর রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ চুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। শীঘ্রই চুক্তিটি স্বাক্ষর হবে।
পিডিবির একজন কর্মকর্তা জানান,  আগের দুটি কোম্পানির মতোই হবে এ কোম্পানিটি। বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়ার সমানসংখ্যক সদস্য পরিচালনা পর্ষদে থাকবেন। কোম্পানির চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদে দুই দেশের প্রতিনিধি ভাগাভাগি করে দায়িত্ব পালন করবেন। সমঝোতার আলোকে গঠিত যৌথ মূলধনী কোম্পানি বিদ্যুত কেন্দ্রটি নির্মাণের জন্য অর্থায়ন এবং দরপত্র আহ্বান করবে। সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুত কেন্দ্রটি নির্মাণ করবে।
রামপালের বিষয়ে পরিবেশবাদীদের আপত্তি থাকলেও মহেশখালীতে এখনও কোন আপত্তি তোলেনি। বিদ্যুত বিভাগ সম্প্রতি ওই এলাকায় জমি অধিগ্রহণ করছে। এছাড়া মহেশখালী দ্বীপ সংলগ্ন সাগরের খাড়িতে ৫০ হাজার টন ধারন ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাবাহী জাহাজ প্রবেশ করার মতো গভীরতা থাকায় সেখানেই বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে কয়লা পরিবহনজনিত খরচ কম পড়বে। মহেশখালীতে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির জন্য একটি বড় বিদ্যুত কেন্দ্র, আমদানীকৃত কয়লা খালাসের বন্দর এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যেই প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। জাইকা এখানে অর্থায়ন করছে।
মহেশখালীর সম্ভাব্যতা জরিপে বলা হয়েছে, প্রতিটি ২৪০ মিটার দীর্ঘ মাদার ভ্যাসেল (জাহাজে) করে কয়লা আনা হবে, যার ধারণক্ষমতা ৮০ হাজার মেট্রিক টন। এসব জাহাজ ভিড়তে সমুদ্রে ১৩ মিটার পানির গভীরতা থাকতে হবে। এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত কেন্দ্রের জন্য বছরে ৫৩ বার কয়লা আনার প্রয়োজন হবে।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকায় ১০ হাজার মেগাওয়াটের বিদ্যুত উৎপাদন অঞ্চল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সবগুলো বিদ্যুত কেন্দ্র হবে ‘ মেগা সাইজ ’ প্রকল্প। বিদ্যুত কেন্দ্রগুলো আমদানি করা কয়লা দিয়ে চলবে। সরকার দীর্ঘমেয়াদী বিদ্যুত উৎপাদন পরিকল্পনা করছে তাতে এসব প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারের পাওয়ার সিস্টেম মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান জাইকাই চট্টগ্রাম এলাকার বিদ্যুত প্রকল্পের সম্ভাবত্যা যাচাই করছে।
বিদ্যুত বিভাগ সূত্র জানায়, ২০১১ সালের ১৭ অক্টোবর বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার চট্টগ্রামে ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্রে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন। এর আগে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর প্রেরিত এক বিশেষ দূত বাংলাদেশ সফর করে বিদ্যুত – জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন। ওই আলোচনার সূত্র ধরে তেনেগা প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ সফর করেন। দেশের পিডিবি এবং বিদ্যুত বিভাগের কর্মকর্তারা মালয়েশিয়া সফর করে বিদ্যুত খাতে বিনিয়োগ এবং যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা করেন, যার প্রেক্ষিতে ২০১২ সালে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে তেনেগা এবং পাওয়ারটেক। এবার যৌথ মূলধনী কোম্পানি গঠন করে বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বিদ্যুতের সহজলভ্যতা নিশ্চিত হলে মহেশখালীতে বহুমাত্রিক শিল্পায়নের উজ্জল সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে  সামুদ্রিক মৎস্য ও চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরন কারখানা, লবন পরিশোধন কারখানা, সার ও সিমেন্ট কারখানা, জাহাজ নির্মান শিল্প এবং অয়েল ও গ্যাস রিফাইনারীসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানা গড়ে উঠতে পারে মহেশখালীতে। এমনটি হলে আন্তর্জাতিক ব্লু-মেরিন ইকোনমির কেন্দ্রভুমি হবে মহেশখালী। এখানে শিল্পায়নের অপার  সম্ভাব্যতার ফলে উদ্যোক্তারা  মহেশখালীতে শিল্পকারখানা স্হাপনের জন্য এখন খোঁজখবর নিচ্ছেন। সদর উপজেলার ইসলামপুর শিল্প এলাকায় অবস্হিত হীরা ভ্যাকুয়াম ইভাপোরেশন সল্ট ইন্ডাষ্ট্রীজ লিঃ’র ব্যবস্হাপনা পরিচালক মোঃ তৈয়ব জানান, রপ্তানীমুখী ও আন্তর্জাতিকমানের অটোমেটিক অত্যাধুনিক লবন কারখানা স্হাপনের জন্য মহেশখালীতে স্হান নির্বাচন করা হচ্ছে। উপযুক্ত জায়গা পেলে কারখানার আবকাঠামো নির্মান ও মেশিনারীজ স্হাপনকাজ শুরু করা হবে।

পাঠকের মতামত

মিয়ানমারের আরেক গুরুত্বপূর্ণ শহর বিদ্রোহীদের দখলে

মিয়ানমারের বিদ্রোহীরা দেশটির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের দখল নিয়েছে। মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী তা’আং ...

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও দূরপাল্লার ট্রেন পটিয়া স্টেশনে যাত্রা বিরতির দাবি

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার ও দূরপাল্লার ট্রেন পটিয়া স্টেশনে যাত্রা বিরতিসহ বিভিন্ন দাবিতে রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিমকে স্মারকলিপি দিয়েছেন ...