প্রকাশিত: ১০/১১/২০১৭ ৮:০৪ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ১১:২২ এএম

উখিয়া নিউজ ডেস্ক::

মং জার্নিমিয়ানমারের মানবাধিকারকর্মী মং জার্নি বলেছেন, প্রায় চার দশকজুড়ে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ‘দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমাধানে’ বাংলাদেশের নীতিগত অবস্থান ও পদক্ষেপ ‘পুরোপুরি ব্যর্থ’ হয়েছে। কারণ, মিয়ানমার যেখানে বাংলাদেশকে শত্রু গণ্য করে আসছে, সেখানে ‘সুপ্রতিবেশীসুলভ’ দৃষ্টিভঙ্গির কৌশল কাজে আসেনি।

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ-মিয়ানমার আলোচনা সম্পর্কে জানতে চাইলে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে প্রথম আলোসহ দুটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপচারিতায় মং জার্নি এ মন্তব্য করেন। রাখাইনে রোহিঙ্গা নিপীড়নের বিরুদ্ধে সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়ায় যে গণ-আদালত বসেছিল, তাতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন মং জার্নি। সেখানে তিনি বলেছিলেন, রাখাইনে মন্থর গণহত্যা চলছে।

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফরে এসে মং জার্নি রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেখতে কক্সবাজার ঘুরে এসেছেন। আড়াই দিনের কক্সবাজার সফরের সময় কয়েক শ রোহিঙ্গার সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। বিভিন্ন বয়সের ২০ জন রোহিঙ্গার সাক্ষাৎকার নিয়ে তিনি রাখাইনের এবারের নৃশংসতার বৃত্তান্ত শুনেছেন।

রোহিঙ্গা সংকটের মতো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধানে দ্বিপক্ষীয় পদক্ষেপের বিষয়ে মং জার্নি বলেন, ১৯৭৮ সালের পর থেকে ১৯৯১, ২০১২, ২০১৬ ও ২০১৭ সাল—এই পাঁচ দফায় বিপুল সংখ্যায় রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। গতবারের ঢলের আগে পর্যন্ত বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমস্যার সমাধান চেয়েছে। কখনো মিয়ানমারকে দোষারোপ করতে চায়নি। মিয়ানমারের দাবি মেনে নিয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ ‘রোহিঙ্গা’ বলেনি। বাংলাদেশ লিখিত কিংবা মৌখিকভাবে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করলে মিয়ানমার লিখিতভাবে এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, সেখানে রোহিঙ্গা নামে কোনো জনগোষ্ঠী নেই। ৩০ বছর ধরেই বাংলাদেশ শান্ত রাখার চেষ্টা করে এসেছে মিয়ানমারকে। আর মিয়ানমারকে শান্ত রাখার এই কৌশল শেষ পর্যন্ত ব্যর্থই হয়েছে। মিয়ানমার প্রতিবারই ভেবেছে, যখনই রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন হবে, প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে যাওয়া এসব রোহিঙ্গাকে চট্টগ্রামে আশ্রয় দেওয়া হবে। আর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও অব্যাহত রাখতে থাকবে বাংলাদেশ। সমুদ্রসীমার বিরোধ নিষ্পত্তির মতো রোহিঙ্গা নির্যাতনের জন্য মিয়ানমারকে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আদালতে নেবে না।

মং জার্নি বলেন, ‘সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে মিয়ানমারকে আস্থায় নিয়ে সমস্যার সমাধানের কৌশল নিয়েছিল বাংলাদেশ। মিয়ানমার বিশেষ করে দেশটির সামরিক বাহিনী বাংলাদেশকে শত্রু বিবেচনা করেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা সমস্যা দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমাধানের কৌশলটা “পুরোপুরি ব্যর্থ”। এটা বড় ব্যর্থতা।’

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনকে গণহত্যা ছাড়া অন্য নামে আখ্যায়িত করতে রাজি নন মিয়ানমারের মানবাধিকারের এই প্রবক্তা। তাঁর ভাষায়, আবর্জনা পরিষ্কার করা যায়, মানুষ নয়। রাখাইনে যা হয়েছে সেটা গণহত্যা। কাজেই রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযানকে জাতিগত নির্মূলের অভিযান বলে তাদের অপমানিত করার শামিল।

নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা জাতিসংঘকে দুর্বল করেছে বলে মনে করেন মং জার্নি। তাঁর মতে, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আগ্রহী দেশগুলোর জোট একটি বিকল্প হতে পারে। এই দেশগুলো মিলে রাখাইনে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি বেসামরিক অঞ্চল গঠন করতে পারে। বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গে ওই অঞ্চলের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের সুযোগ থাকবে।

রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির মনোভাব জানতে চাইলে মং জার্নি বলেন, মিয়ানমারের সমাজে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে, তার প্রবক্তা সেনাবাহিনী। রোহিঙ্গাবিরোধী মনোভাব ছড়িয়ে দিতে তাদের দোসর হয়েছে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা। একজন বর্মি হিসেবে সু চিও একই পথের পথিক। সু চি, সেনাবাহিনী আর ভিক্ষু—সবাই একই তরণির যাত্রী।সুত্র” প্রথম আলো

পাঠকের মতামত

সেনাবাহিনীর প্রধান হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। আগামী ২৩ জুন তিনি সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব ...